বদলে যাচ্ছে মুগদা-মাণ্ডার যোগাযোগ ব্যবস্থা

আগের সংবাদ

বাহরাইন যাচ্ছে যুবারা

পরের সংবাদ

স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন

রোগী-চিকিৎসকের দূরত্ব বাড়বে

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৪, ২০১৯ , ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৪, ২০১৯, ১২:২৭ অপরাহ্ণ

Avatar

‘রোগী সুরক্ষা আইন’ বদলে হচ্ছে ‘স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন-২০১৯’। তবে নতুন আইনে রোগী ও চিকিৎসকের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, নতুন আইনে রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে দূরত্ব ঘোচানোর অনেক বিষয় বাদ দেয়া হয়েছে। যোগ হয়েছে ‘বিতর্কিত’ অনেক বিষয়। এতে রোগী ও চিকিৎসকের অসন্তোষ এবং দূরত্ব আরো বাড়বে। তাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে যাওয়ার আগেই এই বিষয়গুলো সুরাহার পরামর্শ দেন তারা।

এদিকে খসড়া আইনে চিকিৎসক-রোগীর দূরত্ব ঘুচবে এবং আইনটিকে রোগীবান্ধব বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আমিনুল হাসান। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, একজন রোগী যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে সেবা নিতে পারেন নতুন আইনে এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার সেই চেষ্টাই করছে।

যে সব বিধান রাখা হয়েছে : সরকারি চাকরিতে কর্মরত কোনো চিকিৎসক অফিস সময়ে বেসরকারি হাসপাতাল বা ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা দিতে পারবেন না। অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের এক লাখ টাকা এবং বেসরকারি হাসপাতালকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড হবে। ছুটির দিনে চিকিৎসকদের নিজ নিজ কর্মস্থলের জেলার বাইরে বেসরকারি হাসপাতালে বা ব্যক্তিগত চেম্বারে টাকার বিনিময়ে সেবা দিতেও সরকারের অনুমতি নিতে হবে। তবে কর্তৃপক্ষ যে কোনো সময় জনস্বার্থে সেই অনুমতি প্রত্যাহারও করতে পারবে। চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগীদের বসার স্থান থাকতে হবে। অন্যথায় চিকিৎসককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। চিকিৎসাসেবা ফি রসিদের মাধ্যমে আদায় করতে হবে। রোগীদের টাকার রসিদ না দিলে বা হাসপাতালে সংরক্ষণ না করলে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হবে। সরকারি হাসপাতাল প্রদত্ত সেবা এবং রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করবে। চিকিৎসকের ফি, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মূল্যের তালিকা হাসপাতালে বা চেম্বারের দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে। ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগীর চিকিৎসা করানোর ক্ষেত্রে রোগ পরীক্ষার ন্যূনতম চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকতে হবে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও ভিজিটিং কার্ডে বিএমডিসির নিবন্ধন নম্বর লেখা থাকতে হবে। বেসরকারি হাসপাতালে বা প্রতিষ্ঠানে জরুরি সেবার ব্যবস্থা না থাকলে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রমের বিধান রাখা হয়েছে।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা : বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই মাহবুব ভোরের কাগজকে বলেন, চিকিৎসকের সঙ্গে রোগী এবং তার স্বজনদের দূরত্ব ঘোচানো এবং সুস্থ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যেই এই আইন তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখানে এমন কোনো বিষয় রাখা উচিত না যাতে দূরত্ব বাড়ে। যেহেতু আইনটি এখনো খসড়া অবস্থায় রয়েছে। আশা করব, কেবিনেটে যাওয়ার আগেই আইনে ফাঁকফোকরগুলো দূর করা হবে।
রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে দূরত্ব ঘোচানোর ক্ষেত্রে খসড়া এই আইন খুব বেশি ভ‚মিকা রাখবে না বলে মনে করেন বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইহতেশামুল হক দুলাল। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, খসড়া আইনের বিধানগুলো দেখলে মনে হয়, আইন করতে হবে তাই আইন করা হচ্ছে। অনেকটা আইওয়াশ।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে আমরা যখন আলোচনা করেছি সেখানে অনেক বিষয় ছিল না। যেমন চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগীদের বসার স্থান রাখা এবং তা না রাখলে চিকিৎসককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধানটি ছিল না। এখন কথা হচ্ছে, সরকারি হাসপাতালও রোগীদের বসার জায়গা দিতে পারে না। প্রজাতন্ত্রের সব কর্মকর্তাকে কর্মস্থল ত্যাগের আগে অনুমতি নিতে হয়। সরকারি চিকিৎসক এর বাইরে নন। বিষয়টি আলাদা করে বলার কিছু নেই।

স্বাস্থ্য আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদা আখতারের মতে, আইনের খসড়ায় রোগীর সুরক্ষার বদলে চিকিৎসকদের প্রশাসনিক নিয়ম-কানুনের বিষয়টিকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, আইনে রোগীদের স্বার্থ কোথায়, কীভাবে দেখা হয়েছে তা পরিষ্কার নয়। চিকিৎসকরা যে বেপরোয়া হয়ে গিয়েছিল সেটিতে লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।