সাময়িকী

হরি দিনতো গেল, সন্ধ্যা হলো পার করো আমারে

আগের সংবাদ

সাহিত্য সংস্কৃতির প্রকৃত সাধক

পরের সংবাদ

স্যার আমার দিকনির্দেশক

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৭, ২০১৯ , ৮:১৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০১৯, ৮:১৪ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীকে প্রথম দেখি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সময়টা ছিল ষাটের দশকের মধ্যভাগ। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স নিয়ে। কলাভবনের চত্বরে দাঁড়িয়ে দেখতাম স্যারের ক্লাসে যাওয়া কিংবা ক্লাস থেকে বেরিয়ে আসা। দেখতাম ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষটি প্রবল আত্মপ্রত্যয়ে গম্ভীর মুখে হেঁটে যাচ্ছেন। আমাদের ভীষণ পছন্দের শিক্ষক ছিলেন তিনি। আমি তার সরাসরি ছাত্র নই, ক্লাসও করিনি, শুধু তাঁর কথা শুনে এবং দূরে দাঁড়িয়ে দেখেই শ্রদ্ধায় আমার মতো অনেক শিক্ষার্থীর মাথা নত হয়ে যেত।
স্যারকে দেখার আগে স্যারের সম্পর্কে শুনতাম আমার বড়ভাই আবু সৈয়দ গোলাম দস্তগীরের কাছে। আমার ভাই ছিলেন স্যারের সরাসরি ছাত্র। সে সময়ে কবিতা লিখতেন। কখনো স্যারকে দেখাতেন। স্যার তাকে উৎসাহ দিতেন। স্যারের উৎসাহ পেয়ে উজ্জ্বল চেহারা নিয়ে বাড়ি ফিরে সবাইকে বলতেন, দেখো এই কবিতাটা ভালো হয়েছে বলেছেন স্যার। তারপর আমাদের পড়ে শোনাতেন। আমরা হাঁ করে তাকিয়ে শুনতাম। ১৯৬২ সালে স্যার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের হেড ছিলেন। সে সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃকলেজ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। বাংলা স্বরচিত কবিতার বিচারক ছিলেন স্যার। আমার ভাইয়ের কবিতা ‘জার্নাল ১৯৬২’ প্রথম পুরস্কার লাভ করে। শুধু কবিতায় নয়, অন্যান্য বিষয়েও পুরস্কার পেয়ে বড়ভাই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। বাড়িতে খুশির বন্যা বয়ে যায়। স্যার এবং মুস্তাফা নূরউল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো ‘পূর্বমেঘ’ সাহিত্য পত্রিকা। সেই পত্রিকায় স্যার আমার ভাইয়ের কবিতাটি ছেপে দিয়েছিলেন। একজন তরুণ কবিকে উপস্থিতভাবে অনুপ্রাণিত করেছিলেন স্যার।
পূর্বমেঘ সে সময়ে খুব আলোচিত এবং প্রশংসিত পত্রিকা ছিল। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তখন স্বপ্ন ছিল, স্যার যদি আমার একটি লেখা ছাপতেন। না, ছাপা হয়নি। তাই বলে স্যারকে কেন্দ্র করে আমার শ্রদ্ধার ঘোর কাটেনি কখনো। তা এই সময় পর্যন্তও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে স্যার নানাভাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকতেন। স্যার যুক্ত থাকা মানেই তা ছিল আমাদের জন্য আনন্দের এবং একজন শিক্ষকের আদর্শে নিজেকে তৈরি করার চেষ্টাও। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকই সেই সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বিষয়ে যেমন নজর রাখতেন, তেমনি পাঠ-বহির্ভূত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করাকেও জরুরি মনে করতেন।
মনে পড়ছে ১৯৬৬ সালে স্যার তখনকার জিন্নাহ হলে প্রভোস্ট ছিলেন। হলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুধু হয়েছে। পুরস্কার বিতরণীর দিন একটি নাটক মঞ্চস্থ হবে। একদিন স্যার আমাকে ডেকে বললেন, তোমাকে এই নাটকে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করতে হবে। আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আমি নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। স্যার বলেন, কী হলো, চুপ হয়ে গেলে যে? আমার মাথার ভেতর ঘূর্ণন। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রতিযোগিতায় পরপর দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। বিতর্ক, আবৃত্তি ইত্যাদি আমার প্রিয় বিষয়। তাই বলে অভিনয়? তার ওপর খাটো, শুকনো-একটুকু মানুষ! মাথার মধ্যে দ্রুত চিন্তা ছুটে যায়। মুখ ফুটে বলতে পারি না যে, আমাকে দিয়ে হবে না স্যার। স্যার এক মুহূর্ত তাকিয়ে বলেন, ঠিক আছে। এখন যাও।
আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচি। পরদিন ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই না। তার পরদিনও না। বিকেলে আব্বা অফিস থেকে ফিরে বললেন, ইউনিভার্সিটিতে যাওনি? প্রফেসর সিদ্দিকী তোমার বিরুদ্ধে নালিশ দিয়েছেন। তুমি নাকি তার কথা শুনছো না। বেয়াদবি করছ কেন?
আমি মিনমিন করে বলি, বেয়াদবি তো করিনি।
কথা না শোনার মানে কী?
আমি চুপ করে থাকি। বাবার রাগী চেহারার সামনে আমি অভিনয় করব এ কথা বলার সাহস হলো না। যথারীতি আমাকে রিহার্সেলে হাজির হতে হলো। নাটকের অন্য শিল্পীরা ধরে নিয়ে গেল আমাকে। বলল, স্যার কোনো কথা শুনবেন না। যেতেই হবে।
গেলাম। রিহার্সেলে মাঝে মাঝে স্যার উপস্থিত থাকতেন। নির্দিষ্ট দিনে নাটক মঞ্চস্থ হলো। কী করেছি, না করেছি তার চিন্তা আমি করতে পারিনি। স্যার হেসে বললেন, ভালো করেছ। যেমন চেয়েছিলাম তেমনটি পেরেছ।
স্যারের প্রত্যাশার কাছে উৎরে গেছি ভাবতেই আমার আনন্দের সীমা ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে স্যার হয়তো ভেবেছিলেন জায়গাটা আমি কতটা বুঝতে পারি তার পরীক্ষা নিতে হবে। এখন মনে হয় তিনি আমাকে তৈরি করতে চেয়েছিলেন। শিক্ষকের দায় থেকে আমার পরিসর বাড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এখনকার দিনে নাটকের নায়িকার সৌন্দর্যের যে প্রথাগত ধারণা তাকে তিনি উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর কাছে প্রধান ছিল সাংস্কৃতিক কর্মীদের ধরে রাখার বিষয়টি। সংস্কৃতি বিপন্ন হলে জাতিসত্তার কতখানি যে নষ্ট হয়, এ সত্য স্যারের মতো মানুষেরা পরিমাপ করবে না তো আর কে করবে? এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের তৈরি করেছিলেন শিক্ষকরা। পাকিস্তান আমলের পুরোটা সময়ে ছাত্রছাত্রীদের জাতিসত্তা বোঝার স্বরূপটি নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন তারা। ফলে ঊনসত্তরের গণআন্দোলন এবং তারপর মুক্তিযুদ্ধ। এবং স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ। আমরা সময়টা ভুলি না এবং তার নির্মাতাদেরও।

