কনসার্টে ফিরছেন অর্ণব

আগের সংবাদ

জীবিত খোকাকে সরকার দেশে ঢুকতে দেয়নি: ফখরুল

পরের সংবাদ

দ্বিদলীয় বৃত্তের বাইরে তৃতীয় পক্ষ কই!

হালে পানি পাচ্ছে না বামরা

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৭, ২০১৯ , ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০১৯, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ

Avatar

বাংলাদেশে বামপন্থি রাজনীতি এখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের জাঁতাকলে পিষ্ট। বামেরা আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেলেও জনসমর্থনের পালে ততটা হাওয়া নেই। জোটবদ্ধ হয়েও তারা জনসম্পৃক্ততা অর্জন করতে পারছেন না। বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্বিদলীয় বৃত্তের বাইরে গ্রহণযোগ্য তৃতীয় শক্তি গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন বাম রাজনীতিকরা।

আওয়ামী লীগের আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তার মধ্যে ১৯৭০ সালে ন্যাপের পক্ষ থেকে কুঁড়েঘর মার্কা নিয়ে এমপি হন প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনিই পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের প্রথম বামপন্থি সাংসদ। এরপরে ১৯৮৬ সালে বামেরা সরাসরি ৫টি আসন পান, পরে একজন স্বতন্ত্র এমপি বাম দলে যোগ দেন। এরপরে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পরে ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বাম দলগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ৫টি আসন দখল করে। পরবর্তীতে ৯৬, ২০০১, ২০০৯, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বামপন্থিরা একটি আসনেও বিজয়ী হতে পারেনি। যদিও ২০১৪ সালে তারা নির্বাচন বর্জন করে এবং ২০১৮ সালে ৭১ জন প্রার্থী ছিল তাদের। সব প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তবে জনস্বার্থের বিভিন্ন ইস্যুতে বাম দলগুলো বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির ন্যূনতম ভ‚মিকা পালন করছে।

এরপরও বাম রাজনীতিতে জনসমর্থন না থাকার কারণ সম্পর্কে সিপিবির একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্যের মতে, ভোট এখন ধনীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি রাজনীতিকের চেয়ে ব্যবসায়ীদের বেশি মনোনয়ন দেয়। আর মনোনয়ন পেয়েই তারা ভোট কিনে। ভোট লুট করে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। ফলে জনগণও মনে করেন, নির্বাচন মানে হয় আওয়ামী লীগ নয় বিএনপি। ভোটাররাও ভোট দিতে উৎসাহ হারাচ্ছেন।

তাছাড়া, নির্বাচনে প্রার্থী হতে জামানত দিয়ে হয় ৩০-৫০ হাজার টাকা। আর ভোটে খরচ হয় কয়েক কোটি টাকা। সে কারণে সাধারণ মানুষ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। তবে সারাদেশে সিপিবি বা বামদের জেলাভিত্তিক কমিটি রয়েছে। বর্তমানে সিপিবির ১ হাজার শাখা আছে। ১ লাখ নথিভুক্ত সদস্য এবং লাখ লাখ সহযোগী সদস্য আছে। দিনে দিনে তাদের সমর্থন বাড়ছে বলে মনে করেন তারা।

সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য অনিরুদ্ধ দাস অঞ্জন বলেন, পাকিস্তান আমলে কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ছিল। ইলা মিত্রের মতো নেতাকে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। তখন মনে করা হতো কমিউনিস্ট মানে নাস্তিক, দল করলে ধরপাকড় হতো, যার ফলে ন্যাপসহ নানা নামে কমিউনিস্টরা ভাগ হয়ে রাজনীতি করতে থাকেন। তার পরে ‘৯৩ তে সিপিবিতে বড় ধরনের ঝড় বয়ে যায়। দলের সভাপতি সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক, সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নাহিদসহ একগুচ্ছ নেতা দলত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তখন সিপিবি টিকে থাকবে এমন অবস্থা ছিল না। তারপরেও বর্তমানে দলের শক্তি বাড়ছে। এ বিষয়ে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বাংলাদেশ এখন দ্বিদলীয় মেরুকরণের মধ্যে রয়েছে। আসলে এরা দুটি একই পক্ষ।

দুদলই ক্ষমতার ব্যবহার করে লুটপাট চালায়। এদের জাঁতাকলে জনগণ পিষ্ট। এদের বিকল্প হিসেবে আমরা বামপন্থিরা জোট তৈরি করছি। মানুষ এখন আর এদের পাশে থাকতে চায় না। মানুষ এখন ব্যাপক সচেতন হয়ে উঠেছে। তারা বুঝেছে- ফুটন্ত কড়াই থেকে বাঁচার জন্য জ¦লন্ত আগুনে ঝাঁপ দিয়ে কোনো লাভ নেই। তারা এখন শক্তিশালী দৃশ্যমান বিকল্প চায়। তিনি বলেন, জনগণ আমাদের মতাদর্শকে সমর্থন করে। কিন্তু তারা আমাদের সম্পূর্ণভাবে সমর্থনের শক্তি পাচ্ছে না। তারা বলছে আপনারা শক্তিশালী হন, আমরা আসব। আমরা বলছি আপনারা আসেন তাহলে তো আমরা শক্তিশালী হয়ে যাব। এখন বাম জোটের কৃষ্ণপক্ষ চলছে।

তিনি বলেন, ‘৯০ এর দশকে বৈশ্বিক কমিউনিজমবাদের একটা ধস নামে। সোভিয়েত রাশিয়াসহ বিশ্বে একটা কমিউনিজম বিপর্যয় নেমে আসে। কিন্তু এখন চিত্রটা তার উল্টো। এখন মানুষ তাকিয়ে আছে আমেরিকান নির্বাচনে সমাজতান্ত্রিকদের দিকে। সেখানে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী হয়ে উঠছে বামপন্থি নেতা বার্নি স্যান্ডার্স। ইংল্যান্ডে লেবার পার্টির নেতা জেমিনির করবিন একটা প্রতিষ্ঠিত ও বহুদিন ধরে তিনি সমাজতন্ত্রের দৃঢ় সমর্থক। ‘৯১ এর নির্বাচনের পর সিপিবি আর কোনো সাংসদ না পাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটার দুটো কারণ রয়েছে। প্রথমত এখন আর নির্বাচন হয় না। এখন নির্বাচন একেবারেই প্রহসন। এরশাদের পতনের পরে শাসক শ্রেণি পলিটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যম দ্বিদলীয় মেরুকরণভিত্তিক নির্বাচনের মাধ্যমে তারা লুটপাটতন্ত্র চালিয়ে যাবার পাঁয়তারা করছে।

তিনি বলেন, দেশকে বাঁচাতে অবশ্যই বামের দিকে ঝুঁকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ পরিচালনা করতে হবে। তাহলে জনগণের শাসন কায়েম করা হবে। গণজাগরণ মঞ্চ, কোটা আন্দোলন, নারী শিশু নির্যাতন আন্দোলন তারই আভাস বয়ে আনছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।