ঢাকা লিট ফেস্ট উৎসব

আগের সংবাদ

বিমানবন্দরে আড়াই কেজি স্বর্ণসহ তিন যাত্রী আটক

পরের সংবাদ

খেলাপি ঋণ কমানোর অদ্ভুত প্রস্তাব এবিবির

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৮, ২০১৯ , ৩:১৭ অপরাহ্ণ

পাহাড়সম খেলাপি ঋণে জর্জরিত ব্যাংকিং খাত। বর্তমান অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ছাড়-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। অথচ এরপরও আদায় হচ্ছে না ঋণের অর্থ। এ অবস্থায় আবার নতুন করে আবদার করছে ব্যাংকগুলো। অর্থাৎ আদায় না করেই খাতা-কলমে খেলাপি ঋণ কমানোর প্রস্তাব করেছে ব্যাংকগুলো। ঋণখেলাপি হলেই তা সঙ্গে সঙ্গে অবলোপন করার যে প্রস্তাব ব্যাংকের এমডিরা দিয়েছেন তা বিবেচনা করার আশ্বাসও দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

বর্তমানে ব্যাংকের ব্যালান্সশিট থেকে খেলাপি ঋণ বাদ দিতে অবলোপন নীতিমালা অনুসারে কমপক্ষে ৩ বছর আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ যে কোনো খেলাপি ঋণ অন্তত তিন বছর হিসাবে দেখাতে বাধ্য ব্যাংকগুলো। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে কাগজ-কলমে খেলাপি ঋণ কমলেও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে ব্যাংক খাত। গতকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সংগঠন এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপদেষ্টা এসকে সুর চৌধুরী, ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান ও আহমেদ জামাল, এবিবি প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল অবলোপন নীতিমালা শিথিল করা। বর্তমান নীতিমালার আলোকে খেলাপি ঋণের মেয়াদ কমপক্ষে ৩ বছর না হলে তা অবলোপন করা যায় না। এবিবি সময়সীমা উঠিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করেন। এতে পাহাড়সম খেলাপি ঋণ কমানো সম্ভব হবে। তাদের প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলে গভর্নর আশ্বস্ত করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এবিবির কোনো প্রতিনিধি বৈঠক নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।

এ ছাড়া বৈঠকে ব্যাংকের সিকিউরিটি সার্ভিসেস, অবশোর ব্যাংকিং নীতিমালা সংশোধন, স্ট্যাম্প ডিউটি, ব্যাংকে শ্রম আইন প্রয়োগ, ইন্টারন্যাল ক্রেটিড রিস্ক রেটিং (আইসিআরআর) গাইডল্যাইন্স সংশোধন এবং পরিবর্তনের জন্য তাদের দাবি তুলে ধরেন। এ ছাড়া হোমলোনের সীমা বাড়ানো এবং ঋণখেলাপি ও প্রভিশনিং নীতিমালা পরিবর্তনের দাবিও জানানো হয় এবিবির পক্ষ থেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার কমানো এবং খেলাপি ঋণ আদায় বৃদ্ধির নির্দেশনা দেয়া হয় বলে জানা গেছে।