সাম্প্রদায়িক তাণ্ডবে রুখতে হবে

আগের সংবাদ

বোরো-ইরির পর আমনের মূল্য নিয়ে সংশয়

পরের সংবাদ

ইলিশ রক্ষা অভিযান ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২১, ২০১৯ , ৮:৩২ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৯, ৭:৫০ অপরাহ্ণ

Avatar

ইয়াসিন আযীয

লেখক ও কবি, শরীয়তপুর

আগের বছরগুলোর মতো এবারো ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ সম্পর্কিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ সময়ে ডিম পাড়ে ৮০ শতাংশ ইলিশ। আর ইলিশ ডিম পাড়ে মূলত মিঠাপানিতে। তাই আশ্বিনের পূর্ণিমার চারদিন আগে এবং পূর্ণিমার পর ১৮ দিন মোট ২২ দিন দেশের উপকূলীয় অঞ্চল, নদীর মোহনাসহ যেসব জেলা ও নদীতে ইলিশ পাওয়া যায়, সেখানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। এই সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ। তাই এ ধরনের সমস্ত কাজ বেআইনি বলে গণ্য হবে।

পুলিশি অভিযান এবং প্রশাসনের তৎপরতার ফলে মাছসহ আটক, জেল-জরিমানা, জাল ও নৌকা জব্দ, কারেন্ট জাল পুড়িয়ে দেয়া ইত্যাদির খবর প্রতিদিনই (প্রতি বছরের মতো এবারো) চোখে পড়ছে। পাশাপাশি অভিযানের সময় স্থানীয় লোকদের সহায়তায় জেলেরা প্রশাসনের লোকদের চোখের ওপর টর্চের আলো ফেলে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে অভিযান পণ্ড করে দেয়াসহ কখনো কখনো আক্রমণের খবরও পাওয়া গেছে। তবে সম্প্রতি শরীয়তপুরে মোটরসাইকেলে ইলিশ মাছ পরিবহনকালে তিনজন পুলিশকে জনতা হাতেনাতে আটক ও সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়। এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, অসাধু ক্ষমতাশীলরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন জনগণ সচেতন হলে এসব রুখে দেয়া সম্ভব।

দেশের মৎস্য খাতের অন্যতম সাফল্য হচ্ছে ইলিশের উৎপাদন বেড়ে যাওয়া। ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে জাটকা ধরা বন্ধ করা এবং নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ ধরা বন্ধ করার কারণে ধারাবাহিকভাবে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে। মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত বছর দেশে ইলিশের উৎপাদন হয়েছিল ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। এবার তা আরো বেড়ে সাড়ে পাঁচ লাখ টনে পৌঁছাবে বলে ধারণা করছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা, যা বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৫ শতাংশ। এতদিন দেশে ইলিশের প্রজননের জন্য চারটি অভয়াশ্রম ছিল। চলতি বছরের মার্চ থেকে এ সংখ্যা বাড়িয়ে পাঁচটি করা হয়েছে। বরিশালের হিজলা থেকে মেহেন্দিগঞ্জ পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৩১৮ কিলোমিটার এলাকাকে সরকার গত মার্চ থেকে অভয়াশ্রম হিসেবে কার্যকর করে। এ ছাড়া চলতি বছর বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ করায় ইলিশ বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ফলে এ বছর দেশে বড় ইলিশের সংখ্যাও বেড়েছে। এদিকে সাত বছর পর বাংলাদেশ থেকে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে এ বছর পশ্চিমবঙ্গে। ইলিশ উৎপাদনে এ সাফল্য ও রপ্তানি সবই সম্ভব হয়েছে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার কারণেই।

এ সাফল্য ধরে রাখতে হলে সবার আগে দরকার আমাদের সবার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। এ ছাড়াও বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত অভিযান বাড়িয়ে প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়ার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। জেলেদের হতে হবে সচেতন আর সরকারের পক্ষ থেকে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি এই সময়টায় জেলেদের পর্যাপ্ত রেশনিংয়ের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা বৃদ্ধি করতে হবে। এ ছাড়া খাদ্য সহায়তায় ওজনে কম দেয়াসহ সব ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। কারণ অনেক সময় জেলেরা পেটের দায়ে, কিস্তি এবং মহাজনের দাদনের টাকা পরিশোধের জন্য নদীতে জাল ফেলতে বাধ্য হয়। অপরদিকে ভারতীয় জেলেরা প্রতি বছর এই সময়টায়- বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে ইলিশ ধরে নিয়ে যায়। তারা যেন এটা করতে না পারে সে জন্য নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড এবং নৌ-পুলিশকে সম্পৃক্ত করতে হবে। পাশাপাশি এ ব্যাপারে সরকারকে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নিতে হবে।

লেখক ও কবি, শরীয়তপুর।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা