এসেক্সে একটি লরিতে ৩৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার

আগের সংবাদ

নোংরা ও অকেজো চরম ভোগান্তিতে নারী পথচারী

পরের সংবাদ

মেরিনা বে-তে নিঃস্ব হচ্ছে দেশি শ্রমিকরা

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২৩, ২০১৯ , ৫:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০১৯, ৬:৩০ অপরাহ্ণ

Avatar

একটু ভালো উপার্জনের জন্য নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দেশ থেকে উন্নত দেশ সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমাচ্ছেন অনেকেই। সেখানে কেউ কেউ ব্যবসা বা ভালো প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেলেও অধিকাংশ বাংলাদেশিই কাজ করছেন শ্রমিক হিসেবে। তবে দেশের মতো সেখানেও ভর করেছে ক্যাসিনো বা জুয়া। সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় জুয়ার আস্তানা হিসেবে স্বীকৃত মেরিনা বে স্যান্ডসে উপার্জিত অর্থ উড়িয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শ্রমিকরা। অল্প দিনে ধনী হওয়ার আশায় যা আয় করছে তা নিয়েই ছুটে যাচ্ছেন ক্যাসিনোতে। অনেকে লাভবান হলেও বেশির ভাগই হচ্ছেন সর্বস্বান্ত।
মেরিনা বে ক্যাসিনোয় নিয়মিত খেলতে আসেন কুষ্টিয়ার বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, শ্রমিক ভিসায় ১০ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে আছেন তিনি। দিন-রাতের বেশি সময় ক্যাসিনোতেই কাটে। প্রায় সময় বোর্ড হারলেও মাঝে কিছু সময় জেতেনও আবার। তবে এখন সঞ্চয় বলতে কিছু না থাকলেও নেশা পেয়ে যাওয়ায় ছাড়তে পারছেন না বলে জানান তিনি। রাজ্জাকের মতো আরেকজন মানিকগঞ্জ জেলার সুমন। তিনিও দিন-রাতের বেশি সময় কাটান সেখানে। এ ছাড়া ক্যাসিনোতে যাতায়াতকারী অনেকের সঙ্গেই কথা বলে জানা গেছে, মেরিনা বে-তে প্রবেশে কিছু নিয়ম রয়েছে। তবে বাংলাদেশি প্রবেশকারীদের অনেকে শ্রমিক হলেও সেখানে যেতে তেমন নিয়ম মানতে হয় না। প্রবেশে দিতে হয় না কোনো এন্ট্রি ফি। সেখানে ২৪ ঘণ্টা কফি, ড্রিংকস ও পানি মেলে বিনামূল্যে। এ ছাড়া এখানে সহজেই মেলে সদস্য কার্ড। তাই বাড়তি লাভের আশায় কষ্টার্জিত অর্থ নিয়ে প্রতিদিন রাতে শত শত শ্রমিক ক্যাসিনো খেলতে আসছেন এখানে।
ফরিদপুরের নগরকান্দার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর নামে এক শ্রমিক জানান, এখানে ১০ মিনিটে কেউ হচ্ছেন লাখপতি আবার কেউ হচ্ছেন নিঃস্ব। এর পেছনের কারণ হিসেবে তিনি আরো জানান, এখানে হুন্ডি নেটওয়ার্ক শক্তিশালী। বাংলাদেশি অনেকেই ক্যাসিনোতে জিতে গেলে টাকা সরাসরি হুন্ডির মাধ্যমে দেশে পাঠিয়ে দেন। বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি এর সঙ্গে জড়িত। এখানকার পুলিশ ও প্রশাসনও বিষয়টি জানলেও কিছু বলে না। যাতে আরো টাকা বাংলাদেশিরা এখানে বিনিয়োগ করে। তবে বিদেশি পাসপোর্টধারী ও পর্যটকরা ইচ্ছে করলেই মেরিনা বে-তে ঢুকতে পারলেও সিঙ্গাপুরী নাগরিকদের জন্য রয়েছে কড়াকড়ি। সেখানে প্রবেশ করতে হলে তাদের গুনতে হয় আড়াইশ ডলার। তাই ক্যাসিনোতে তাদের উপস্থিতি কম বললেই চলে।
সারা রাত সিঙ্গাপুরে যে কয়টি এলাকা জেগে থাকে তার মধ্যে মেরিনা বে অন্যতম। এর ভেতরে দিন কি রাত কিছু বোঝার উপায় নেই। এ যেন এক ভিন্ন জগৎ। রোবটের মাধ্যমে সেখানকার পুরো চত্বর ঘুরে বেড়াচ্ছে জুস, পানি কফি, চা ও বিভিন্ন ধরনের খাবার। মেরিনা বে-তে প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় সাধারণ মানুষের আনাগোনা দেখা গেলেও মূলত ভিআইপি খেলোয়াড়রা সবার অগোচরে তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় বিশেষ কেবিনে আয়েশিভাবে খেলেন। ফলে কে কি করছেন জানতে পারে না অন্য কেউ। তাদের সঙ্গে আসা অতিথিরাও বিনামূল্যে আপ্যায়িত হন মদ-বিয়ারসহ ভারী খাবারে। একাধিক বাংলাদেশি শ্রমিক জানিয়েছেন, সরাসরি সিঙ্গাপুর এলে অনেকে সন্দেহ করতে পারেন তাই অনেকেই দেশ থেকে মালয়েশিয়া ও ভারত হয়ে সিঙ্গাপুরে ঢোকেন। ক্যাসিনো খেলে ফিরে জানে একই পথে। তাদের টাকার লেনদেন হয় হুন্ডির মাধ্যমে। টুরিস্ট ভিসায় ব্যবসার কাজের কথা বলে এখানে আসা অধিকাংশের মধ্যে রয়েছে ক্যাসিনো খেলার নেশা। এখানে আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সেলিব্রিটিদেরও দেখা গেছে প্রায়ই।