নগরে ভোটের হাওয়া

আগের সংবাদ

বদলে যাচ্ছে মুগদা-মাণ্ডার যোগাযোগ ব্যবস্থা

পরের সংবাদ

রাজস্ব আদায়ে বিপর্যয়

আলী ইব্রাহিম :

প্রকাশিত হয়েছে: November 4, 2019 , 10:50 am

ভ্যাট আইন কার্যকর হয়েছে কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়াই। এখনো প্রতিষ্ঠানগুলো রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসেনি। এ ছাড়া চার মাসেও ব্যবসায়ীদের মাঝে ইএফডি মেশিন সরবরাহ করতে পারেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। যার কারণে ভ্যাট আদায়ে পড়েছে নেগেটিভ প্রভাব। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ভ্যাটে প্রবৃদ্ধি নেমেছে মাইনাস (-৮৬) শতাংশে। এ ছাড়া গত পাঁচ বছরের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে গড় প্রবৃদ্ধি নেমেছে ৩ দশমিক ০৭ শতাংশে। এনবিআরের আয়কর খাত ছাড়া বাকি দুটি খাতে প্রবৃদ্ধি রীতিমতো মাইনাস পয়েন্টে। কাস্টমসে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি মাইনাস (-৮৭) শতাংশ। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৩ হাজার কোটি টাকা। আর আদায় হয়েছে ৪৭ হাজার ৪শ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬শ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের তিনটি উইংয়ের মধ্যে বরাবর ভ্যাট আদায় বেশি হয়ে থাকে। এই তিন মাসে ভ্যাট আদায়ে চরম বিপর্যয় দেখা গেছে। আদায় হয়েছে মাত্র ১৭ হাজার ৪শ কোটি টাকা। ভ্যাটে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে মাইনাস (-৮৬) শতাংশ। এ ছাড়া কাস্টমসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। কাস্টমসে প্রবৃদ্ধি মাইনাস (-৮৭) শতাংশ। তবে আশার আলো আয়করে। আলোচ্য সময়ে এ খাতে আদায় হয়েছে ১৫ হাজার ৮০ কোটি টাকা। আয়করে প্রবৃদ্ধি ১২.০১ শতাংশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, আমদানি গ্রোথ কমে যাওয়া এবং মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আসার কারণে কাস্টমসে রেভিনিউ আদায় কমছে। এ ছাড়া ভ্যাট আদায়ে তো নানা জটিলতা রয়েছে। এখনো অনেক প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন নেয়নি। যার কারণে ভ্যাটে রাজস্ব আদায় কমেছে। দেশের জিডিপি গ্রোথ যেহেতু বাড়ছে, সে হিসাবে ট্যাক্সে জিডিপি বাড়ার কথা বরং উল্টো ঘটছে। প্রবৃদ্ধি নেগেটিভ পয়েন্টে চলে এসেছে। তাই এনবিআরের উচিত এসব বিষয় মনিটরিংয়ের পাশাপাশি কার্যকর উদ্যোগ নেয়।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভ্যাট আইন কার্যকর হলেও এর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যার কারণে ভ্যাট আদায়ে গতি কমে গেছে। এ ছাড়া ভ্যাট আইনের বাস্তবায়নে যেসব সংস্কার দরকার তা কার্যত হয় নাই। আমদানি-রপ্তানিতে ভাটার কারণে কমেছে কাস্টমসের রাজস্ব আদায়। আগের তুলনায় অনেকাংশে কমে গেছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক কিছুটা মন্দাও বিরাজ করছে। সব মিলিয়ে এসব কারণে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে এই বিপর্যয়। দেশের অর্থনীতির আকার বাড়লেও কর ফাঁকির প্রবণতা বাড়ছে। যার কারণে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রায় ঘাটতি বাড়ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, ভ্যাট আইন কার্যকর হলেও এর সঠিক বাস্তবায়ন হয় নাই। অর্থবছরের ৪ মাস পার হলেও ইলেক্ট্রনিক ফিজিক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) সরবরাহ তো দূরের কথা অদ্যাবদি এনবিআরে কাছে এসে পৌঁছায় নাই। এ ছাড়া ইসিআর মেশিনও সরবরাহ করতে পারে নাই এনবিআর। আর সবচেয়ে বড় কথা ভ্যাট আইনের জটিলতা চলছে। কার্যত আগের তুলনায় আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ও কমেছে।