মুহসিন হলে মিললো দেশিয় অস্ত্র

আগের সংবাদ

খালেদার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি গোপন করা হচ্ছে

পরের সংবাদ

নির্যাতনকারীরা এত সাহস কোথায় পাচ্ছে?

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৩০, ২০১৯ , ৬:৫১ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৩০, ২০১৯, ৬:৫১ অপরাহ্ণ

Avatar

চুরির অপবাদ দিয়ে স্কুলছাত্র রাকিবকে (১২) গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রথমে নির্মমভাবে মারপিট করে। এরপর ব্লেড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে রক্তাক্ত করে। এক পর্যায়ে ছাত্রটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর ছেলেটির বাবা ইস্রাফিল মোল্যা থানায় মামলা করেন।

নির্যাতনের ঐ ঘটনায় মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন নির্যাতনকারীরা। পরে তারা বাদীসহ তার পরিবারের বাড়িঘরে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে বাদীর দুই ভাইকে বাজারে ধরে মারধর করেন। শুধু তাই নয়, বাদীর দুই ভাইজিকে রাস্তায় আটকে রেখে লাঞ্ছিত করে।

ঘটনাটা যশোরের অভয়নগর উপজেলার মালাধরা গ্রামের। নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্র রাকিব গ্রামের ইস্রাফিল মোল্যার ছেলে। আর নির্যাতনকারীরা হচ্ছেন, মালাধরার ইকরাম মোল্যা, আরমান মোল্যা, আকরাম মোল্যা এবং পাশের কোদলা গ্রামের জাহিদুল, মুরাদ, কেরামুলসহ আরো অনেকে।

মামলার পর আসামিরা বাদীকে দেখা নেয়ার হুমকি দেয়। বুধবার (৩০ অক্টোবর) সকালে তারা লাঠিসোটা নিয়ে ইস্রাফিল মোল্যার বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় বাদীর ভাই ফজলুর রহমান মোল্যাকে (৭২) তারা মারপিট করে। এছাড়া বাদীর অপর ভাই মুজিবর মোল্যা (৬০), তার ভাইজি নাসরিন (৩০) ও নিরালাকে (৩৫) লাঞ্ছিত করে।

মারধরের এ ঘটনার পর ফজলুর রহমান বুধবার (৩০ অক্টোবর) অভয়নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পুলিশ পরে দুইজনকে আটক করে। এরা হলেন- মালাধরা গ্রামের ইকরামুল মোল্যার ছেলে নাজমুল (২৬) ও আফিল মোল্যার ছেলে জোবায়ের হোসেন (২৮)।

তবে হামলা আর মারপিটের ঘটনার বাদীর পরিবারের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ভয়ে তারা বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাথালিয়া ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (৩০ অক্টোবর) তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনা জানার পর পাথালিয়া ক্যাম্প ইনচার্জকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। স্কুলছাত্রকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

নির্যাতিত স্কুলছাত্রের বাবা ইস্রাফিল মোল্যা জানান, গত ২৬ অক্টোবর মালাধরা বাজরের চায়ের দোকান থেকে চুরির অভিযোগে আমার ছেলেকে ধরে গাছে বেঁধে মারপিট নির্যাতন করে ইকরাম মোল্যা, আরমান মোল্যা, আকরাম মোল্যা ও কোদলা গ্রামের জাহিদুল, মুরাদ, কেরামুলসহ অনেকে। তারা আমার ছেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে কেটে রক্তাক্ত করে। পরে ছেলেকে অভয়নগর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করি। এরপর মঙ্গলবার অভয়নগর থানায় মামলা করি।

ইস্রাফিল মোল্যা অভিযোগ করেন, মামলা করার পর আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে দেখে নেবার হুমকি দেয়। বুধবার সকালে লাঠি হাতে মুরাদ ও জাহিদুল আমার বাড়ির দিকে আসতে থাকে। আমি দৌড়ে পালিয়ে যাই। এসময় মালাধরা বাজারে আমার ভাই ফজলুর রহমান ও মুজিবর রহমানকে মারপিট করে চলে যায় তারা। এছাড়া ভাইজি নাসরিন ও নিরালা বাড়ি থেকে নওয়াপাড়া যাওয়ার পথে তাদের লাঞ্ছিত করে।

নির্যাতিত শিশুর বাবা বলেন, পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা ভয়ের মধ্যে আছি। আসামিদের ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। আমাদের ভরসা এখন পুলিশ।