শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে

আগের সংবাদ

শুদ্ধি অভিযান ঘরে-বাইরে

পরের সংবাদ

খোকার মরদেহ আসছে বৃহস্পতিবার

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৫, ২০১৯ , ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৫, ২০১৯, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ

Avatar

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ দেশে আসছে বৃহস্পতিবার। এমিরাটস-এর ৫৮২ ফ্লাইটে করে মরদেহ নিয়ে আসছেন খোকার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে। সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারা পৌঁছবেন।

ঘনিষ্ট পারিবারিক সূত্রমতে, এরই মধ্যে নিউইয়র্ক থেকে মরদেহ দেশে পাঠানোর সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার রাত ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ১০টা) জনএফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে তার মরদেহ নিয়ে যাত্রা শুরু করবেন স্বজনরা।

নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিস সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে শোকার্ত খোকার পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। তবে এতো অল্প সময়ে তার বা স্ত্রীর পাসপোর্ট ফেরৎ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুনন্নেসা। তবে ট্রাভেল ডকুমন্টেসহ মরদেহ দেশে পৌঁছতে যেন কোনো জটিলতা না হয় সে বিষয়ে খোকার পরিবারকে সম্ভব সব সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এদিকে, খোকার মৃত্যুকে নিউইয়র্কে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুর সংবাদ পাবার পর স্থানীয় বিএনপি, আওয়ামীলী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা খোকার লাশ দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। তারা শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। ঢাকা থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, ইকবাল মাহমুদ টুকু, জহির উদ্দিন স্বপন ফোন করেও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

রিপোর্ট লেখার সময় (বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়) খোকার মরদেহ জ্যামাইকার একটি মুসলিম ফিউনেরাল হোমে তার লাশ রাখা ছিলো। নিউইয়র্কে আজ ৪ নভেম্বর সোমবার স্থানীয় সময় এশার নামাজের পর বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় মসজিদ জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে (বাংলাদেশ সময় ভোর সোয়া পাঁচটায়) তার প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। সেখানে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কনস্যুলেট অফিস থেকে একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বিএনপি, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগসহ বহুসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে খোকার শারিরিক অবস্থার অবনতির খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে খোকার পরিবারকে লাশ দেশে আসতে সার্বিক সহয়তা দেয়ার নির্দেশনা দেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম রোববারই নিউইয়র্কের কনস্যুলেট অফিসকে সহায়তা দেয়ার মৌখিক নির্দেশ দেন। এ নির্দেশ পেয়ে কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা এ বিষয়ে তার স্টাফদের নির্দেশনা দেন।

সরকারের ইতিবাচক সবুজ সংকেত পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র সহ সভাপতি সৈয়দ বশারত আলী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান রোববার রাত আটটায় হাসপাতালে তাকে দেখতে যান।

সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন নিউইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে বাংলাদেশ সময় সোমবার বেলা আড়াইটায় মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। গত ১৮ অক্টোবর থেকে নিউইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং ২০১৭ সালে তাঁদের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

১৯৫২ সালের ১২ মে ঢাকায় জন্ম নেয়া সাদেক হোসেন খোকা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ছিলেন গেরিলা যোদ্ধা। তিনি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ) যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে পা রাখেন। পরে বিএনপিতে যোগ দেন ও দলের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি হন। ১৯৯১ সালে সূত্রাপুর-কোতোয়ালি আসন থেকে প্রথমবারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হন। পরে তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হন।

সাদেক হোসেন ১৯৯৬ সালেও সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে একই আসন থেকে আবারও সাংসদ হন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০২ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন। প্রায় ৯ বছর ধরে এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের কয়েক দিন আগে সাদেক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন। ২০১৪ সালের ১৪ মে চিকিৎসা করানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।