ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে বিষাক্ত পানি ও মরা মাছের নমুনা

আগের সংবাদ

মাগুরার মহম্মদপুরে মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

পরের সংবাদ

হৃদরোগের অন্যতম কারন ট্রান্স ফ্যাট

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৬, ২০১৯ , ১২:৫২ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৯, ৩:১৩ অপরাহ্ণ

Avatar

দেশে অসংক্রামক রোগে যত মৃত্যু হয় এর ৩০ শতাংশ হয় হৃদরোগে। আর হৃদরোগের অন্যতম কারন ট্রান্স ফ্যাট।

বাংলাদেশের মানুষ গড়ে কি পরিমান ট্রান্স ফ্যাট গ্রহন করে তার পর্যাপ্ত কোন তথ্য উপাত্ত নেই। তবে ২০১০ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে বছরে অন্তত ৮ হাজার মানুষের মৃত্যুর কারন  হিসেবে উচ্চমাত্রার শিল্পোৎপাদিত ট্রান্স ফ্যাট গ্রহনকে দায়ী মনে করা হয়।

ট্রান্স ফ্যাট ও হৃদরোগের ঝুঁকি এবং গনমাধ্যমের করনীয় শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। বুধবার (৬ নভেম্বর) বিএমএ মিলনায়তনে গ্লোবাল হেলথ এডভোকেসি ইনকিউবেটর-এর সহযোগিতায়  এই কর্মশালার আয়োজন করে প্রজ্ঞা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, গ্লোবাল হেলথ এডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি কো-অরডিনেটর মো. রুহুল কুদ্দুস,  ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আবু আহমেদ শামীম, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম যোবায়ের প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। উচ্চমাত্রায় ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ হার্ট অ্যাটাকসহ হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী বিশ্বে প্রতিবছর এক কোটি ৭৯ লাখ মানুষ হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করে। যার মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হৃদরোগজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু এতটাই বেড়েছে যে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে প্যানডেমিক পৃথিবীব্যাপী মহামারী বলে আখ্যা দিয়েছেন। বাংলাদেশেও প্রতিবছর দুই লাখ ৭৭ হাজার মানুষ মারা যায় । যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই শিল্পোৎপাদিত ট্রান্স ফ্যাট নির্মূল করতে আইন প্রনয়নের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রসঙ্গত; ট্রান্স ফ্যাট বা ট্রান্স-ফ্যাটি অ্যাসিডের (টিএফএ) উৎস মূলত দুটি। এক প্রাকৃতিক যেমন : গবাদি পশু প্রাণীর অন্ত্রে এটি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়। যার ফলে গরু-ছাগলের মাংস, দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার মাখন, ঘিতে স্বল্পমাত্রায় এই ফ্যাট পাওয়া যায়। অন্যটি কৃত্রিম যেমন ভেজিটেবল অয়েল বা উদ্বিজ তেলের সাথে হাইড্রোজেন যুক্ত করলে তেল জমে যায় এবং ট্রান্স ফ্যাট উৎপন্ন হয়। এই আংশিক হাইড্রোজেনেটেড তেলই শিল্পোৎপাদিত ট্রান্স ফ্যাটের প্রধান উৎস যা ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামে পরিচিত। এতে ২৫-৪৫ শতাংশ ট্রান্স ফ্যাট থাকে। সিঙ্গারা, সমুসা, পুরি, বিস্কুট, চানাচুর, চিপসের মতো বেকারি পণ্য যা আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় থাকে সেগুলো তৈরিতে হাইড্রোজেনেটেড তেল ব্যবহার করা হয়। এছাড়া  অনেক স্ট্রিট ফুড যেগুলো কড়া করে ভাজা হয়  সেগুলোতে এবং রান্নার কাজে একই তেল বারবার ব্যবহার করলে তাতে ট্রান্স ফ্যাট উৎপাদিত হয়।