পাকিস্থান পৌঁছেছেন সালমা-জাহানারারা

আগের সংবাদ

শামসুর রাহমানের ৯১তম জন্মদিন আজ

পরের সংবাদ

বাইরে তামাকের বিপক্ষে কথা বলে মন্ত্রীরা আর সংসদে পক্ষে

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: October 23, 2019 , 1:38 pm

তামাকের বিষয়ে মন্ত্রীদের মধ্যে যে দ্বৈত নীতি বিরাজ করছে এতেকরে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করা সম্ভাব হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সভাপতি এবং ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) অনারারি প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী।

তিনি বলেন, মন্ত্রীরা সাংসদের বাইরে তামাকের বিরুদ্ধে কথা বললেও সংসদের ভেতরে তামাকের পক্ষে হয়ে যান। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক অঙ্গিকার বাস্তবায়নে মন্ত্রীদের এ দ্বৈত নীতি পরিহার করার কথা বলেন।

আজ বুধবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এফসিটিসিআর্টিকেল ৫.৩ বাস্তবায়ন বিষয়ক গবেষণা ফল প্রকাশ এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে প্রজ্ঞা আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, থাইল্যান্ডের জিজিটিসি, থামাসাত ইউনিভার্সিটির হেড অব গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি ড. মেরি আসুন্তা, সিটিএফকের গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর, বাংলাদেশ কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস প্রমুখ।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক অঙ্গিকার রয়েছে যে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করা হবে। এছাড়া এ বিষয়ে আমাদের আইনও আছে। সংবিধানে দুটি ধারা রয়েছে যেখানে জনগণের স্বাস্থ্যে বিষয়টি রয়েছে। এটা এসডিজি বাস্তবায়নে সরাসরি সংযুক্ত। এছাড়াও বেঁচে থাকার অধিকার নিয়ে একটি জাজমেন্ট রয়েছে। সেখানেও তামাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি রয়েছে।

তিনি বলেন, সংবিধানে ধারা, আইন, রাজনৈতিক অঙ্গিকার থাকা সত্তেও তামাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সম্ভাব হচ্ছে না। আমি মনে করি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গিকার থাকলেও অন্য যেসব মন্ত্রীরা রয়েছেন তাদের মধ্যে সে অঙ্গিকার দেখি না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মন্ত্রীরা সংসদের বাইরে তামাকে বিরুদ্ধে নানা কথা বলেন। কিন্তু সংসদে গিয়ে তারা সেগুলো ভুলেযান। এটা খুবই দুঃখজনক। এ দৈতনীতি অবস্থানে থেকে আমরা তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ রোথ করতে পারবো না।

তিনি বলেন, আমি আশা করবো মন্ত্রীরা তামাক নিয়ন্ত্রণে সংসদেও তাদের ভুমিকা রাখবেন। সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে কয়দিন আগে সংসদে একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে তামাকের উপর একটা সুনিদির্ষ্ট কর চেয়েছিলাম। এটি আরোপ করা হলে সরকারের ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব বাড়তো। কিন্তু যেসব মন্ত্রী সংসদের বাইরে তামাকের বিপক্ষে কথা বলেন এ ক্ষেত্রে ওই ধরনের কয়েক মন্ত্রী বাধা দিলেন। এ ধরনে দৈত নীতি দিয়ে আমরা দেশকে তামাকমুক্ত করতে পারবো না।

২০৪০ সালে দেশকে তামাকমুক্ত করা বর্তমান সরকারের রাজৈনিতিক অঙ্গিকান উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে খুবই স্পস্ট। তবে বাস্তবায়ন যারা করবেন তাদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে। যেসব মন্ত্রী তামাকের বিরুদ্ধে কথা বলবেন পরবর্তীতে তারা এ বিষয়ে কি কাজ করলেন এ বিষয়ে জবাবদিহীর আওতায় আনতে হবে।

প্রজ্ঞা এবং আত্মা যৌথভাবে বুধবার সিরডাপ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রজ্ঞা তামাক নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০১৯ এর বিজয়ী হিসেবে সেরা প্রিন্ট প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়া বিভাগের আফরিন দৈনিক প্রথমআলো, শরীফ সুমন সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট banglanews24.com এবং সেরা টিভি রিপোর্ট বিভাগে সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার মামুন আব্দুল্লাহ পুরস্কার পেয়েছেন। প্রত্যেকে ৫০০০০ টাকা একটি সনদ ও ক্রেস্ট উপহার হিসেবে পেয়েছেন।