অনুপ্রবেশ তালিকায় কারা

আগের সংবাদ

দিয়াজ হত্যায় জি কে শামীম সম্পৃক্ত কিনা তদন্তের নির্দেশ

পরের সংবাদ

সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর

কোথাও প্রয়োগ দেখা যায়নি

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ২, ২০১৯ , ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ২, ২০১৯, ৪:৫০ অপরাহ্ণ

Avatar

নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হলেও গতকাল শুক্রবার প্রথম দিন দেশের কোথাও তা প্রয়োগ হয়নি। আইন শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। রাজধানীর কোথাও আইন লঙ্ঘনের দায়ে মামলা বা জরিমানার ব্যাপারে পুলিশ ও বিআরটিএর আগ্রহ দেখা যায়নি। এই আইন কীভাবে প্রয়োগ করা হবে তা সম্পর্কেও তাদের স্পষ্ট ধারণা নেই। অর্থাৎ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি নেই বললেই চলে। প্রায় ৮০ শতাংশ চালক ও পরিবহন শ্রমিক নতুন আইনে কী কী শাস্তির বিধান রয়েছে তা জানেন না। আইন সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা না চালিয়ে আইন কার্যকর করায় পরিবহন মালিক, চালক ও শ্রমিকরা অসন্তোষ জানিয়েছেন।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, নতুন আইন এখনই কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। রাস্তায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা যে ‘পচ মেশিন’ ব্যবহার করে তাতে আগের বিধি অনুযায়ী ধারা ও শাস্তি প্রয়োগের সফটওয়্যারই রয়েছে। এই সফটওয়্যার আপডেট করতে হবে। নতুন আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করতে হলে নতুন সেটআপ দিতে হবে। আইন কীভাবে প্রয়োগ করা হবে সে ব্যাপারে সার্জেন্টদের ধারণা দেয়ার জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। তা ছাড়া এখনো নতুন আইনের বিধি তৈরি হয়নি। বিধি ছাড়া আইন প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। এসব প্রস্তুতি ছাড়া নতুন আইন প্রয়োগ করা হলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। তাই আপাতত পুরনো আইনের বিধিমালা মেনেই কাজ করতে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওই ডিএমপি কর্মকর্তা আরো বলেন, পুলিশ এখন নতুন আইন সম্পর্কে চালক ও জনসাধারণকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মাইকে প্রচারণা চলছে। ট্রাফিক বিভাগের জনবল বাড়াতে হবে। জনগণের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

বিআরটিএর পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মো. মাহবুব-ই-রব্বানী জানান, নতুন আইন কার্যকর করা হলেও প্রয়োগে কিছুটা সময় লাগবে। এখনই কঠোরভাবে আইন পুরোপুরি প্রয়োগ করা হলে চালকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেবে। তারা গাড়ি নিয়ে না নামলে সড়কে অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। জনগণের ভোগান্তি চাই না। এ জন্য ধীরে চলার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের ওপর আইন চাপিয়ে দেয়া যাবে না। নতুন আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর এই মুহূর্তে বেশি জোর দেয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে।

নতুন আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরযান ও গণপরিবহন চালালে ছয় মাস কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করলে প্রথমবার ৫ হাজার টাকা ও পরেরবার একই অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোটরযান চালালে আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার কথা উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া ৩০২ ধারায় মামলার কথাও উল্লেখ রয়েছে। চালক ও শ্রমিকদের প্রায় ৮০ ভাগই নতুন আইনের বিস্তারিত জানেন না। বলাকা বাসের চালক রফিক জানান, তিনি মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে শুনেছেন। আর কী কী শাস্তির বিধান রয়েছে তা জানেন না। আইন কার্যকর করার আগে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর প্রয়োজন ছিল। লিফলেট আকারে চালকদের হাতে হাতে দেয়া উচিত ছিল। সরকার তা করেনি।

গাজীপুর পরিবহনের চালক সারোয়ার জানান, নতুন আইনের প্রচার না থাকায় পরিবহনের চালক ও শ্রমিকদের ধারণা নেই। নতুন আইনের ভয় দেখিয়ে পুলিশ চালকদের হয়রানি করতে পারে। যে পরিমাণ জরিমানার কথা আইনে বলা হয়েছে তা অনেক বেশি। চালকরা কম টাকা পুলিশকে ঘুষ দিয়ে মামলা থেকে রেহাইয়ের চেষ্টা করবে। এতে পুলিশ লাভবান হবে। এরকম হলে আমরা বাস চালানো বন্ধ করে দেব।
কয়েকজন প্রাইভেটকার চালক ও মোটরসাইকেল চালক নতুন আইন সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আইনটি বেশি কঠোর হয়েছে। আইন প্রয়োগের আগে সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন বেশি জরুরি। সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর প্রয়োজন রয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট না থাকার সুযোগে পুলিশ সুবিধা নিতে পারে।

রাজধানীর বিজয় সরণি, ফার্মগেট, বাংলামোটর, মৌচাক, ধানমন্ডির শংকর, সাইন্সল্যাবরেটরি এলাকার প্রতিটি সড়কেই গতকাল দুপুর পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট শফিউল্লাহ জানান, নতুন আইন প্রয়োগ করছি না। অপরাধের শাস্তি ও জরিমানার ব্যাপারে চালকদের ধারণা দিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

নিরাপদ সড়ক চাই-এর (নিসচা) চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন জানান, আইনটি কার্যকরের আগে ব্যাপকভাবে প্রচারণার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। প্রচার ছাড়া আইন বাস্তবায়ন কঠিন হবে। আমার বিশ্বাস সহনীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হলে সফলতা আসবে।

২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। আন্দোলনের মুখে সরকার আইন করার উদ্যোগ নেয়। আগস্ট মাসেই মন্ত্রিসভায় ও পরে ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ পাস হয়। নানান দেনদরবারের পর গত ২২ অক্টোবর গেজেট প্রকাশ করা হয়। গতকাল থেকে তা কার্যকর করা হয়।