সরকারের দুই মেয়াদে চাকরি পেয়েছেন ৭ লাখের বেশি

আগের সংবাদ

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

বাদলের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শূন্যতা সৃষ্টি হলো

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৭, ২০১৯ , ৬:৪৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০১৯, ৭:১২ অপরাহ্ণ

Avatar

একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কার্যকরী সদস্য মঈন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে সকল রাজনৈতিক সংগ্রামে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে সংসদ সদস্য মঈন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্র রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান রয়েছে। তিনি সব সময় অস্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং শান্তি সমৃদ্ধিতে বিশ্বাসী ছিলেন। পার্লামেন্টে তিনি যখন ভাষণ দিতেন প্রত্যেকটি ভাষণেই একটা দাগ কেটে যেত। অত্যন্ত বলিষ্ট ভাবেই তিনি কথা বলতেন। এলাকার উন্নয়নের জন্য সব সময় তিনি সক্রিয় ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে আমরা যারা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছি আমরা যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি এমনকি আয়ুব বিরোধী আন্দোলন থেকে নিয়ে ৬ দফা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যহার আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি ক্ষেতেই তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি জাসদে যোগ দেন এবং আমরা যখন ঐক্যজোট গঠন করি। আমাদের ঐক্যজোটের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। কাজেই আন্দোলন সংগ্রামের রাজপথে এবং এই সংসদে তার সঙ্গে এক সাথে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। রাজনৈতিক চিন্তা চেতনা প্রজ্ঞায় তিনি যথেষ্ট শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অজ্ঞনে একটা বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হলো।

কিন্তু আজ সকালে যখন খবর পেলেন একটা বিরাট ধাক্কা লেগে গিয়েছিল। কারণ এটা আমি ভাবতেই পারিনি যে তিনি এভাবে মৃত্যুবরণ করবেন। পার্লামেন্ট শুরু হবে তিনি আসবনে পার্লামেন্টে এবং দ্রুত সুস্থ হতে হবে এটাই তার মনে ছিল। আজকেও মৃত্যু খবর পেয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলি এবং তিনি এ কথাই বলছিলেন বুবু তিনি তো চাচ্ছিলেন খুব তাড়াতড়ি সুস্থ হয়ে পার্লামেন্টে এসে কথা বলবেন। আমাদের দুর্ভাগ্য যে তার সেই বলিষ্ট কণ্ঠস্বর আর শুনতে পাবো না। কি দুর্ভাগ্য আমাদের, ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আজ (বৃহস্পতিবার) সকালেই আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তার লাশ আনতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমাদের দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। চলার পথে অনেক আপন জনের হারিয়েছি, অনেকে হারিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য সময়ের সাথে সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। জন্মিলে মরিতে হবে এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমীর হোসেন হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক মন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, সাবেক প্রধান হুইপ আসম ফিরোজ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙা।

পরে স্পিকার সংসদে শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণের প্রস্তাব দিলে তা গৃহীত হয়। পরে প্রয়াতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরাবতা পালন শেষে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য বি এইচ হারুন। চলমান সংসদের কোন সদস্য মৃত্যু হলে রেওয়াজ অনুযায়ী স্পীকার অধিবেশনের অবশিষ্ঠ কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংসদ অধিবেশন আগামী সোমবার বিকেল সোয়া চারটা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেন, অত্যন্ত বিনয়ী, বিচক্ষণ ও অনলবর্ষী বক্তা মঈন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত, গভীরভাবে শোকাহত। সোয়াত জাহাজ থেকে পাক হানাদাররা অস্ত্র খালাস করছিলেন, তখন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাদল আক্রমণ চালিয়ে সেই অস্ত্র লুটে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে দিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন। সংসদেও তাঁর সপ্রতিভ ক্ষুরধার বক্তব্য ও শব্দচয়নও ছিল চমৎকার। দেশের প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো সংসদে জোরালোভাবে তুলে ধরতেন। তাঁর মৃত্যুতে যে শূণ্যতা হলো, তা কোনদিন পূরণ হবে না।

সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমু বলেন, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মঈন উদ্দীন খান বাদল অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা রেখে গেছেন। অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা বাদল সংসদের ভেতর ও বাইরে একজন বলিষ্ঠ সুবক্তা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনীতির জন্য বিরাট একটা ক্ষতি হলে গেল।

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, একদিন আমাদের সবাইকে চলে যেতে হবে। ছাত্রজীবনে, স্কুল ও কলেজ জীবনেও ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন মঈন উদ্দীন খান বাদল। পরে জাসদে যোগ দিলেও অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ঘোরবিরোধী ছিলেন।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মঈন উদ্দীন খান বাদল একজন সুবক্তা, প্রখর চিন্তাবিদ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ছিলেন। বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ১৪ দল গঠনে অন্যতম ভূমিকা পালন করে গেছেন প্রয়াত এই নেতা।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, বাংলাদেশ পরবর্তীকালে সামরিক শাসনসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর সাহস ও বিচক্ষণতা সত্যিই প্রশংসনীয়।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, মঈন উদ্দীন খান বাদল আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিলেন। ষাটের দশকে পূর্ব বাংলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। চট্টগ্রামে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা রেখে গেছেন।