৪২ বছরে লেবার পার্টি

আগের সংবাদ

ইলিশ রক্ষা অভিযান ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

পরের সংবাদ

ফের ফেসবুক গুজব

সাম্প্রদায়িক তাণ্ডবে রুখতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২১, ২০১৯ , ৮:৩০ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৯, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ

Avatar

ফের ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর পোস্টের সূত্র ধরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে ভোলার বোরহানউদ্দিনে। গত রবিবার ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের বিচারের দাবিতে তৌহিদী জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ থেকে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে এক কিশোরসহ চারজন নিহত হয়েছে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে উত্তেজিত জনতা বোরহানউদ্দিন বাজারে ভাওয়ালবাড়ির একটি মন্দির ও সাতটি ঘর ভাঙচুর করে। এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার নজির রয়েছে। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার জেলার রামুতে হামলা চালিয়ে লুটপাটসহ ১২টি বৌদ্ধমন্দির ও ৩০টি বাড়িতে আগুন দেয়া হয়। ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে রসরাজ নামে এক মৎস্যজীবীর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ এনে লোকজনকে ক্ষেপিয়ে তুলে ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলা চালানো হয়। জানা গেছে, ভোলার বোরহানউদ্দিনের স্থানীয় বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের ফেসবুক থেকে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির একটি স্ক্রিনশট ভাইরাল হলে দুদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ বলছে, বিপ্লব নামের ওই যুবকের হ্যাক হওয়া আইডি থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বক্তব্য ছড়ানোর ঘটনা থেকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিশিষ্টজনরা এই হামলাকে উগ্র মৌলবাদীদের কাজ বলে মনে করেন। আবার অনেকেই এ হামলাকে সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের নতুন সংস্করণ বলে মনে করছেন। এসব হামলার মাধ্যমে হিন্দু এবং মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতি আমাদের দেশ ও রাষ্ট্রের একটি ভয়ঙ্কর অবস্থা আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। যা আমাদের জন্য ভীষণ নেতিবাচক। ভোলার ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে এবং যারা হ্যাক করে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টে স্ট্যাটাস দিয়েছিল তারা সবাই আগেই আটক হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং বিচারের মুখোমুখি করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। তারপরেও কেন জনগণ এভাবে উত্তেজিত হয়ে উঠল এবং এ রকম পরিস্থিতি তৈরি করে দেশের মধ্যে বড় কোনো নাশকতার পরিকল্পনা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার। একের পর এক এ ধরনের ঘটনা থেকে সহজেই ধারণা করা যায় যে, একটি উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী সারাদেশে সক্রিয়। প্রশাসনের সে সম্পর্কে আরো বেশি তৎপর হতে হবে। ভোলার ঘটনায় সরকারের এখন উচিত সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিচারাধীন করা। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে না পারলে বাংলাদেশে মিলেমিশে বসবাসের যে সংস্কৃতি তা বাধাগ্রস্ত হবে এবং মানুষের জীবনযাপনের স্বাভাবিকতা হারাবে। ভোলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনা হোক।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা