আগামী বছর খুলে দেয়া হবে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে

আগের সংবাদ

ম্যাচ নিয়ে সংশয়

পরের সংবাদ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ফের সচলের আশা

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৭, ২০১৯ , ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০১৯, ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ

Avatar

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য আবারো সচল হতে যাচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর একান্ত সচিব আহমদ কবীর জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার কুয়ালালামপুরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদের সঙ্গে সে দেশের মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগেরানের এক দ্বিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে মালয়েশিয়ায় বন্ধ শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে উভয় দেশ। এর অংশ হিসেবে চলতি মাসে ঢাকায় আসছে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধিদল। ২৪ বা ২৫ নভেম্বর প্রতিনিধিদলটি ঢাকা সফরে আসতে পারে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কুয়ালালামপুরে পার্লামেন্ট ভবনে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারানের সঙ্গে শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদের এক ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, যুগ্ম সচিব ফজলুল করিম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মো. আজিজুর রহমান, বিএমইটির পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, হাইকমিশনার মুহ. শহীদুল ইসলাম এবং কাউন্সিলর (শ্রম) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। মালয়েশিয়া প্রতিনিধি দলে ছিলেন মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল দাতু আমির বিন ওমর, ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল দাতু কয়া আবুন, ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মো. খাইরুজ্জামান, লেবার ডিপার্টমেন্টের মহাপরিচালক দাতু মোহাম্মদ জেফরি জোয়াকিম আসরী প্রমুখ। দুই দেশের প্রতিনিধিদলের এ বৈঠকে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠকে ন্যূনতম অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী পাঠানো, উভয় দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সম্পৃক্ততার পরিধি, মেডিকেল পরীক্ষা, কর্মীর সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা ও ডাটা শেয়ারিং বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে, ন্যূনতম অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী পাঠানো এবং কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিড়ম্বনা নিরসনের জন্য বাংলাদেশ থেকে বহির্গমনের আগে মাত্র একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদার কথা সভায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানিয়েছে, শ্রমিক নেয়ার বিষয়ে চলতি মাসের ১১ তারিখ মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারান। এরপর ২৪ ও ২৫ নভেম্বর ঢাকায় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হবে। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভার পর বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো পুনরায় শুরু হবে বলে আশাবাদী উভয়পক্ষ।
গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অনলাইন পদ্ধতি এসপিপিএ বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় তৎকালীন প্রবাসী ও বৈদেশিক কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি মালায়েশিয়া গিয়ে বৈঠক করলেও শ্রমবাজারটি চালু করা সম্ভব হয়নি। এরপর ৩১ অক্টোবর ঢাকায় দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে নতুন করে কর্মী নেয়ার কিছু পদ্ধতি ঠিক হয়। চলতি বছরের ১৪ মে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী (তখন প্রতিমন্ত্রী) ইমরান আহমদ মালায়েশিয়া সফরে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তানশ্রি মুহিউদ্দিন ইয়াসিন ও মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের অগ্রগতি হিসেবে ২৯ ও ৩০ মে মালয়েশিয়া দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।