খোকাকে সম্মান জানালেন প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধারা

আগের সংবাদ

মিরপুর থেকে অস্ত্র-গুলিসহ কারবারি আটক

পরের সংবাদ

ভবন ধসের সময়ে কোরআন শরীফ আনতে দৌড় দেয় ওয়াজিদ

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৫, ২০১৯ , ১:২৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৫, ২০১৯, ১:২৮ অপরাহ্ণ

Avatar

নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল এলাকায় নির্মাণাধীন চারতলা একটি ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় ওয়াজিদ (১২) নামে এক ষষ্ঠ শ্রেণীর স্কুলছাত্র নিখোঁজ রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক টিম প্রায় ৭২ ঘন্টা অতিবাহিত হবার পরও সন্ধান দিতে পারেনি তার।
আজ মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) ও চলছে উদ্ধার কাজ।রোববার (৩ নভেম্বর) বিকেলে মুন্সীবাড়ি এলাকার এইচ এম ম্যানশন ভবনটি ধসে পড়ে। ভবনটির মালিক মৃত আব্দুর রউফ মিয়ার ৪ সন্তান।
স্থানীয় রুবেল নামে একজন বিকেল থেকেই দাবি করছেন তার সন্তান ভবনটির নীচতলায় এক মহিলা আরবী পড়ান, তার এখানে আরবী পড়তে এসে ভেতরে আটকে পড়েছেন। তার নাম ওয়াজিদ (১২)।
এদিকে রাত ১০ টার দিকে ওয়াজিদের সাথে একসাথেই আরবী পড়তে আসা ও বেঁচে ফেরা স্বপ্না ঘটনাস্থলে এসে ওয়াজিদের অবস্থান ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দলকে দেখিয়ে দেয়। এতে উদ্ধারকারী দল সে অনুযায়ী উদ্ধার অভিযান জোরালো করে। রাতভর পরিচালিত হয় অভিযান।
ঘটনা প্রসঙ্গে রুনা বেগম বলেন, ‘দুইজন সোহায়ের (নিহত) ও ওয়াজিদ (নিখোঁজ) আমার ঘরে কোরআন শরীফ পড়তেছিল। আমি বাইরে আসছিলাম। বাইরে থেকে দেখি বিল্ডিংয়ে সিঁড়ির কাছে ফাঁকা হয়ে গেছে। আমি চিৎকার দিয়া বলি, ‘সোহায়ের, ওয়াজিদ তাঁড়াতাড়ি বাইরে আয়।’ আমার চিৎকারে ওয়াজিদ বাইরে আসে কিন্তু সোহায়ের বারান্দায় আসে। বিল্ডিং হেলতে শুরু করলে ওয়াজিদ কোরআন শরীফ আনতে আবার ভিতরে দৌড় দেয়। তখন আমিও ভিতরে দৌড় দিলে সিঁড়িতে এক পা দেওয়ার সাথে সাথে বিল্ডিং ভাইঙ্গা পরে। আমার গলা পর্যন্ত পানিতে ডুইবা গেছিল। বাইরে থেইকা আমারে টাইনা উঠাইছে। কিন্তু ওগো আর কোন খোঁজ আমি পাই নাই।
জানা যায়, বড় বোন রোজিয়া বেগমের বাবা হারা একমাত্র সন্তান মো. সোহায়ের (১২) এবং তাঁর ছোট বোন কাকলী বেগমের প্রথম সন্তান ইফতেখার আহমেদ ওয়াজিদ (১১) ছয় মাসের ছোট বড়। দুই ভাইকে কোরআন শিক্ষা পড়ানোর জন্য পাঠানো হতো অপর বোন রুনার বাসায়। প্রতিদিনের মত গত ৩ নভেম্বর দুই ভাই নির্ধারিত সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় ৪তলা বিশিষ্ট খালার বাসায় গিয়ে পড়তে শুরু করে। প্রায় ৪টার দিকে খালা রুনা বাইরে থেকে দেখতে পান যে ভবনে ধসে পড়ছে। সাথে সাথে চিৎকার করে সবাইকে বেরিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু কেউ বের হতে পারেনি।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আরেফিন জানান, আমরা অনুসন্ধান চালাচ্ছি, তবে এখনো ভেতরে কারো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো শেষ পর্যন্ত।

ইউএনও নাহিদা বারিক জানান, যতক্ষন পর্যন্ত নিশ্চিত না হওয়া যাবে যে সকলেই উদ্ধার হয়েছে ততক্ষন পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে।