দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর রাঙ্গাবলিতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ

আগের সংবাদ

পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে উদ্যোগ জরুরি

পরের সংবাদ

মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ সাদেক হোসেন খোকার প্রয়াণ

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: November 5, 2019 , 10:10 pm

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা মৃত্যুবরণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় সোমবার দুপুরে তিনি মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনির ক্যান্সারে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর খবর শুনে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সাদেক হোসেন খোকার অবদান অক্ষয় হয়ে থাকবে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন। আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করি। তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই সমবেদনা। ১৯৫২ সালের ১২ মে জন্মগ্রহণ করেন সাদেক হোসেন খোকা। বসবাস পুরান ঢাকার গোপীবাগে। গোপীবাগ রামকৃষ্ণ মিশন স্কুল, কলতাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়দেবপুর রানী বিলাস মনি উচ্চ বালক বিদ্যালয়, পুরান ঢাকার জগন্নাথ কলেজ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে সর্বোচ্চ ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামের উত্তাল সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যান। তার ছাত্রজীবনে রাজনীতির শুরু বামরাজনীতি দিয়ে। ১৯৮৪ সালে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন। খোকা বর্ণময় জীবনে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে এক সময় তরুণদের নজর কাড়েন। সংগঠক এবং ঢাকার অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন তিনি। পর্যায়ক্রমে জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী, অবিভক্ত ঢাকার নগরপিতাও ছিলেন টানা ১০ বছর। ঢাকা সিটি মেয়র থাকাকালীন তিনি দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বরেণ্য শিল্পী-সাহিত্যিকদের নামে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের নামকরণ করে প্রশংসা পেয়েছেন। খোকার উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে একটি হচ্ছে ভারতে বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রুখে দেয়া। ১৯৯০ সালে যখন ভারতে এই ঘটনা ঘটে তখন সেখানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। যার রেশ এসে বাংলাদেশে পড়ে। পুরান ঢাকায় হিন্দুদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার চেষ্টা চলে। কিন্তু সে সময় খোকার প্রতিরোধ ও দৃঢ় নেতৃত্বে বড় ধরনের ঘটনা থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। এমন ভূমিকা নিয়ে পুরান ঢাকাবাসীর আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন খোকা। দুর্নীতি মামলায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের কয়েকদিন আগে সাদেক হোসেন খোকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলে তাকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। তিনি মানুষকে নিয়েই রাজনীতি করেছেন। জনপ্রতিনিধিত্ব করেছেন দীর্ঘ সময়। সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন মহৎ-প্রাণ, দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারালো। বিএনপি হারিয়েছে একজন আদর্শবান-ত্যাগী-নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অভিযাত্রার ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবেন সাদেক হোসেন খোকা। এই মহান রাজনীতিবিদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা রইল।