দুই.
স্যারের সঙ্গে আর একটি উল্লেখযোগ্য কাজ করার সুযোগ হয়েছিল আমার বাংলা একাডেমিতে চাকরির সূত্রে। সেটি হলো English-Bengali Dictionary প্রণয়ন ও প্রকাশনা।
১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল অভিধান প্রণয়ন এবং প্রকাশনার দিকে। ১৯৫৮ সালের প্রথম দিকে আরম্ভ হয় ‘আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’-এর কাজ। নানা ধরনের অভিধান প্রকাশের পরিকল্পনা বাংলা একাডেমিতে চলতে থাকে। বেশ কয়েকটি অভিধান প্রকাশিত হয়। ১৯৮২ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হয়ে আসেন মনজুরে মওলা। তিনি বেশ কয়েকটি অভিধান প্রণয়ন ও প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন। তার একটি ছিল ইংরেজি-বাংলা অভিধান। এই অভিধান ১৯৮৫-৯০ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হয়। নানা কারণে এই অভিধানের কাজ শুরু হতে সময় লাগে। ২১.৫.৮৭ তারিখে বাংলা একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় প্রফেসর জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীকে সম্পাদক নিযুক্ত করা হয়। ঠিক হয় তার সঙ্গে আরো নয়জন অধ্যাপক সংকলনের কাজ করবেন।
ততদিনে মহাপরিচালক মনজুরে মওলা বদলি হয়ে চলে গেছেন। নতুন মহাপরিচালক হয়ে এসেছেন ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। আমি সে সময়ে সংকলন উপবিভাগের উপপরিচালক ছিলাম। এই উপবিভাগ থেকে অভিধানের কাজ পরিচালিত হতো। কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তের পরে ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল অভিধানের কাজ করার ব্যাপারে ঠিক করে দেন যে প্রতি বুধবার বিকেল পাঁচটায় সম্পাদক ও সংকলকবৃন্দ বাংলা একাডেমির বর্ধমান ভবনের দোতলায় সংকলন উপবিভাগে বসবেন। সে অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে প্রতি বুধবার বিকেলে এখানে বসে এই অভিধানের পাণ্ডুলিপি প্রণীত হয়েছে। প্রতি বুধবার বিকেলে বাংলা একাডেমির সবুজ রংয়ের মাইক্রোবাসটি নিয়ে আমি স্যারের ইন্দিরা রোডের বাসায় যেতাম। ড্রাইভার ছিল জর্জ। স্যার তৈরি থাকতেন। আমি গেলে স্যার এসে গাড়িতে উঠতেন। খুব কমই এমন হয়েছে যে স্যার আসতে পারেননি। স্যারের সঙ্গে শিল্প-সাহিত্য বিষয়ে নানা কথা হতো। আর স্যারের সঙ্গে কথা মানে আমার নতুন কিছু জানা। সে এক অবিস্মরণীয় সময় ছিল আমার জন্য। ভাবলে এখনো গর্ববোধ করি। কাজের প্রতি স্যারের নিষ্ঠা, ধৈর্য এবং মনোযোগ আমার জন্য শিক্ষণীয় দিক ছিল।

