উলিপুর খাদ্যগুদামে ২২ দিনেও দায়িত্ব পাননি নতুন কর্মকর্তা

আগের সংবাদ

গলায় ফাঁস দিয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রের আত্মহত্যা

পরের সংবাদ

আগামীর তারকা ফারজানা

খেলা প্রতিবেদক :

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৮, ২০১৯ , ১:০০ অপরাহ্ণ

চারদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেটে জয়ের সুবাস বইছে। ৩ নভেম্বর ভারতের মাটিতে তাদের প্রথমবার হারিয়েছে মুশফিক-রিয়াদরা। অন্যদিকে ৪ নভেম্বর পাকিস্তানের মাটিতে তাদের হারিয়েছে টাইগ্রেসরা। লাহোরে পাকিস্তান বধে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন ব্যাটসম্যান ফারজানা হক। ক্রিকেটে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও প্রমাণ করছেন নিজেদের যোগ্যতা। যার ব্যাটে জয়ের পথ সুগম হয়েছে সেই ডানহাতি ব্যাটসম্যান ফারজানা হক পিঙ্কি ১৯৯৩ সালের ১৯ মার্চ গাইবান্ধায় জন্মগ্রহণ করেন। আয়ারল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের বিপক্ষে ২০১১ সালের ২৬ নভেম্বর একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। আর টি-টোয়েন্টি অভিষেক ২০১২ সালের ২৮ আগস্ট ওই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেই। সবসময় তিনি ৯৯ নম্বর জার্সি ব্যবহার করে থাকেন। ৩৭ ওয়ানডেতে ২১.৫২ গড়ে ফারজানার সংগ্রহ ৭৩২ রান এবং ৬২ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৮৩৯ রানের মালিক ফারজানা জাতীয় দলের অন্যতম ব্যাটিং স্তম্ভ।

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে উত্তেজনাকর এক ম্যাচ উপভোগ করেছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক বল ও এক উইকেট হাতে রেখে জিতেছে টাইগ্রেসরা। এ জয়ে দলকে জিতিয়ে শুধু ম্যাচ সেরাই নন, সিরিজ সেরাও হয়েছেন ফারজানা হক।

২১১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দলীয় ২৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় উইকেটে ওপেনার মুরশিদা খাতুনকে নিয়ে ৮২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন ফারজানা হক। ৪৪ রান করে মুরশিদা আউট হন। চতুর্থ উইকেটে ফারজানা গড়েন আরেকটি জুটি। ৫৭ রানের এ জুটিতে তার সঙ্গী ছিলেন রুমানা। দলীয় ১৬৬ রানে ৩১ রান করে রুমানা আউট হলে ৯৭ বলে ছয়টি চার হাঁকিয়ে ৬৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন ফারজানা। তিনি আউট হওয়ার পর ১৮ রানের ব্যবধানে চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ২০৫ রানে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন পান্না ঘোষ, তখন পরাজয়ের শঙ্কা ঘিরে ধরেছিল সফরকারীদের। তবে জাহানারা ৭ ও নাহিদা ৪ রানে অপরাজিত থেকে বিজয়ীর বেশেই মাঠ ছাড়েন।

২০১০ সালে চীনের গুয়াংচুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় চীন জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের বিপক্ষে রৌপ্য পদক লাভ করে। ফারজানা ওই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট নারী দলের অন্যতম একজন সদস্য ছিলেন। তখন থেকেই ফারজানা জাতীয় দলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড় হিসেবে খেলে যাচ্ছেন।

পুরুষ দলের পাশাপাশি নারী দলও বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুরুষ দল না পারলেও সেখানে লাল-সবুজের পতাকাকে বিশ^ দরবারে উঁচু করে তুলে ধরছে নারী দল। যেমন, গত বছর ভারতকে হারিয়ে দেশকে এশিয়া কাপের প্রথম শিরোপা এনে দিয়েছেন তারা। এদের মধ্যে দিন দিন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে আইকন হয়ে উঠছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগেও নিজের অবস্থান তৈরি করছেন গাইবান্ধার মেয়ে ফারজানা। আইসিসির তৈরি দলের হয়েও খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সেখানে সঙ্গী হিসেবে ছিলেন সতীর্থ জাহানারা আলমকে। দুজনেই ৮ বছর ধরে জাতীয় দলে খেলছেন। উভয়ের ক্যারিয়ারে নতুন অর্জন আইসিসি ডেভেলপমেন্ট দলে অন্তর্ভুক্তি।

পিংকির বাড়ি গাইবান্ধা শহরের একোয়াস্টেট পাড়ায়। তার বাবার নাম মো. আব্দুল হক ও মা নার্গিস বেগম। পিংকি তিন ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বড় ভাই নাইফ হোসেন স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দাখিল পাস করে গাইবান্ধা শহরের স্টেশন রোডের তার বাবার ছোট্ট কসমেটিকস ব্যবসা দেখাশোনা করেন। ছোট ভাই নাফসিন হোসেন সদর উপজেলা মডেল স্কুল ও কলেজে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। প্রথমে ল’ কলেজ কিন্ডারগার্টেনে প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করার পর জেলা শহরের আসাদুজ্জামান স্কুল ও কলেজে ভর্তি হন। সেখানে ৭ম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে শাহ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়ামে ক্রিকেট কোচ বাবলু খানের হাত ধরে ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর বাবলু খানের অধীনে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে সেরা খেলোয়াড় বাছাইয়ের জন্য জেলাভিত্তিক বিকেএসপি থেকে গাইবান্ধা জেলা ক্রীড়া সংস্থায় চিঠি আসে। সে চিঠির জবাবে পিংকির নাম পাঠানো হয়। তারপর পিংকিকে বিকেএসপি থেকে মনোনীত করা হয়। বিকেএসপিতে পিংকি পুনরায় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নেয়ার পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যান।