ভুয়া স্থপতিকে পুলিশে দিল রাজউক

আগের সংবাদ

রাস্তা পারের সময় বৃদ্ধাকে পিষে দিল বাস

পরের সংবাদ

মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার খুলছে

সিন্ডিকেটের বৃত্ত ভাঙতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৭, ২০১৯ , ৯:০১ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০১৯, ৬:৩১ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

অবশেষে বাংলাদেশের জন্য খুলতে যাচ্ছে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। বন্ধ শ্রমবাজার দ্রুত সময়ে খোলার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ। খবরটি নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যঞ্জক। তবে দুশ্চিন্তা ভর করছে সিন্ডিকেটকে ঘিরে। সিন্ডিকেটের বৃত্ত ভাঙতে না পারলে আবারো সংকট দেখা দিতে পারে। এই বিষয়ে সরকারকেই কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে শ্রমিকরা স্বল্প খরচে মালয়েশিয়ায় গমনের সুযোগ পাবে। জানা যায়, দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত বছর জিটুজি প্লাস বাতিল করে দেয় মাহাথির মোহাম্মদের সরকার। জিটুজি প্লাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মী যেতে প্রথমে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। পরে তা এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করা হয়। কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে প্রায় সব কর্মী মালয়েশিয়া যেতে তিন থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন। এর মাধ্যমে দুই দেশের এজেন্টরা পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে বলে মালয়েশিয়া সরকারের অভিযোগ। জিটুজি প্লাসে কর্মী পাঠানোর কাজ পেয়েছিল ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি। যারা সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিতি চিহ্নিত হয়। এ অবস্থায় গত ১৪ আগস্ট মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগের বিশেষ পদ্ধতি থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়। এর ফলে দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নানা রকম হয়রানি শুরু হয়, যা আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। এমন পরিস্থিতি আমাদের জন্য সুখকর ছিল না। এরপর নতুন করে সরকার মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে বিভিন্ন সময় প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার কুয়ালালামপুরের পার্লামেন্ট ভবনে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারানের সঙ্গে সফররত বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদের দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ফের শুরুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ বেশ কিছু বিষয় অমীমাংসিত রেখেই বৈঠকটি শেষ হয়েছে। খোদ প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীকেই সিন্ডিকেটের বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। মন্ত্রীর উত্তেজক বক্তব্যে সন্দেহের ডালপালা আরো বেড়েছে। এ বিষয়ে আগামী ২৪ ও ২৫ নভেম্বর ঢাকায় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের ক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে। মালয়েশিয়াতে আমাদের বিশাল এক শ্রম অভিবাসীরা কাজ করছেন। মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে অবশ্যই পূর্বের ভুলত্রুটি মোকাবেলা করে এই শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হবে। সে ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সহনশীল ব্যয়ের মাধ্যমে কর্মী প্রেরণ করাটাই এখন বড় কর্তব্য। অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা বাংলাদেশ সরকারকেই পালন করতে হবে। কারণ অভিবাসনপ্রত্যাশী শ্রমিক তার অভিবাসন ব্যয়ের সমুদয় অর্থ বাংলাদেশেই প্রদান করে থাকে। তাই আগামী বৈঠকে এই ব্যয় নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সুপারিশগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে মনে করছি। কোনোভাবেই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে যাতে ব্যয় বেড়ে না যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যাতে কেউ নতুন করে সিন্ডিকেট গড়ে তুলতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা