শিক্ষিতরা কেন ট্রাফিক আইন মানেন না, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

আগের সংবাদ

বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন

পরের সংবাদ

উত্তরাঞ্চলে মরুকরণ ঠেকাচ্ছে আউশ আবাদ

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২২, ২০১৯ , ১২:৫৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০১৯, ২:০৮ অপরাহ্ণ

Avatar

তিস্তায় পানিশূন্যতাসহ অর্ধশতাধিক নদী মরে যাওয়ার কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলে মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দিন দিন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। সেচ নির্ভর বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কিত গোটা উত্তরাঞ্চলের চাষীরা। এ পরিস্থিতিতে আশার আলো নিয়ে এসেছে আউশ ধান চাষ। বৃষ্টিনির্ভর আউশ চাষে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে।

আউশ চাষীরা বলছেন, আউশ ধান বৃষ্টিনির্ভর হওয়ায় সেচ বাবদ কৃষকের উৎপাদন খরচ অনেক কমে গেছে। তেমনি ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহারও দিন দিন কমছে। আউশ ধান চাষ করতে কোনো সেচ দিতে হয় না। বৃষ্টির পানি দিয়েই চাষ করা যায়। অতিরিক্ত পানির প্রয়োজন হয় না। সেই সঙ্গে আউশ ধান ক্ষেতে ধঞ্চে গাছ রোপণ করলে সেখানে পাখি এসে বসে। ফলে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আউশ আবাদে রাসায়নিক সার-কীটনাশকসহ অন্যান্য খরচও হয় অনেক কম। সেই সঙ্গে মাত্র ৯০ দিনে প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকরা অতিরিক্ত ১৬ থেকে ১৮ মণ চাল পাচ্ছেন। ফলে উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা আউশ ধান চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। এতে করে ব্যাপক সাড়াও মিলেছে কৃষকদের কাছ থেকে। ফলে গত এক বছরে জেলায় চালের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১১ হাজার টন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সরওয়ারুল আলম জানান, কম পরিমাণে রাসায়নিক সার ব্যবহার ও সেচ ছাড়াই আউশ ধান আবাদ হওয়ায় রংপুর অঞ্চলে আউশ চাষে কৃষক উৎসাহিত হচ্ছেন, যা খুবই ভালো লক্ষণ। সেই সঙ্গে ব্রি-৪৮ এর মতো আরো উন্নত জাত উদ্ভাবন করা হলে আউশ চাষে কৃষক উৎসাহিত হবেন।

মূলত, বছরের এপিলের শেষ সময় থেকে মে, জুন, জুলাই মাসে আউশের আবাদ হয়ে থাকে। সে হিসাবে চলতি ২০১৮-১৯ মৌসুমে রংপুরে আউশের আবাদ হয়েছে ২৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের চেয়ে ৩ হাজার ৫০ হেক্টর বেশি। এবার রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় আউশ আবাদ হয় প্রায় ৫৪ হাজার হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া সরকারিভাবে আউশ প্রণোদনার আওতায় ৪ হাজার ৫৫১ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়।

অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুরে এ বছর মেট্রোপলিটন এলাকায় আউশ আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে। চাল উৎপাদন হয়েছে ৭৪ হাজার ১৩১ টন। অথচ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬৭ হাজার ৪৯৫ টন।

গত বছর ২০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমির ধান থেকে চালের উৎপাদন হয়েছিল ৬৩ হাজার ১৪৩ টন। অর্থাৎ ১ বছরে আউশের উৎপাদন বেড়েছে ১০ হাজার ৯৮৮ টন চাল। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম জেলায় ৮ হাজার ৪১০, গাইবান্ধা জেলায় ১০ হাজার ৬৩০, লালমনিরহাট জেলায় ১১ হাজার ২৫ ও নীলফামারী জেলায় ১ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়েছে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা