শাওনের অভিভাবককে খুঁজছে পুলিশ

আগের সংবাদ

আবারও কানাডায় জয়ী জাস্টিন ট্রুডো

পরের সংবাদ

মহাকালের বাংলা নাট্যোৎসবে ‘দ্বীপ’

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২২, ২০১৯ , ৮:৪৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০১৯, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

মহাকাল নাট্যসম্প্রদায় প্রতিষ্ঠার তিন যুগের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে বছরব্যাপী নানা আয়োজনের শেষ প্রয়াস ‘বাংলা নাট্যোৎসব ২০১৯’। এ আয়োজনে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি থেকে বেইলী রোডের মহিলা সমিতি প্রাঙ্গন এখন ভারত ও বাংলাদেশের শিল্পীদের আনাগোনায় মুখর। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) এরই অংশ হিসেবে মহিলা সমিতি মঞ্চে সন্ধ্যায় মঞ্চায়ন হলো নাট্যতীর্থের প্রযোজনা ‘দ্বীপ’। নাটকটির রচয়িতা বিখ্যাত অভিনেতা, নাট্যকার উৎপল দত্ত। দর্শকনন্দিত এ নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন দলপ্রধান তপন হাফিজ।

আদর্শচ্যুতি শুধু ব্যক্তি মানুষকে নয়, সমগ্র সমাজের ক্ষতি করে এমনই গল্প নিয়ে নাটকটি শুরু হয়। মানুষ আদর্শচ্যুত হয়ে মানুষই মানুষের কিভাবে ক্ষতি করে তারই কথা নাটকের পরতে পরতে উঠে এসেছে। নির্দেশকের নিপুণ হাতের ছোঁয়া নাটকের বক্তব্যকে আরো বেশি গতিশীল করেছে। আমরা যে শ্রেণিসংগ্রামের কথা বলি, বিপ্লবের কথা বলি অথবা একটি শ্রেণিহীন সমাজের স্বপ্ন আঁকি। তা এক সময় ব্যক্তির সুখ-দুঃখ ছাড়িয়ে সর্ব মানবের সুখ-দুঃখের মহাকাব্য হয়। সেখানেই ধরা দেয় সব মানুষের মঙ্গল। এমন একটি সমাজের স্বপ্ন দেখে না কে! কিন্তু যখনই ব্যক্তি মানুষটি তার সুখ-বৈভব নিয়ে আবির্ভূত হয় তখনই তার আদর্শচ্যুতি ঘটে। এই আদর্শচ্যুতি শুধু ব্যক্তি মানুষকে নয়, সমগ্র সমাজের ক্ষতি করে। একজন মানুষ পৃথিবীর তাবৎ কিছুকে ফাঁকি দিতে পারে। কিন্তু নিজেকে ফাঁকি দিতে পারে না। নিজেকে ফাঁকি দিলেও একদিন তাকে নিজের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হয়। এমনই এক বিপ্লবী ও নিজ আদর্শে অনড় চরিত্র মিলন সরকার। যে সবাইকে নতুন সমাজের স্বপ্ন দেখায়। সেই নতুন সমাজের স্বপ্নে বিভোর হয়ে বিপ্লবীদের দলে ভেড়ে জনার্দন মল্লিক, কপিল নাথ ও ইউনুছ মোহাম্মদ। কিন্তু মিলন সরকার তার আদর্শের জায়গা থেকে সরে এসে ব্যক্তি সুখ নিয়ে ইয়েলো সাংবাদিকতা শুরু করে। সুপ্রিয়াকে নিয়ে পড়ে থাকে আমোদে-প্রমোদে। অন্যদিকে মিলন সরকারের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে জনার্দন, কপিল, ইউনুছ প্রাণ হারায়। কিন্তু মিলন সরকারের নতুন সমাজ গড়ার যে প্রত্যয় তা লোভ নামক ইন্দ্রীয়ের যাঁতাকলে পড়ে মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে চালায়। সুপ্রিয়াকে বিয়ের প্রলোভনে ফেলে চলতে থাকে তার কাজ। কিন্তু মিলন সরকারকে নিজের কাঠগড়াতে দাঁড়াতেই হয়। তার স্বপ্নদৃশ্যের মধ্য দিয়ে বিবেক নামক সত্তাটি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। ‘দ্বীপ’ নাটকটি এই যে ক্রান্তিকাল, এই যে অস্থিরতা, এই যে অরাজকতা, এই যে অসাধুতা তারই উত্তর খুঁজতে বেরিয়ে আসে। মানুষ দ্বীপ নয়, নয় কোনো বস্তু। তাই তো এ নাট্যের শরীরজুড়ে মানবিকতার এবং মানবপ্রেমের জয়গানই শোনা গেল। মানুষ পালাবে কিন্তু মানুষ নিজের কাছ থেকে পালিয়ে কোথায় যাবে? এক সময় মিলন সরকারের মতো আমাদেরও কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তখন হয় তো মৃত্যু নামক চির চেনা, চির জানা কিন্তু অনিবার্য মৃত্যু আমাদের নিয়ে যাবে এক গহীন নিকষ কালো অন্ধকারে। সেখান থেকে ফেরার কোনো পথ থাকবে না। নিরাভরন সেট আর আলোর চলনে, আবহ সঙ্গীতের উতলা হাওয়ায় নাট্য কাহিনী এগিয়েছে সমকালীন বাস্তবতায়। ‘দ্বীপ’ নাটকের আলোক পরিকল্পনায় ছিলেন ঠান্ডু রায়হান, মঞ্চ পরিকল্পনায় ফয়েজ জহির, আবহ সঙ্গীতে এ কে আজাদ ও পোশাক পরিকল্পনায় কাজী শিলা।

নাটকটিতে অভিনয়, নির্দেশনা এবং সার্বিক প্রযোজনায় শৃঙ্খলা, মনস্কতা এবং সুঅভিনয়ের স্ফুরণ ছিল।

একই সময়ে শিল্পকলা একাডেমি মুল মিলনায়তনে ত্রিপুরার শুভম নাট্যচক্রের ‘অন্তর্গত আগুন’ এবং পরীক্ষণ থিয়েটার হলে শিলচর আসাম এর ভাবিকাল থিয়েটারের ‘হানোয়া কা বেটা’ মঞ্চস্থ হয়।