মেননের বিস্ফোরক মন্তব্যের পেছনে হতাশা না অন্য কিছু

আগের সংবাদ

কাউন্সিলর রাজীবের টাকার পাহাড়!

পরের সংবাদ

সম্রাট-খালেদের মুখে মেননের নাম

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২১, ২০১৯ , ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৯, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ

Avatar

জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। যাদের ম্যানেজ করে ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজি ও দখলসহ নানা অপকর্ম চালাতেন তাদের নাম অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।
এবার সম্রাটের মুখে উঠে এসেছে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও ঢাকার সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেননের নাম। মাসিক হারে সাবেক এ মন্ত্রীকে টাকা দিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাতেন বলে জানান তিনি। যুবলীগের বহিষ্কৃত আরেক প্রভাবশালী নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াও একই তথ্য দিয়েছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে তার সহযোগী আরমানকে ফের রিমান্ডে নেয়া হবে বলে জানায় র‌্যাব।
ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে গত ১৮ সেপ্টেম্বর অবৈধ ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চালানোর পর ক্যাসিনোকাণ্ডে সুবিধাভোগী হিসেবে রাশেদ খান মেননের নাম আসে। ইয়ংমেনস ক্লাবের চেয়ারম্যান পদে আছেন মেনন। আর এখানে ক্যাসিনো চালাতেন যুবলীগ নেতা খালেদ। অবশ্য এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন সাবেক এই মন্ত্রী।
তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যুবলীগের আটক দুই নেতা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ক্যাসিনোসহ নানান অপকর্মের জন্য রাশেদ খান মেননকে ৪-৫ লাখ টাকা প্রতি মাসে দিতেন তারা। গত নির্বাচনে নির্বাচনী খরচের নামে ৭০ লাখ টাকা নেন তিনি। পরে আরো ২০ লাখ টাকা দাবি করেন মেনন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সম্রাট এখন ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের দায়িত্ব পাওয়া র‌্যাবের হেফাজতে রয়েছেন।
রাশেদ খান মেনন ছাড়াও যুবলীগের আরো বেশ কয়েকজন নেতার নাম বলেছেন সম্রাট। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাওসার। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পরই মোল্লা কাওসার দেশ ছাড়েন। এ ছাড়া ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে জড়িত আরো বেশ কয়েকজন বড় মাপের রাজনীতিক দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে মেননের নাম আসা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট নানা তথ্য দিয়েছেন ও দিচ্ছেন। তথ্য পেয়ে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। ক্যাসিনোর সঙ্গে যারাই জড়িত ছিলেন তাদের সবাইকে আইনের মুখোমুখি করা হবে। সে ক্ষেত্রে তার পরিচয় মুখ্য বা বিবেচ্য নয়।
র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, সম্রাটের অন্যতম সহযোগী আরমানের আজ সোমবার রিমান্ড শেষ হচ্ছে। তার কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থের লেনদেনের বিষয়টি তিনি দেখতেন। এ নিয়ে নানা তথ্য দিয়েছেন তিনি। আমরা তা যাচাই করে দেখছি। সম্রাটের অন্যতম সহযোগীকে আরমানকে তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে আনা হবে।
র‌্যাবের এ মুখপাত্র আরো বলেন, টেন্ডার, চাঁদাবাজি, সিটি করপোরেশনের দোকান, সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো ও অস্ত্র থাকার নানা অভিযোগ আমরা শুনেছি। সম্রাটকে ধাপে-ধাপে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ছাড়া তার অস্ত্রের উৎস বা তার কাছে আর অস্ত্র রয়েছে কিনা বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তবে অস্ত্রের বিষয়টি প্রাধান্য দিচ্ছি আমরা।