ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট কিনে পুরো ভবনই দখল

আগের সংবাদ

লোহানের জাস্ট ফ্রেন্ড সৌদি যুবরাজ

পরের সংবাদ

আহতদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্বজনরা

রূপনগরে এখন শুধুই কান্না

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১, ২০১৯ , ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ১, ২০১৯, ২:৪৭ অপরাহ্ণ

Avatar

রাজধানীর মিরপুর রূপনগর এলাকার এডাফ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সিয়াম (১১)। আগামী ১৭ নভেম্বর তার প্রাথমিক স্কুল সার্টিফিকেট (পিএসসি) পরীক্ষা। তাই গত বুধবার কোচিং শেষে বিকেলে ১১ নম্বর রোডের মনিপুর স্কুলের পাশ দিয়ে বাসায় ফিরছিল সে। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে কিছু একটার বিস্ফোরণ ঘটে। মুহ‚র্তেই চোখ, মুখ ও হাত-পা ঝলসে যায় তার। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এখন পরীক্ষা দেয়াই অনিশ্চিত সিয়ামের।

একই সময় বাজার থেকে পেপে আর মুরগি কিনে বাসায় ফিরছিলেন জান্নাত। বিস্ফোরণে তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শুধু সিয়াম এবং জান্নাতই নয়, তাদের মতো ১৭ জন আহত হয়েছে রূপনগরের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে। এদের মধ্যে বর্তমানে ৭ জন ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের চিন্তায় স্বজনদের ঘুম হারাম। কবে তারা সুস্থ হবে, সুস্থ হলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে কিনা- এই চিন্তা যেন তাদের প্রতিনিয়ত পীড়া দেয়। তবে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, ২/১ জনের অবস্থা একটু খারাপ। তবে সবাইকে সারিয়ে তুলতে তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে মর্মান্তিক এ বিস্ফোরণের ঘটনায় গত বুধবার রাত ১টার দিকে নিহাত নামে ৮ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ জনে। ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, নিহাতের চোখে ও মাথায় সিলিন্ডারের খণ্ডাংশের আঘাত লেগেছিল। সে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সরোয়ার হোসেন সরুর ছেলে। সে

ওখানকার বস্তিতে থাকা ব্র্যাক স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। গতকাল ঢামেক মর্গে নিহাতের মা হালিমা বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, বেলুন কেনার জন্য জোরাজুরি করলে ১৫ টাকা দেই নিহাতকে। টাকা পেয়ে হাসি দিয়ে সেই যে গেল আর ফিরে এলো না বলতে বলতে হু হু করে কেঁদে উঠেন হালিমা। শুধু নিহাতের মা-ই নন; পুরো রূপনগর জুড়েই এখন শুধু কান্না আর আহাজারি।

ঢামেক মর্গ সূত্রে জানায়, ময়নাতদন্ত শেষে গতকালই নিহাতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে পরিবার জানিয়েছে। এ ঘটনায় নিহত অপর ৬ জনের লাশও গতকাল দুপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা হলো- রুবেল (১২), ফারজানা (৭), নুপুর (১১), রিফাত (৮), রিয়া মনি (৮) ও রমজান (১১)। নিহতদের লাশ গ্রামের বাড়িতে নিতে ও দাফন খরচ বাবদ ঢাকা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম।

এদিকে বেলুন বিস্ফোরণের ঘটনায় বুধবার রাতে রূপনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রূপনগর থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, বেলুন বিক্রেতা আবু সাঈদকে (২৫) আসামি করে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে সাঈদ পুলিশ পাহারায় ঢামেক হাসপাতালের ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যদিকে বিক্রেতা আবু সাঈদ জানান, চকবাজার থেকে এক ধরনের কেমিক্যাল কিনে ছাই ও পানির মাধ্যমে গ্যাস উৎপাদন শুরু করেন।

গত বুধবার এ পদ্ধতিতে গ্যাস তৈরি করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করেন বিস্ফোরক পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, কস্টিক সোডা ও অ্যালুমিনিয়াম পাউডার দিয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরির করার সময় সিলিন্ডারটির বিস্ফোরণ ঘটে। ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আহতদের দেখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাসিমা বেগম বলেন, রাস্তায়, পাবলিক প্লেসে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে আরো সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

বিষয়:
  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা