‘মোরা যাত্রী একই তরণীর’

আগের সংবাদ

বিপিএলে চট্টগ্রামের সঙ্গী আকতার গ্রুপ

পরের সংবাদ

এবার বিএনপি ছাড়লেন মাহবুব

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৬, ২০১৯ , ৯:৪৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০১৯, ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ

Avatar

এবার রাজনীতি থেকে অবসরে চলে গেলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান। অন্তত দেড় থেকে দুই মাস আগে নিজের হাতে লেখা পদত্যাগপত্র দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে দিয়েছেন সাবেক এই সেনাপ্রধান। বুধবার (৬ নভেম্বর) মাহবুবুর রহমান নিজেই রাজনীতি থেকে অবসর যাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

বিগত কয়েক বছরে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, ইনাম আহমেদ চৌধুরীর পর মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিএনপি ছাড়েন আরেক ভাইস চেয়ারম্যান এম মোর্শেদ খান। মাহবুবুর রহমানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের কেউ প্রথমবারের মতো দল ছাড়লেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সূত্র জানায়, মাহবুবুর রহমানের পদত্যাগের পেছনে কারণ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি বিরোধিতা করা। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি একাধিক অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান নিয়ে মন্তব্য করেন। যদিও এরপর সাবেক এই সেনাকর্মকর্তা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অংশ নিতেন। গত আড়াই মাস ধরে বৈঠকে অংশ গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন তিনি।

রাজনীতি থেকে অবসরের বিষয়ে মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি রিজাইন করেছি দল থেকে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রাথমিক সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছি। দেড় মাস থেকে দুমাস আগে। কারণ হচ্ছে, আমি বয়স্ক মানুষ। রাজনীতিতে কনট্রিবিউট করার মতো আমার কিছু নেই। এছাড়া তিনি আরো বলেন, আমি রাজনীতি নিয়ে বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছি। বাংলাদেশে রাজনীতি নাই। এখানে কোনও আদর্শও নাই। এখানে রাজনীতির নামে তোষামোদ, ধাপ্পাবাজি ও মিথ্যাচারিতা চলছে।’

প্রসঙ্গত, সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন মাহবুবুর রহমান। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে দিনাজপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন।

এর আগে মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) এম মোর্শেদ খান তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, রাজনীতির অঙ্গনে তার পদচারণা দীর্ঘকালের। কিন্তু দেশের রাজনীতি ও দলের অগ্রগতিতে নতুন কিছু সংযোজন করার মতো সঙ্গতি নেই। তাই ব্যক্তিগত কারণে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসরে যাচ্ছেন।