সবার মুখে মুশফিক বন্দনা

আগের সংবাদ

মশা নিধন অভিযান সারা বছর চলুক

পরের সংবাদ

অভিনন্দন ও শুভকামনা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: November 4, 2019 , 10:10 pm

প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে হারালো বাংলাদেশের ক্রিকেট দল। টাইগারদের ঐতিহাসিক এ সাফল্যগাথা ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সোনার ছেলেদের নিপুণ ক্রিকেটশৈলীতে আমরাও উল্লসিত। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আমাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন। রবিবার অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া ম্যাচে টস জিতে বোলিং বেছে নেন টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ভারত আটকে যায় ৬ উইকেটে ১৪৮ রানে। বাংলাদেশ ৩ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে। উইনিং রান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ছক্কায়। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল টাইগাররা। ভারতের বিপক্ষে টাইগাররা শেষ জিতেছিল ২০১৫ সালের ২১ জুন দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে। এ দুই দলের নবম ম্যাচে এসে ধরা দিল আরাধ্য সেই সাফল্য। ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব গোপন করায় ১ বছরের জন্য সাকিবকে নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সাকিব নিষিদ্ধ হওয়ার পর অনেকটা ভাঙা মন নিয়েই দিল্লি সফরে যায় বাংলাদেশ দল। এ ছাড়া ব্যক্তিগত কারণে দলে নেই অন্যতম ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। এর মধ্যে দিল্লির দূষণ ভয়ের কারণও সামনে এসেছিল। মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণের কারণে ম্যাচটি মাঠে গড়ানো নিয়েও শঙ্কা উঠেছিল। সব শঙ্কা দূরে ঠেলে দিয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে মাঠে নেমে শ্বাসরুদ্ধকর এক জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ। জয়টি সতীর্থরা উৎসর্গ করেছেন সাকিব-তামিমকে। মাত্র দুই যুগের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিগত কয়েক বছরে সমীহযোগ্য উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এক সময় বাংলাদেশ বড় দলগুলোর সঙ্গে খেলার আগেই হেরে যেত। এখন আমরা অস্ট্রেলিয়া, সাউথ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলকে মোকাবেলা করছি। তাদের সঙ্গে জয়ী হয়েছি একাধিকবার। স্বীকার করতেই হবে, টাইগারদের ক্রিকেট জ্ঞান-ধ্যান, সাহস, টেকনিক, আত্মবিশ্বাস ও দায়-দায়িত্ব অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেটেই বাংলাদেশ এখন এক দুর্নিবার শক্তি। এ দল এখন পারফরমারে ভরে গেছে। ক্রিকেটারদের দিয়ে যে বিশ্ব দরবার শাসন করতে প্রস্তুত হচ্ছে, তাও বুঝিয়ে দিচ্ছে। টাইগাররা যখন ব্যাট-বল হাতে মাঠে নামে, তখন বাংলাদেশের মানুষ যে যেখানে থাকে চোখ-কান খোলা রাখে। আর প্রতিটি বাঙালির মনেই থাকে উত্তেজনা ও শিহরণ। তবে এই জয়ের আনন্দে আত্মহারা হলে চলবে না, আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। এই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগানোর দৃঢ় সংকল্প নিতে হবে। আগামী ৭ নভেম্বর সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ রাজকোটে অনুষ্ঠিত হবে। আর তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি ১০ নভেম্বর নাগপুরে অনুষ্ঠিত হবে। প্রমাণ করতে হবে আমরা পারি, যে কোনো অবস্থানে যে কোনো পরিবেশে। জয়ের ধারা অব্যাহত থাকুক এই প্রত্যাশা ও শুভকামনা রইল।