কাউন্সিলর রাজীবের টাকার পাহাড়!

আগের সংবাদ

ম্যাচ ফি নিয়ে আপত্তি সাকিবের

পরের সংবাদ

মহাশূন্যে হাঁটাহাঁটি করে ইতিহাস গড়া দুই নারী

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২১, ২০১৯ , ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৯, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

Avatar

ঘন অন্ধকার চারপাশে। মহাকাশচারীর পোশাকে থাকা বিশেষ আলোয় দেখা যাচ্ছে, স্পেস স্টেশনের গায়ে লাগানো রয়েছে বিশেষ হ্যান্ডল। সেটা ধরে মহাশূন্যে একটু একটু করে এগিয়ে চলেছে ক্রিস্টিনা কোখ ও জেসিকা মেয়ার নামে নাসার দুই নারী নভোচারী। গত শুক্রবার ইতিহাস গড়েছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসার এই দুই নারী। এই প্রথম ‘স্পেসওয়াক’ করল পৃথিবীর কোনো নারী। এই দৃশ্য লাইভ-স্ট্রিমিংয়ে বিশ্বজুড়ে প্রচার করল নাসা। মিশন কন্ট্রোল রুম থেকে নভোচারীদের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায় আরও এক নারীকে। অনেকেই জানতে চান, তিনি কে। পরে নাসা টুইট করে জানায়, নারী কণ্ঠটি মহাকাশচারী স্টেফানি উইলসনের। ৪২ দিন মহাশূন্যে কাটিয়ে এসেছেনতিনি।
পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা বাসযোগ্য স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে’ কোনো যান্ত্রিক ত্রু টি ধরা পড়লে সেখানে থাকা গবেষকেরাই তা মেরামত করেন। মহাকাশচারীর পোশাক পরে স্পেস স্টেশনের বাইরে বেরিয়ে মহাশূন্যে নেমে যন্ত্রপাতি সারাতে হয়। মহাশূন্যে এই হাঁটাকেই বলে স্পেসওয়াক। গত অর্ধশতকে এমন অন্তত ৪২০টি স্পেসওয়াক হয়েছে। কিন্তু সব অভিযাত্রীদলে সব সময়ই থেকেছেন কোনো না কোনো পুরুষ। এবার তার ব্যতিক্রম ঘটল ৪২১তম স্পেসওয়াকে। কেপ ক্যানাভেরালের স্থানীয় সময় গত শুক্রবার সকাল ৮টা নাগাদ মহাশূন্যে বেরিয়ে আসেন ক্রিস্টিনা ও জেসিকা। ওই মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্রের ব্যাটারি চার্জার বা বিসিডিইউর একাংশ বিকল হয়ে গিয়েছিল। স্টেশনের সৌর প্যানেল থেকে কতটা বিদ্যুৎ ব্যাটারি ইউনিটে যাবে, সেটা নিয়ন্ত্রণ করে এই অংশটি। বিকল অংশ সারাতে অন্তত পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে দুই নারীর।
গত সপ্তাহে ক্রিস্টিনা ও তার এক পুরুষ সহকর্মী ওই ইউনিটেই নতুন ব্যাটারি লাগান। কিন্তু সেখানে আরও কিছু বদলের প্রয়োজন ছিল। তখনই নাসা সিদ্ধান্ত নেয়, পূর্বপরিকল্পিত নারী দলের স্পেসওয়াক শুক্রবারই হবে। এই মুহূর্তে স্পেস স্টেশনের বাসিন্দা চারজন পুরুষ বিজ্ঞানী কেন্দ্রের ভেতর থাকবেন। ব্যাটারি চার্জার ইউনিট সারাতে স্পেসওয়াক করবেন দুই নারী। ক্রিস্টিনার অবশ্য এটি চতুর্থ স্পেসওয়াক, তবে জেসিকার এবারই প্রথম।
সাত মাস আগে নারী দলের এই স্পেসওয়াকের পরিকল্পনা করে নাসা। কিন্তু এর পরই আবার ঘোষণা, ইচ্ছা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না নাসার পক্ষে। কারণ নারী নভোচারীর পোশাক কম পড়েছে। দুজনেরই ‘মিডিয়াম’ মাপের পোশাক প্রয়োজন। এ সময়ে হিলারি ক্লিনটন টুইট করেন, তা হলে নতুন পোশাক তৈরি করা হোক। সাবেক ফার্স্ট লেডির কথা রেখে নারী নভোচারীর জন্য নতুন পোশাক তৈরি করে নাসা।
এর আগে ৪২০ বার স্পেসওয়াক হয়েছে, ৫৬০ জনেরও বেশি মানুষ মহাকাশে গিয়েছেন। কিন্তু এসব অভিযানে নারীর সংখ্যা মাত্র ৬৫। প্রায় অর্ধ শতকের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী-দল মহাশূন্যে স্পেসওয়াক করল। বিশেষজ্ঞরা জানান, পুরুষ ও নারীর ঘাম হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একজন সুস্থ নারীর তুলনায় পুরুষ ঘামেন বেশি। মহাশূন্যে নভোচারীদের দেহ ঠাণ্ডা রাখতে পোশাকে ‘ভেন্টিলেশন ও কুলিং সিস্টেম’ থাকে। সাধারণত এই পোশাকগুলো পুরুষ দেহের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। তাই নারী নভোচারীর পোশাক কম পড়েছিল। আর সে কারণেই সাত মাসের বিলম্ব। সূত্র আনন্দবাজার।