ছুটির দিনে জমজমাট সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে

আগের সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ায় গোলাপি হ্রদের রহস্য কী

পরের সংবাদ

অকল্পনীয় ক্ষমতার প্রসেসর সিকামো

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২৮, ২০১৯ , ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০১৯, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ

Avatar

গুগলের বিজ্ঞানীরা ‘সিকামোর’ নামে এক প্রসেসর উদ্ভাবন করেছেন, অকল্পনীয় যার ক্ষমতা। এখনকার একটি কম্পিউটারের যে গণনায় দশ হাজার বছর লেগে যাবে, সিকামোর তা সম্পাদন করবে মাত্র তিন মিনিটে! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করতে থাকা গুগলের কোয়ান্টাম টিম এ সাফল্য অর্জন করেছে। আইবিএম থেকে এমআইটি, ক্যালটেকসহ নামিদামি কোম্পানির গবেষকরা লেগেছিলেন এই মিশন হাসিলে। কিন্তু শেষমেশ গুগলের হাতে ধরা দিল সোনার হরিণ। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাঝে গুগলের গবেষকরাই তৈরি করলেন স্বপ্নের কম্পিউটার। গত বৃহস্পতিবার শীর্ষস্থানীয় ‘নেচার’ জার্নালে প্রকাশ হয় এ বিষয়ক প্রতিবেদন। খবর আনন্দবাজার।

অনেক বিশেষজ্ঞ এই সাফল্যকে বলেছেন ‘কিটি হক মুহূর্ত’। রাইট ভাইদের সেই মাত্র ১২ সেকেন্ডের উড়ান, যার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল আজকের বিমানযাত্রা। তথ্য প্রযুক্তির পরিভাষায় একে বলা হচ্ছে কোয়ান্টাম সুপ্রিমেসি। ২০১২ সালে বিজ্ঞানী জন প্রেসকিল ওই শব্দবন্ধ উদ্ভাবন করেন। কিন্তু একে কোয়ান্টাম কম্পিউটার কেন বলা হচ্ছে? কারণ এখনকার কম্পিউটার কাজ করে বিদ্যুতের সুইচ অন অথবা অফ হয়ে। আর কোয়ান্টাম কম্পিউটারে একই মুহূর্তে সুইচ অন এবং অফ হওয়া দুটোই ঘটে। এটা যেন কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অন্যতম জনক আরউইন শ্রেয়েডিঙ্গারর কল্পিত পরীক্ষার মতো।

কোয়ান্টাম যে অদ্ভুতুড়ে সেটা বোঝাতে শ্রোয়েডিঙ্গার ওই কাল্পনিক পরীক্ষার কথা বলেছিলেন। যেখানে ডালাবন্ধ একটা বাক্সের মধ্যে আছে একটা হাতুড়ি, পটাশিয়াম সায়নাইড ভর্তি শিশি এবং একটা বিড়াল। কোয়ান্টাম মেকানিক্স কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলে না। তার কাছে সবকিছুই সম্ভাবনা। মানে, পরীক্ষার অধীন ওই বাক্সে রাখা হাতুড়ির ঘা বিষভর্তি শিশির গায়ে পড়ার সম্ভাবনার কথাই শুধু বলে কোয়ান্টাম। তার ভাষায়, হাতুড়ির ঘা শিশির গায়ে পড়েছে এবং পড়েনি। অর্থাৎ পটাশিয়াম সায়নাইড বাক্সের মধ্যে ছড়িয়েছে এবং ছড়ায়নি। ফলে বেড়ালটা মরেছে এবং মরেনি। ডালাবন্ধ অবস্থায় বাক্সে একটার বদলে দুটো বেড়াল, জীবিত এবং মৃত। আর বাক্সের ডালা খুললে তখন একটাই বেড়াল, জীবিত অথবা মৃত। ডালা খোলা মানে কোয়ান্টামের জগৎ থেকে বেরিয়ে আসা। ডালাবন্ধ অবস্থায় ওই যে ‘এবং’ দূরে চলে গিয়ে ‘অথবা’ দশা, সেটাই কোয়ান্টাম। সে জন্যই কোয়ান্টাম কম্পিউটারে ইলেকট্রিক সুইচ অন এবং অফ দুটোই ঘটে একসঙ্গে।

এদিকে গুগল কোম্পানির সাফল্যে প্রতিযোগী সংস্থাগুলো যারপরনাই ঈর্ষান্বিত। আইবিএম বলেই দিয়েছে, ও কিছু না, অচিরেই ভুল প্রমাণিত হবে ওদের সাফল্য। গুগল কিন্তু কোমর বেঁধেই নেমেছে। মাসখানেক আগে একবার সাফল্যের রিপোর্ট বার করেও পরে সেটি প্রত্যাহার করে নিয়েছিল গুগল। তবে খ্যাতিমান নেচার জার্নালে রিপোর্টটি প্রকাশ হওয়ায় অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, এবার সাফল্যের সংবাদটি খাঁটি।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা