বিদেশিদের নজরদারির মধ্যে আনা অত্যন্ত জরুরি

আগের সংবাদ

ইলিয়াস কাঞ্চন ও একদল ছাত্রের অবদান

পরের সংবাদ

এগিয়ে নিতে হবে স্কুল ব্যাংকিং

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৮, ২০১৯ , ৯:০৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০১৯, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

ছাত্রজীবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এ সময় চরিত্র, ব্যক্তিত্ব এবং মানসিকতা গড়ে তোলার সময়। এ সময় থেকেই সঞ্চয় মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যেই স্কুল ব্যাংকিং ধারণাটি এসেছে। যেখানে শিক্ষার্থীরা অতি ক্ষুদ্র অংশও জমা রাখতে পারে। এট একটা মনোভাব যা তার ভবিষ্যতের মিতব্যয়িতা এবং সঞ্চয়ের মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করে। ছোটবেলা থেকে গড়ে ওঠা সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি বড় হলে তাকে মিতব্যয়ী হতে সাহায্য করে। সে অপচয় করতে ঘৃণা করে এবং সর্বদা পরিমিত ব্যয় করতে শেখে। বাংলাদেশে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম বেশ সফলভাবেই এগিয়ে চলেছে। সম্প্রতি এক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় এসেছে ২০ লাখ শিক্ষার্থী। এবং অ্যাকাউন্টে রয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। ক্রমেই আমাদের দেশে স্কুল ব্যাংকিংয়ে ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ বাড়ছে। এর অর্থ যে, ছাত্রছাত্রীদের জীবনের শুরু থেকেই সঞ্চয় এবং মিতব্যয়িতার মনোভাব গড়ে উঠছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী চলতি বছরের জুন শেষে স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৩০টি। গত এক বছরে হিসাব বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ১৯৪টি। স্কুল ব্যাংকিং সেবাকে জনপ্রিয় করতে ব্যাংকগুলো নানা উদ্যোগ নিয়েছে। স্কুল ব্যাংকিং হলো সঞ্চয়ের শুরু। এখান থেকেই একজন শিখতে পারে সঞ্চয়ের গুরুত্ব। ফলে এই কার্যক্রমকে আরো জোরদার করতে হবে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এই কার্যক্রমে ছাত্রছাত্রীদের স্কুল ব্যাংকিংয়ে উৎসাহিত করতে হবে। এই সঞ্চয় নিজের সঙ্গে সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
সঞ্চয়ের সঙ্গে সঙ্গে মিতব্যয়িতা ধারণাটিও অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ। মিতব্যয়িতা হলো পরিমিত ব্যয়ের অভ্যাস। একদিকে ভবিষ্যতের জন্য জমা রাখা অন্যদিকে মিতব্যয়ী হওয়া- এই দুইয়ে মিলে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে। ব্যয় শব্দটি আয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। যার যতটুকু আয় তার সেভাবেই ব্যয় করা উচিত। অর্থাৎ আয় বুঝে ব্যয় কর। প্রকৃতপক্ষে প্রত্যেকেরই তার আয় বুঝেই ব্যয় করার অভ্যাস করা উচিত। এ ছাড়া সংসারে সঞ্চয় সম্ভব হয় না। অতিরিক্ত ব্যয় কোনো সংসারের জন্যই মঙ্গলজনক নয়। এটা আমাদের ধর্ম ও গুরুজনরা সবাই বলে থাকে। যেটুকু ব্যয় করলে সংসার পরিচালনা করা সম্ভব সেটুকু ব্যয় করে বাকিটুকু সঞ্চয় করাই মিতব্যয়িতা। অনেক সময় মিতব্যয়িতাকে কৃপণতার সঙ্গে তুলনা করা হয়। অবশ্য সমাজের সেই সব লোক এটা বলে যারা নিজেদের অপরিমিত ব্যয়কারীর কাতারে দাঁড় করায়। কিন্তু এ ধারণা ভুল। কৃপণতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কৃপণতা হলো প্রয়োজনের সময়ও খরচ না করা আর মিতব্যয়িতা হলো প্রয়োজনের সময় প্রয়োজনীয় অংশটুকুই শুধু খরচ করা। সঞ্চয় মানে হলো ভবিষ্যতের জন্য জমা রাখা। কথায় বলে অপচয় করো না অভাব হবে না। অথবা ইংরেজি গ্রামারে মুখস্ত করা সেভ ফর এ রেইনি ডে অর্থাৎ দুর্দিনের জন্য সঞ্চয় কর ইত্যাদি নানা কথা প্রচলিত আছে। এ কথাগুলো এমনি এমনি প্রচলিত হয়নি। যা কিছু সমাজের জন্য মঙ্গলজনক তাই ধীরে ধীরে সমাজে প্রতিষ্ঠা পায়। বলা যায় আমাদের প্রয়োজনের তাগিদেই সেগুলো আমরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত করি। প্রতিদিনের এই সঞ্চয় একসময় বৃদ্ধি পেয়ে অনেক হতো। দেখা যেত দুর্দিনের সময় সেই জোগানো চাল সবার কাজে লাগছে। আবার দেখা যায় সে পরিবারেই আড়ম্বরকারী কেউ একজন রয়েছে। ফলে পরিবারের সন্তানদের একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গঠন করার জন্য পরিবার থেকেই উৎসাহ দিতে হবে।

অলোক আচার্য : পাবনা