ভোটার হচ্ছেন ৯০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি

আগের সংবাদ

রাজধানীতে নব্য জেএমবি’র ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

পরের সংবাদ

উৎসর্গ করা হবে বঙ্গবন্ধুকে

ঢাকা লিট ফেস্ট বৃহস্পতিবার

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৫, ২০১৯ , ৬:০৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৫, ২০১৯, ৬:০৭ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

দেশি বিদেশী সাহিত্যিকদের নিয়ে আবার জমবে মেলা বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর)। এবার নবমবারের মতো বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে শুরু হচ্ছে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’। বাংলাকে বিশ্বের মঞ্চে তুলে ধরার প্রত্যয় নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে এ উৎসব।এবারের লিট ফেস্ট উৎসর্গ করা হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ঢাকা লিট ফেস্টের আয়োজকেরা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক কাজী আনিস আহমেদ, আহসান আকবর, সাদাফ সায্‌, টাইটেল স্পনসর বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, প্লাটিনাম স্পনসর সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন প্রমুখ।

আগামী বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) শুরু হতে যাওয়া এ সাহিত্য উৎসবে পাঁচটি মহাদেশের ১৮টি দেশ থেকে শতাধিক বিদেশি এবং দুই শতাধিক বাংলাদেশি সাহিত্যিক, লেখক, গবেষক, সাংবাদিক, রাজনীতিক অংশ নিচ্ছেন। দেশি-বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে সরাসরি সাহিত্যসহ সমাজের বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার সুযোগ থাকছে জনসাধারণের জন্য। তিন দিনের এ আয়োজনে আসছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বুকারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ লেখক মনিকা আলী, ভারতীয় রাজনীতিক শশী থারুর, কথাসাহিত্যিক উইলিয়াম ডালরিম্পল প্রমুখ। দুই বাংলার জনপ্রিয় বাংলাভাষী লেখক শংকর আসছেন এবারের উৎসবে। সঙ্গে থাকছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক শাহীন আখতার, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, আসাদ চৌধুরী, রুবী রহমান, সেলিনা হোসেন প্রমুখ। এ ছাড়াও অংশ নিচ্ছেন ভারতীয় সাংবাদিক প্রেয়াগ আকবর, প্রিয়াঙ্কা দুবে, ফিনল্যান্ডের সাংবাদিক মিন্না লিন্ডগ্রেন, ডিএসসি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক এইচ এম নাকভি, ব্রাজিলের কথাসাহিত্যিক ইয়ারা রড্রিগেজসহ আরও অনেকে। তিন দিনের উৎসব চলবে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রথম দিন এই উৎসবে দেওয়া হবে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সাহিত্য সম্মাননা জেমকন সাহিত্য পুরস্কার।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক সাদাফ সায্‌ বলেন, লিট ফেস্টে ৯০টির বেশি সেশন অনুষ্ঠিত হবে।থাকবে বইয়ের সমারোহ, দেশীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরার উন্মুক্ত মঞ্চ। বই প্রকাশ এবং বইয়ের মোড়ক উন্মোচনও অনুষ্ঠিত হবে এই আয়োজনে। লোকশিল্পীদের উপস্থিতিও থাকবে এই আয়োজনে থাকছেন শিল্পী চন্দনা, মাইজভান্ডারি শিল্পীগোষ্ঠী। আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও সাহিত্য বিশ্বের কাছে তুলে ধরা।

সাদাফ বলেন, ঢাকা লিট ফেস্ট ২০২০ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা হবে। আর এ বছর জাতির জনককে নিয়ে থাকছে অসংখ্য সেশন।
ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান বলেন, এই উৎসব এমনই একটি উৎসব যেখানে বাংলাদেশকে আমরা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি। বিশ্ব সাহিত্য ও চিন্তাকে বাংলার মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারি।এই আয়োজন ইতিমধ্যে মানুষের হৃদয় কেড়েছে। আশা করি এবারও সাহিত্যামোদীরা হতাশ হবেন না।

জুলফিকার রাসেল বলেন, এই উৎসবে শুধু সাহিত্যিক নয়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে আসেন এবং তাঁরা আলোচনা করেন। দেশের বাইরে থেকে যে বরেণ্য ব্যক্তিরা আসেন, তাঁদের সঙ্গে আমাদের দেশের যাঁরা আছেন বিভিন্ন জেনারেশনের, তাঁরা আলোচনা করার সুযোগ পান।

মাসরুর আরেফিন বলেন, এই আয়োজনের সঙ্গে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত। এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মানুষকে বইয়ের কাছে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে এই উৎসবের মাধ্যমে। সিটি ব্যাংক সব সময় ঢাকা লিট ফেস্টের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক বলেও জানান তিনি।

আয়োজকরা জানান, এই উৎসবের দ্বিতীয় দিনে প্রদর্শিত হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্মিত ডকুফিল্ম ‘হাসিনা: অ্যা ডটার্স টেল’। প্রদর্শন শেষে চলচ্চিত্র নির্মাতা পিপলু খান বলবেন এর নির্মাণ অভিজ্ঞতা নিয়ে। এ ছাড়া ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা কৌশিক মুখার্জি আসছেন তাঁর চলচ্চিত্র নিয়ে আলাপ করতে।

দর্শনার্থী ও সাহিত্যপ্রেমী থেকে শুরু করে সব অঙ্গনের মানুষের জন্য উন্মুক্ত এ আয়োজনে অংশ নিতে এখানে https://www.dhakalitfest.com/register রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। যেটি নিশ্চিত করবে অংশগ্রহণকারীর পরিচয়। রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে পাওয়া ই-টিকেটটি ব্যবহৃত হবে আয়োজনে অংশগ্রহণকারীর প্রবেশপত্র হিসেবে। তবে সবার সুবিধার্থে ই-টিকেটটি প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে বহন গ্রহণযোগ্য হবে।

ঢাকা লিট ফেস্ট আয়োজিত হচ্ছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহযোগিতায়। এটির টাইটেল স্পনসর ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন ও অনলাইন নিউজপেপার বাংলা ট্রিবিউন, প্ল্যাটিনাম স্পনসর সিটি ব্যাংক। অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজনে রয়েছে যাত্রিক। সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে বাংলা একাডেমি। এ ছাড়া গোল্ড স্পনসর হিসেবে রয়েছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। সিলভার স্পনসর হিসেবে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক।