বাদলের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

আগের সংবাদ

১১ হাজার অবৈধ বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠাচ্ছে সরকার

পরের সংবাদ

সংবাদ প্রকাশের জের

শিকল মুক্ত হলো মাদ্রাসার ওই তিন কিশোর

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৭, ২০১৯ , ১:৫১ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০১৯, ২:৪২ অপরাহ্ণ

Avatar

গাজীপুরের কালীগঞ্জের তুমলিয়া ইউনিয়নের ভাইয়াসূতি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র ইফাদ, ইয়াসিন ও আজিজুল। এদের তিনজনের বয়সই তেরো বছর। কিছু দিন আগেও তাদের এক পায়ে ছিল লোহার শিকলে তালাবদ্ধ। জাতীয় দৈনিক ভোরের কাগজের অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর  ঘটনাটি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। এরপর লোহার শিকল মুক্ত হয় তাদের পা।

দিনের ২৪ ঘন্টাই থাকতে হতো লোহার শিকলে তালাবদ্ধ অবস্থায়। এভাবেই চলছিল প্রতিদিনের খাওয়া-দাওয়া, টয়লেট-গোসল, লেখাপড়া, ঘুম সবই। বিষয়টি শুরুতে নজরে আসে স্থানীয় উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে ভোরের কাগজের অনলাইন সংস্করণ সংবাদ প্রকাশ করে। সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শিবলী সাদিক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ভাইয়াসূতি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় যান। সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান তাঁরা। ওই মাদ্রাসার হেফজেখানায় অধ্যয়নরত কিশোর ইফাদ, ইয়াসিন ও আজিজুলের পায়ের তালাবদ্ধ লোহার শিকল মুক্ত করেন। পাশাপাশি এই ধরণের ঘটনার পূনরাবৃত্তি না হওয়ার জন্য মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটিকে সতর্ক করেন।

স্থানীয়রা বলেন, লোহার শিকলে তালায় অবরুদ্ধ শৈশব নয়। হাসি, খেলা আর আনন্দের মধ্যে কাটুক শিশুদের শিক্ষা জীবন। ভবিষ্যতে মানুষের মত মানুষ হউক। কোন শিক্ষকের নির্যাতনের শিক্ষা নিয়ে তারাও যেন ওই শিক্ষকদের মত না হয় এই প্রত্যাশাই আমরা করি।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ইউএনও মো. শিবলী সাদিক বলেন, আপনাদের এই ধরনের অনুসন্ধানী এবং সাহসী প্রতিবেদনের জন্য আমাদের কাজ করা সহজ হয়। প্রাথমিকভাবে আমরা ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক ও মাদ্রাসা পরিচালনা পর্যদের সাথে কথা বলেছি।

সেই প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জুবের আলমকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির বাকী দু’জন হলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর-ই-জান্নাত ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন।

৭ কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা বলা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে আমরা প্রয়োজনীয় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিব।