খোকার সম্মানে বৃহস্পতিবার ডিএনসিসিতে ছুটি

আগের সংবাদ

নাঈমুলের লাশ তুলে ময়নাতদন্তের আদেশ

পরের সংবাদ

হল ছাড়ার পরও আন্দোলন অব্যাহত

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৬, ২০১৯ , ৯:০২ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৯, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ

Avatar

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উত্তাল ক্যাম্পাসে স্তিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন হল ভ্যাকেন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় অর্নিদিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলেও হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করে এবং আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করে বিক্ষোভ চালিয়ে যায়।

এদিকে দুদিনে ৩ বার করে সময় বাড়িয়ে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। সবশেষে বুধবার (৬ নভেম্বর) সাড়ে তিনটায় হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হলে শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে শুরু করে। এর আগে আজ দুপুর ১ টা এবং মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫ টা সময় দেয়া হয়।

অপরদিকে ছাত্রলীগের হামলার বিচার এবং উপাচার্য অপসারণের দাবিতে অনড় অবস্থানে আন্দোলনকারীরা। এছাড়া ঘোষণা করা হবে নতুন কর্মসুচি। তবে হামলা ও নিরাপত্তার কারণে রাতে কোন কর্মসুচি থাকবে না। হল বন্ধ হলেও বিকল্প আশ্রয় গ্রহণ করে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’র মুখপাত্র রাইয়ান রাইন।

এর আগে বুধবার (৬ নভেম্বর) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে আবারো বেলা সাড়ে তিনটার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হল খালি করার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নির্দেশ অমান্য করলে ‘কঠোর’ পদক্ষেপ নেয়ারও ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে  এ ঘোষণায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে। তবে বিজ্ঞপ্তি আসার পরও বিকেলে আন্দোলনকারীদের একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বাসভবনের দিকে অগ্রসর হতে দেখা গেছে।

প্রসঙ্গত, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনার পর মঙ্গলবার জরুরি এক সিন্ডিকেট সভায় তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে সে নির্দেশ অমান্য করে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলে অবস্থান করছিলেন।

হল প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সকল দোকান বন্ধ থাকবে। এছাড়া সাড়ে তিনটার মধ্যে সকল আবাসিক হল খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপরও হলে অবস্থান করলে প্রশাসনিক যে কোনো সিদ্ধান্ত নিবে।’

এ ঘোষণার পর সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ হলের প্রধান গেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বন্ধ রয়েছে সকল দোকানপাট। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে। ফলে ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, উপাচার্য অপসারণ দাবিতে আন্দোলনকারীদের উপর গত মঙ্গলবার ছাত্রলীগের হামলায় ক্যাম্পাসে অস্তিরতা দেখা দিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। এর আগে ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প’ ঘিরে দীর্ঘ তিন মাস ধরে আন্দোলন করছে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’।