আবারো আবরারের অপমৃত্যু!

আগের সংবাদ

‘মোরা যাত্রী একই তরণীর’

পরের সংবাদ

আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়াতে কাউন্সিলিং প্রয়োজন

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৬, ২০১৯ , ৯:২৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৯, ৯:২৩ অপরাহ্ণ

Avatar

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর

দিন দিনই আইনগুলো কঠিন হচ্ছে। আরো কঠিন আইন হবে। অপরাধের ধরন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীদের ধরনও বাড়ছে। এ কারণেই আইনকে গতিশীল রাখার জন্য, অপরাধ প্রবণতা কমানোর জন্য আইনকে কঠোর করা হচ্ছে এবং তা সময়ের দাবিও। সড়ক আইন বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। মহিলা সিটে বসলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার কথা বলা হচ্ছে। ধর্ষণের শাস্তিও মৃত্যুদ- হয়ে যাবে হয়তো খুব তাড়াতাড়িই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে সরকার ও সাধারণ মানুষ। এখন পরিবেশ আইন নিয়েও কথা উঠছে অনেক মহল থেকে। ঢেলে সাজানোর চিন্তা চলছে প্রশাসনিক বিভিন্ন কাঠামোও। কিন্তু আইন কি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে? আইন কি সবাই জানতে পারছে? স্কুলের শিক্ষার্থী, সমাজের সাধারণ মানুষ এবং যারা আইনকে কাজে লাগাবে তারা সবাই কি সঠিক আইন সম্পর্কে অবগত? এই প্রশ্নগুলো কিন্তু উচ্চারিত হতে হবে এবং উত্তরগুলো সংশ্লিষ্ট সবার জানা থাকতে হবে। এর সঙ্গে আইনের প্রতি শ্রদ্ধার জায়গাটা বাড়ানোর জন্য কাজ করা প্রয়োজন এবং এই শ্রদ্ধার জায়গাটিই রাষ্ট্রের সভ্যতা আনয়নে সবচেয়ে বেশি উপযোগী পন্থা।

আইন চাপিয়ে দিয়ে সভ্য করা নয় বরং আইনকে বুঝে তা মেনে চলার নামই হোক নাগরিকত্ব। এ কারণে মানুষকে আইন জানানোর বিষয়টি বিবেচনায় আনা প্রয়োজন। আইন না জানা যে নাগরিক অপারগতা এটা নাগরিকদের পৌঁছে দিতে হবে। আইন সম্পর্কে কাউন্সিলিং বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে বিদ্যালয়গুলোতে আইন জানানোর জন্য ছয় মাসে একটি বা দুটি দিন বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে। আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতার ব্যাপারেও আরো কাজ করতে হবে। সবার চেয়ে বড় বিষয় হলো আইনকে শ্রদ্ধার জায়গায় পৌঁছে দিতে হবে। জনসাধারণ যদি বুঝতে শেখে আইন আমাদের নিজের প্রয়োজনেই মানতে হবে তখন অনিয়ম এমনিতেই কমে আসবে। এ জন্যই আইনকে জানানোর জন্য আরো প্রচারণা, উঠান বৈঠক এবং জনসাধারণের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে প্রশাসনকেই ভূমিকা রাখতে হবে বেশি। তারপর যুক্ত করতে হবে এলাকার সচেতন মানুষদের, শিক্ষকদের ও যারা আইন পেশায় সংযুক্ত তাদের। আইন শ্রদ্ধার জায়গায় আসুক, মানুষ নিজেই বুঝতে শিখুক আইন কঠোরতাকে প্রকাশের মাধ্যম নয়, আইন মানা হলো আমাদের দায়িত্ব।

শ্রীপুর, গাজীপুর।