অভিধানের পাণ্ডুলিপি তৈরি হতে পাঁচ বছর সময় লেগেছিল। প্রতি বুধবারে সবার উপস্থিতিতে মুখর হয়ে থাকতো বর্ধমান ভবনের দোতলা। এ ছাড়াও অফিসের সময়েও স্যার আসতেন। কোনো একটি শব্দের অর্থ সংশোধনের জন্য কিংবা কোনো শব্দ বাদ পড়েছে কিনা তা দেখার জন্য, কিংবা শব্দের সঙ্গে দৃষ্টান্ত-বাক্য ঠিক করার জন্য। নানা চিন্তা স্যারের মাথায় কাজ করত দেখে ভাবতাম এভাবেই মানুষ বড় হয়। বড় জায়গা ধারণ করার যোগ্যতা এভাবে তৈরি করতে হয়। এটিও আমার শিক্ষার বিষয় ছিল।
১.৩.১৯৯২ তারিখে পাণ্ডুলিপি মুদ্রণের জন্য প্রেসে পাঠানো হয়। এই পর্যায়ে মহাপরিচালক ছিলেন প্রফেসর মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ। অভিধানটির প্রতি তার নিজেরও খুব আগ্রহ ছিল। তিনি সরাসরি মুদ্রণ কাজ তত্ত্বাবধান করতেন। সিদ্দিকী স্যারকে অভিধানের চূড়ান্ত প্রুফ পাঠাতাম। তিনি দেখে স্বাক্ষর করে দিলে তা মুদ্রণের ব্যবস্থা করত বাংলা একাডেমি প্রেস। ১৯৯৩ সালের আগস্ট মাসে এই অভিধান প্রকাশিত হয়। ১৯৮৫-তে শুরু। সব মিলিয়ে সময় লেগেছে নয় বছর। মহাপরিচালক হয়েছিলেন তিনজন। প্রত্যেকের আন্তরিক উৎসাহ এবং সম্পাদক ও সংকলকবৃন্দের অব্যাহত কর্মপ্রেরণায় বাংলা ভাষার জন্য সম্পন্ন হয়েছে একটি বড় কাজ।
এই অভিধান প্রকাশের আগে ভারতের সংসদ অভিধান বাংলাদেশের বাজার দখল করেছিল। এই অভিধান প্রকাশের পরে ব্যাপক সাড়া জাগে। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার কথা চিন্তা করে দামও কম রাখা হয়। এই অভিধানের লাখ লাখ কপি মুদ্রিত হয়। ফেব্রুয়ারির বইমেলায় মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে অভিধানটি কেনে। ১৯৯৩ সালের আগস্টে বাজারে আসার পরে ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি মাসেই আবার ছাপতে হয়। এই একই বছরে অভিধানটি চার বার ছাপতে হয়েছিল। এরপর এর অগ্রযাত্রার আর হিসাব রাখিনি। শুধু মনে হয়েছিল এত বড় একটি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নিজের অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছি। স্যার ছিলেন আলোর দিশারী। বাতিঘর।
স্যারকে একবার পেয়েছি বাঙালি জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে, আবার পেয়েছি ভাষার যৌথ সম্মিলনে। অভিধান মৌলিক কাজ নয়, কিন্তু অভিধানের দৃষ্টান্ত-বাক্য এবং শব্দের অর্থের মৌলিকত্ব সাংস্কৃতিক বিবেচনা। এভাবে ভাষা-সংস্কৃতি আমার জীবনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। দুটো অধ্যায়েই স্যার আমার দিকনির্দেশক।

