বেসরকারী সদস্য বিল উত্থাপণ শিখতে সেমিনার আয়োজনের সুপারিশ

আগের সংবাদ

জাবিতে ছাত্রলীগের হামলায় সিপিবির নিন্দা

পরের সংবাদ

দিশেহারা শিক্ষকরা

অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন শিক্ষা অফিসার

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: November 5, 2019 , 8:38 pm

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতিতে শিক্ষকরা দিশেহারা। মঠবাড়িয়া উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহ্ জাহান আলী শেখের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের নিয়োগ, বিএড স্কেল ও এনটিআরসিএ নিয়োগ প্রাপ্তদের এমপিওভুক্তি সংক্রান্তসহ তার বিরুদ্ধে নানাবিধ বিষয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জিম্মি করে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৭ সালে তিনি মঠবাড়িয়ায় যোগদানের পর থেকে শিক্ষকদের কর্মক্ষে্ত্রে কৃত্রিম সংকট ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের সরলতার সুযোগে অফিসের পিয়ন হায়দার আলীর যোগসাজসে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করে। যা ইতোমধ্যে ভূক্তভোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা লিখিত অভিযোগসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী ও গণমাধ্যমের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। যে ঘটনায় সংসদ সদস্য ঘুষের টাকা ফেরত দিয়ে তাকে ভালো হওয়ার শর্তে একটি সুযোগ দিলেও কিছু লোকের টাকা ফিরিয়ে দিলেও আবার কিছুদিন পর তাদের ওপর কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে তার দ্বিগুণ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, নিয়োগে ৫০ থেকে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা, বিএড স্কেল পাইয়ে দিতে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ও এনটিআরসিএ কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্তদের এমপিও ভুক্তির জন্য ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ গ্রহণ করছেন। এ পর্যন্ত তিনি শিক্ষক ও কর্মচারীদের তার ষড়যন্ত্রের ফাঁদে ফেলে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

হোগলপাতি নেছারিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষিকা হেপী আক্তার জানান, আমার কাছ থেকে এমপিও ভুক্তি করে দেয়ার প্রসঙ্গে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। কাজ না হওয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে গেলে চাপের মুখে ওই সময় তিনি আমার টাকা ফিরিয়ে দেন। ভাইজোড়া মডেল বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে এমপিও ভুক্তি করার জন্যে ৯ হাজার টাকা দেই।

মধ্য দেবত্র এন ইসলাম দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষিকা ঝর্ণা আক্তার বলেন, এমপিও ভুক্তি করার প্রসঙ্গে আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। যে কাজের এখন পর্যন্ত কোন খবর নেই। তোমিজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, টিয়ারখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে প্রার্থীর কাছ থেকে সম্প্রতি এক লক্ষ টাকা তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন। এভাবে ২২টি প্রতিষ্ঠান থেকে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ এসেছে।

এ বিষয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহ্ জাহান আলী শেখ বলেন, যেসব লোক আমার বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও আমাকে ছোট করার উদ্দেশ্যে। মূলত এক শিক্ষক জনৈক অফিসের ব্যক্তিকে ২ হাজার টাকা উৎকোচ দিয়েছিল। যা আমি আবার তাকে ডেকে এনে ফেরত দিয়েছি।

পিরোজপুর জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সুনিল চন্দ্রসেন বলেন, তার টাকা নেয়ার বিষয়টি আমি অবগত। আমার কাছে কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠাবো।