শ্যামা পূজায় ধর্মীয় আলোচনা সভা

আগের সংবাদ

রাজধানীতে ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র খুন

পরের সংবাদ

জ্যাকসন হাইটসে কবি-লেখকদের মিলনমেলা

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২৯, ২০১৯ , ৯:৫৮ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের জ্যাকসন হাইটসে হয়ে গেল জমজমাট মাসিক সাহিত্য আসর। গত শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সাহিত্য একাডেমি, নিউইয়র্কের ১০৭তম এই মাসিক সাহিত্য আসরে মেলা বসেছিল গুণী লেখক ও কবিদের। গোটা অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় ছিলেন একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন। আসরের শুরুতেই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় কবি শামসুর রাহমান, কবি জীবনানন্দ দাশ, লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও কবি দিলওয়ারকে।

শুভেচ্ছা জানিয়ে কবি জীবনানন্দ দাশ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে লেখক আদনান সৈয়দ বলেন, শাহাদুজ্জামানের  ‘একজন কমলালেবু’ গ্রন্থটির কথা। যে গ্রন্থটি থেকে আমরা তাঁর বিষয়ে অনেক অজানা তথ্য পেতে পারি। তিনি বলেন, একজন কবি এমনিতেই অন্য মানুষ থেকে আলাদা। তাঁর ভেতরে বিরাজ করে আরেকটি জগৎ। যে জগতের সাথে সাধারণ মানুষের কোনো মিল নেই। জীবনানন্দ দাশ ছিলেন তাঁদের থেকেও আলাদা। তিনি ছিলেন নিভৃতচারী। নিজেকে গোপন করে রাখতেন। তাঁর জীবন মসৃণ ছিল না। অনেক চড়াই-উৎরাই পাড়ি দিয়েছেন জীবনে। একজন কবি বা লেখকের কাজ হলো লেখালেখি করা। নিজের সৃষ্টিশীলতায় সম্পূর্ণভাবে নিমগ্ন থাকা। জীবননান্দ দাশ ঠিক এই কাজটিই করেছেন। তাই আজ আমরা জীবনানন্দ দাশকে খুঁজে বের করছি। তাঁর কাজ নিয়ে গবেষণা করছি।

কবি শামস আল মমীন উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, কবিতা বুঝিতে পারিলে লাভ আছে সন্দেহ নেই, কিন্তু কবিকে জানিতে পারিলে উহা অপেক্ষা অধিকতর লাভ। কবি জীবনানন্দ দাশ ছিলেন শান্ত, নির্জনতার কবি। প্রকৃতির দিকে তাকালেই ছন্দবদ্ধ হয়ে তাঁর কবিতা আসে৷ জীবনানন্দ দাশ এমন একজন কবি যাঁর খ্যাতি নিয়ে এখন কোনো তর্ক নেই। কিন্তু বেঁচে থাকতে তাঁর এমন খ্যাতি ছিল না। জীবননান্দ দাশের ‘রূপসী বাংলা ‘ প্রকাশের পর তাঁর খ্যাতি বাড়তে থাকে। উল্লেখ্য, বইটি প্রকাশ পায় তাঁর মৃত্যুর পর।

ঠিকানা পত্রিকার সম্পাদক মো. ফজলুর রহমান বলেন, আসরে নতুন মুখ দেখে ভালো লাগছে। নতুনদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, সাহিত্য একাডেমির প্রতিনিয়ত এই এগিয়ে চলা ভীষণ আনন্দ দেয়। আরো আনন্দ দেয় যখন দেখি সাহিত্য একাডেমিকে অনুসরণ করে এই রকম কেউ কেউ আরো আয়োজন শুরু করার চেষ্টা করছেন। কারণ, মানুষ তো বড়কে অনুসরণ করতে চায়। সাহিত্য একাডেমি সে জায়গায় আজ পৌঁছে গেছে। এই অর্জন ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকুক।

শ্রী চিন্ময় সেন্টারের পক্ষ থেকে এবারের সাহিত্য আসরে এসেছিলেন মহাতপা পালিত, নাসিমা খান ও নয়না হাইন। শ্রী চিন্ময় সম্পর্কে মহাতপা পালিত বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই কবিতা লিখতেন। ১৪ বছর বয়সে তাঁর প্রথম কবিতা মুদ্রিত হয়। ২০ হাজারের ওপরে তিনি কবিতা লিখেছেন। এর মধ্যে ১০৭ লাইনের যেমন কবিতা রয়েছে তেমনি ২ লাইনেরও কবিতা আছে। অনেক ধরণের কবিতা লিখেছেন তিনি। যতদিন গড়িয়েছে তত বেশি শক্তিশালী হয়েছে তাঁর কবিতা। তাঁর কবিতায় আধ্যাত্মিক সত্যিগুলো উঠে এসেছে। তাঁর কবিতাগুলো আমাদের জাগিয়ে তোলে।

১৯৪৮ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত শ্রী চিন্ময়ের ‘প্রেমালোকের কানন ‘ কাব্যগ্রন্থ থেকে কয়েকটি কবিতা বাংলা ও ইংরেজিতে পাঠ করে শুনান নাসিমা খান ও নয়না হাইন।

এই মাসে বাংলা সাহিত্যের যে সব দিকপাল কবি, লেখকদের জন্মদিন ও মৃত্যুদিন তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে লেখক সোনিয়া কাদের বলেন, তাঁরা জাগতিক সম্পদের চাইতে অমরত্ব সম্পদ রেখে নিজেদের অমর করে গেছেন। এক আড্ডায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি শামসুর রাহমানকে বাংলাদেশের প্রধান কবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তখন কবি শহীদ কাদরী প্রতিবাদ করে বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয় দুই বাংলার প্রধান কবি শামসুর রাহমান। তাঁর কালজয়ী কবিতা ‘আসাদের শার্ট’ আমাদের প্রাণের পতাকা। আসাদের শার্ট লিখে আসাদের মতো তিনিও অমর হয়ে আছেন। যদিও তাঁর অগণিত কবিতা বাংলাদেশের মানুষের মনে সর্বদা উজ্জ্বল।

আগামী মাসে সাহিত্য একাডেমির নবম বর্ষপূর্তি উপলক্ষকে কেন্দ্র করে, ইউএস বাংলা নিউজের সম্পাদক আবু সায়ীদ রতন একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সাহিত্য একাডেমির এখন নিজস্ব একটি জায়গা থাকা জরুরি হয়ে পড়েছে। যেখানে থাকবে নিজস্ব একটি লাইব্রেরি।

তাঁর কথার সূত্র ধরে পরিচালক বলেন, সাহিত্য একাডেমি সবার সংগঠন। এটি এমন একটি সংগঠন যেখানে লেখক এবং পাঠক সহজেই একত্রিত হতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, ভাষা যদি না টিকে তাহলে ঐ ভাষা-ভাষীর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যও এক সময় হারিয়ে যাবে। আমরা এমন একটি সমাজে ঢুকে পড়েছি যেখানে মূল জায়গায় আমাদের ভাষা কিংবা সংস্কৃতি চর্চার কোন সুযোগ নাই। আমরা এদেশে হারিয়ে যেতে চাইনা। কাজেই বিরূপ পরিবেশে এটির ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে, যুগ যুগ টিকে থাকতে হলে, আমাদের বর্তমান প্রজন্মসহ ভবিষ্যত প্রজন্মকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও গুরুত্বের সাথে নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতির বহুমুখী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। সাহিত্য একাডেমি সেই বোধ থেকে সামর্থ্যানুযায়ী কাজটি করার চেষ্টা করছে। এটি আরো নিবিড় ভাবে করার জন্য অবশ্যই একটি নিজস্ব স্থান থাকা জরুরি। আমরা সে বিষয়ে সচেতন আছি। সবার আন্তরিক সহযোগিতা পেলে সে লক্ষ্য পূরণ হওয়া কঠিন নয়। এছাড়াও তিনি অনুষ্ঠানের সময় সীমাবদ্ধতার কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, উপস্থিতির সময়টির প্রতি গুরুত্ব দিলে আসরটি আরো সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

এবারের আসরে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কাজী আতীক, নীরা কাদরী, শাহীন ইবনে দিলওয়ার, বেনজির শিকদার, দিমা নেফারতিতি, লুৎফা শাহানা, সুরীত বড়ুয়া, শামস চৌধুরী রুশো, রওশন হাসান,মিশুক সেলিম, তাহমিনা সাঈদ, সালেহীন সাজু, নিলুফার রেজা, মারিয়াস রোজারিও, সবিতা দাস, কামরুন্নাহার রীতা, আব্দুস শহীদ, পলি শাহীনা প্রমুখ।

আসরে আবৃত্তি করেন, মুমু আনসারী, নাসিমা আক্তার, শুক্লা রায়। আসরে উপস্থিত ছিলেন, পপি কুলসুম, রাহাত কাজী শিউলি, ফরিদা ইয়াসমিন, হোসনে আরা, নিনি ওয়াহেদ, সাবিনা হাই উর্বি, মুজিব বিন হক, স্বপন চক্রবর্তী, খালেদ সরফুদ্দীন, মোহাম্মদ এনামুল করিম, নাসির শিকদার, কানু দত্ত, শামীম আল আমিন, মাসুম আহম্মেদ, মোহাম্মদ আলী বাবুল, ফাহিম রেজা নূর, শহীদ উদ্দীন, তাহরীনা পারভীন প্রীতি, জাকিয়া ফাহিম, ম্যারিস্টোলা আহমেদ শ্যামলী, মাকসুদা আহমেদ, আক্তার আহমেদ রাশা, কামাল হোসেন মিঠু, আল আমিন বাবু, উইলি নন্দী, রোকেয়া হক, আম্বিয়া অন্তরা, মোহাম্মদ বাবুল, প্রতীপ দাশগুপ্ত, স্যামি, রেজাউল হক, রওশন হক, খোরশেদুল ইসলাম, শিবলি ছাদেক, শামীম, স্বপ্ন কুমার, সৈয়দ জুয়েদ আহমেদ প্রমুখ।

সাহিত্য একাডেমির বই পড়া কার্যক্রমে এবার পাঠের জন্য দেয়া বইগুলো হচ্ছে- প্রবন্ধ সংগ্রহ —শিব নারায়ণ রায়, শ্রেষ্ঠ কবিতা—আল মাহমুদ, খোয়াবনামা—আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
কথা বার্তা সংগ্রহ—মলয় রায় চৌধুরী, যে জলে আগুন জ্বলে—হেলাল হাফিজ, ক্রাচের কর্নেল—শাহাদুজ্জামান, শার্ল বোদলেয়ার তাঁর কবিতা—বুদ্ধদেব বসু ,গভীর নির্জন পথে—সুধীর চক্রবর্তী, কালের পুতুল— বুদ্ধদেব বসু।
আগামী মাসে সাহিত্য একাডেমির নবম বর্ষপূর্তিতে সবাইকে সাদর আমন্ত্রণ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন পরিচালক মোশাররফ হোসেন।