আবারও কানাডায় জয়ী জাস্টিন ট্রুডো

আগের সংবাদ

ভোলার ঘটনা ধর্মান্ধদের মদদ

পরের সংবাদ

ক্রিকেটারদের ১১ দাবি

বিসিবিকে সমাধান দিতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২২, ২০১৯ , ৯:৩৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০১৯, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বাড়ানো, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা, খেলার মান বাড়ানো, ক্রিকেটারদের প্রতি বিসিবির দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোসহ ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘট ডাকলেন দেশের ক্রিকেটাররা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করবেন না তারা। গত সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন ডেকে সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটালেন সাকিব-তামিমরা। বিভিন্ন সময়ে নিজেদের নানা ন্যায্য দাবি-দাওয়ার কথা বোর্ডকে জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু গুরুত্ব দেয়নি বিসিবি। ফলে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমা হয়েছিল। নিরুপায় হয়ে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে ৬০ জন ক্রিকেটারের উপস্থিতিতে ১১ দফা দাবি তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন ডেকে ধর্মঘটের ডাক দেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। বিসিবির নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, দেশের ক্রিকেটের নানা অসঙ্গতি, বেতন-ম্যাচ ফি বাড়ানো, বিপিএলে ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রথা ফিরিয়ে আনা, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন তারা। বিসিবি তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত ম্যাচ অনুশীলন থেকে শুরু করে ম্যাচ খেলাসহ সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেয়া হয়। ক্রিকেটারদের দাবিগুলো খুবই যৌক্তিক বলে মনে করছি। দেশবাসীও তাদের দাবি-দাওয়ার সঙ্গে একমত। এই খবর বিশ্ব মিডিয়া গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করায় চাপে পড়েছে বিসিবি। দ্রুতই ক্রিকেটারদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করছেন বলে আশ্বস্ত করেছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী। ইতোমধ্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সমস্যা সমাধানে বিসিবিকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধানে গতকাল মঙ্গলবার বিসিবি জরুরি বৈঠকে বসে। পরে বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবিতে ডাকা ধর্মঘটের বিষয়টিকে চক্রান্ত বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের দাবি পূরণ করতে কোনো আপত্তি নেই। এখন দেখার বিষয়, দাবি পূরণে বিসিবির আগ্রহ কতটা বাস্তবায়িত হয়। নিজেদের দাবি-দাওয়া আদায়ে ক্রিকেটারদের আন্দোলন নতুন কিছু নয়। এর আগেও দুবার আন্দোলনে নেমেছিলেন ক্রিকেটাররা। ২০০১ সালে মাঠ এবং খেলার দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে ক্রিকেট খেলে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। ২০০৯ সালে বিসিবির কয়েকজন পরিচালকের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে এক হয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। তবে এবারের আন্দোলনের গভীরতা বেশি। ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ গর্বের একটি নাম। ক্রিকেটাররা তাদের অনুশীলন ও মেধা দিয়ে বিশ্ব দরবারে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তাদের কারণে দেশ সুনাম অর্জন করেছে। অথচ তাদের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে জমে ওঠা অসন্তোষ দুঃখজনক। সমস্যাটি অভ্যন্তরীণ হলেও এতদিন ধরে চলে আসা সমস্যার সমাধান বিসিবি কেন করেনি তা খতিয়ে দেখা জরুরি। আমরা চাই ক্রিকেটারদের দাবিগুলো অবিলম্বে মেনে নিয়ে সমস্যা সমাধানে আন্তরিক হবে ক্রিকেট বোর্ড। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে ভারত-বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর কথা রয়েছে। এরপর ১৪ নভেম্বর থেকে টেস্ট সিরিজ খেলবে দুই দল। কিন্তু এই ধর্মঘটের জের ধরে আসন্ন দুটি সিরিজই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অনিশ্চয়তা কাটাতে এই সময়ের আগেই যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে বিসিবিকে সমাধান করতে হবে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা