নতুন এমপিওর তালিকা ঘোষণা আজ, আন্দোলন প্রত্যাহার

আগের সংবাদ

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত আসর বসছে না এ বছরও

পরের সংবাদ

জমি উদ্ধারে গিয়ে রোষের মুখে হবিগঞ্জ ডিসি

অবৈধ ভবন বাঁচাতে বঙ্গবন্ধুর ছবি টানিয়ে দিল দখলদার

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২৩, ২০১৯ , ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০১৯, ১২:২১ অপরাহ্ণ

Avatar

হবিগঞ্জে স্থাপিত শেখ হাসিনা সরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আবু সুফিয়ান পুরনো খোয়াই নদীর জমি দখল করে মার্কেট তৈরি করেছিলেন। হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন সেই মার্কেট ভেঙে নদীর জমি উদ্ধার করেছে। হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এবং আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল হকের বাসভবনের একাংশও নদীর জমি দখল করে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু পিপি অবৈধ ভবনকে রক্ষা করতে বাড়ির সীমানা প্রাচীরের দেয়ালে জাতির জনকের নাম দিয়ে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন। তাতে লেখা রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক পুনর্বাসন প্রকল্প ‘মুক্তিযোদ্ধা পল্লী’। এটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার হলে সিরাজুল হকের সমালোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি সাইনবোর্ড সরিয়ে নেন। প্রশাসন এখন আওয়ামী লীগ নেতার দখলে থাকা অবৈধ জমি উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু সিরাজুল হক বলছেন, ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি জমিটি একাসনা লিজ নিয়ে আছেন। তিনি অবৈধ দখলদার নন।
হবিগঞ্জের সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপির সভাপতি জি কে গউছও বন্দোবস্ত নিয়ে নদীর জমি দখল করে রেখেছেন। হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন নদীর দখল হওয়া জমি চিহ্নিত করে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। অভিযান শুরুর আগে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ শহরের বিভিন্ন স্তরের লোকের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। কিন্তু উদ্ধার অভিযান শুরুর পর থেকেই প্রভাবশালীরা আর সহযোগিতা করছেন না।
সবমিলিয়ে সরকারি জমি উদ্ধার করতে গিয়ে প্রভাবশালীদের রোষে পড়েছেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ। এ পর্যন্ত শহরের পুরনো খোয়াই নদীর জমি দখল করে তৈরি করা দুই শতাধিক স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়েছে। এরপরই জেলা প্রশাসককে খেদিয়ে দিতে (বদলি করাতে) উঠেপড়ে লেগেছে প্রভাবশালী চক্রটি। ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে তার বিরুদ্ধে একটি ভুয়া অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদও ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করে ভোরের কাগজকে বলেন, সরকারের জমি উদ্ধার করতে গিয়েই তাদের রোষের মুখে পড়েছি। সব বাধা অতিক্রম করেই সরকারি দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এদিকে হবিগঞ্জের বিশিষ্টজনরা জেলা প্রশাসকের ভ‚মিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন। সুজন সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন ভোরের কাগজকে বলেন, খোয়াই নদীর দখল হওয়া জমি উদ্ধার হচ্ছে, এটি খুবই ভালো কাজ। ভালো কাজের জন্য যদি জেলা প্রশাসককে সরিয়ে দেয়া হয় তাহলে ভ‚মিদস্যুরা উৎসাহিত হবে। ভবিষ্যতে আর কেউ সরকারি জমি কিংবা নদীর জমি দখল হলেও উদ্ধার করতে চাইবে না।
হবিগঞ্জ জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব রায় সুজন বলেন, নদীর জমি অবৈধভাবে দখল করে বানানো স্থাপনা রক্ষার্থে শেষ পর্যন্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি টানিয়ে দিয়েছে দখলদাররা। এটি তাদের নতুন কৌশল। তিনি দখলদারদের উদ্দেশে বলেন, দেশ স্বাধীন হয়েছে বলে যা খুশি তাই করতে পারেন না। হবিগঞ্জবাসীর স্বপ্ন পূরণে জেলা প্রশাসক কাজ করছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে রুখে দাঁড়াব।
হবিগঞ্জ সদরের সাংসদ এডভোকেট আবু জাহির বলেন, শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন। এই অভিযানে হবিগঞ্জের সবার সমর্থন রয়েছে। জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশে অবৈধ দখলদারদের সবসময় খারাপ চিন্তা থাকে। জেলা প্রশাসককে হবিগঞ্জে রাখা না রাখা আমার এখতিয়ার নয়। তবে জেলা প্রশাসক হিসেবে যিনিই থাকবেন তাকে সমর্থন করাই আমাদের কাজ।