তিন.
ষাটের দশক থেকে শুরু করে ২০০৮ পর্যন্ত স্যারের সঙ্গে আমার সব সময় সরাসরি যোগাযোগ থেকেছে তা নয়। কিন্তু শিল্প-সাহিত্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আমি সব সময় স্যারের দৃশ্য-অদৃশ্য উপস্থিতি অনুভব করেছি। বিশেষ করে যখন স্যারের একটি করে বই প্রকাশিত হয় তখন। স্যার মূলত কবি। কিন্তু প্রবন্ধও তাঁর একটি অনায়াস স্বচ্ছন্দের জায়গা। অনুবাদ তাঁর কাজের আর একটি দিক। কলাম লেখা তাঁর সচেতন যাত্রা। এত কিছুর ভেতরে স্যারের লেখার ক্ষেত্র নির্বাচন এবং যাত্রার দিকটি স্পষ্ট হয়। এই বহুমাত্রিকতা নিয়ে স্যার আমাদের মাঝে শিল্প-সাহিত্য-রাজনীতি-অর্থনীতিসহ সমাজ-ভাবনার নানা দিক নিয়ে একজন সমাজমনস্ক লেখক ছিলেন। তাঁর অনূদিত ‘শেক্সপিয়রের সনেট’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৭ সালে, ‘টেমপেস্ট’ ১৯৮৫-তে। শেক্সপিয়র যখন আমার ভাবনায় কিংবা লেখার সূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় তখন স্যারের বই আমার হাতের কাছে থাকে। কবিতার বইগুলো নানা প্রসঙ্গে উঠে আসে। ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হৃদয়ে জনপদে; ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত চাঁদ ডুবে গেলে কিংবা ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত আসন্ন বাস্তিল হাতে পেলে আমি শুধু খুশি হই না, তা আমার চিন্তার জগৎকেও নাড়া দেয়। ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিষয়ে সম্পাদিত বইটি সমাজে মৌলবাদের আগ্রাসী মনোভাব এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করে তোলার একটি সময়োচিত বিবেচনা। এভাবে তিনি জীবনের নানা ক্ষেত্রকে পূর্ণ করতে চেয়েছেন। শিল্পের জন্য ভালোবাসার দায় একজন লেখকের গভীর অর্জন।