নিখোঁজের ৮দিন পর এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার

আগের সংবাদ

বোরহানউদ্দিনের সেই বিপ্লব বৈদ্য কারাগারে

পরের সংবাদ

আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হলেন আনোয়ারা-রঞ্জিত

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২১, ২০১৯ , ১০:৪৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০১৯, ৭:০৮ অপরাহ্ণ

Avatar

জমকালো আয়োজনে সোমবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ অনুষ্ঠিত হলো টিএম ফিল্মস নিবেদিত ‘ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসের (বিবিএফএ) প্রথম আসর। বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রী মিলনায়তন যেন দুই বাংলার তারার মেলা বসেছিল। সন্ধ্যা হতেই মিলনায়তন একে একে হাজির হতে থাকেন জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। এছাড়া ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের তারকা প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, জিৎ, আবির চ্যাটার্জি, তনুশ্রী দত্ত, পরমব্রত, পাওলি দাম, বাংলাদেশ থেকে মৌসুমী, ওমর সানি, জয়া আহসান, বিদ্যা সিনহা মিম, নুসরাত ফারিয়া, পরীমনি, ইমন, নিরব, তাসকিন, সিয়াম, পূজা চেরিসহ অনেক তারকা।

ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া ও বসুন্ধরা গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানটি। শুরুতে টিএম ফিল্মসের চেয়ারপারসন ফারজানা মুন্নী বলেন, ‘দুই বাংলার সেরা শিল্পীদর সম্মান জানাতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। দুই বাংলায় চলচ্চিত্রে এখন সংকট চলছে, ঠিক এই সময় চলচ্চিত্রের পথে পা বাড়িয়েছে আমার টিএম ফিল্মস। নতুন সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলার প্রয়াসে আমরা প্রযোজনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্বপ্ন দেখছি দেশের চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে দেয়ার।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন- বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান, ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সভাপতি ফিরদাউসুল হাসান ও বিবিএফএ-এর সমন্বয়ক তপন রায়। কিছুক্ষণ পর মাইক্রোফোনে ভেসে এলো আজীবন সম্মাননার ঘোষণা। চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখায় বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম ও ভারতের কিংবদন্তি অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়।

আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হয়ে আনোয়ারা বেগম বলেন, “এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান আয়াজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ। দুই বাংলা মিলিয়ে এতো এতো তারকা থাকতে আমাকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হবে এটা আমি কখনো ভাবিনি। সৃষ্টিকর্তার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা।”

রঞ্জিত মল্লিক বলন, “বাইশ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। তাদেরই এ আয়োজন প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজন যেন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে। যৌথভাবে সিনেমা নির্মাণের যে প্রয়াস চলছে, তা যেন আরো বেগবান হয়। আরেকটা কথা না বললেই নয়, আমি পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরেছি, কিন্তু বাংলাদেশ এলে যে আতিথিয়েতা পাই তা পৃথিবীর আর কোথাও পাই না।”

বর্ণাঢ্য এ সন্ধ্যা দুই বাংলার চলচ্চিত্রের রথি-মহারথির মিলনমলায় পরিণত হয়। তারকাদের উপস্থিতিতে ঝলমল সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা একই ভাষায় কথাবলি। আমরা একই পাখির কলতান শুনি। কিন্তু রাজনৈতিক সীমারেখা আমাদের বিভক্ত করেছে। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি জলবায়ু ও কিন্তু একই। আমাদের মধ্যে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান নিশ্চয় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক দৃঢ করবে। এ কারণেই আজকের আয়োজন। এ ধরনের আয়োজন সংস্কৃতি চর্চা চলচ্চিত্র নির্মাণের চর্চার দিক থেকে আমাদের সংস্কৃতিকে আরও বেগবান করবে। চলচ্চিত্র জীবনের কথা বলে, মানুষকে কাঁদায়, হাসায়, চলচ্চিত্র চিন্তার দুয়ার খুলে দেয়। আমার বিশ্বাস এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমাদের সম্পর্ক আরেক নতুন এক মাত্রা উন্মোচন করবে।’

কলকাতার জনপ্রিয় নির্মাতা গৌতম ঘোষ বলেন, ‘সিনেমার যে সময় সেটা আশ্চার্য ম্যাজিক। যেটা এক হাজার বছরের গল্প দু বছরে বলা যায়। পাঁচ মিনিটের গল্প দুই ঘণ্টায় বলা যায়। সিনেমায় আমরা সময়কে সংকুচিত করতে পারি। আবার প্রসারিত করতেও পারি। এক আশ্চার্যজনক মাধ্যমে আমরা কাজ করি। সিনেমা কি সত্যি দুই বাংলার মানুষের মধ্যে প্রীতি ও  মিলন বয়ে আনতে পেরেছে? এটা নিয়ে একটা লেখা আরও আগেই লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সময়ের কারণে হয়ে উঠেনি। সিনেমা আমাদের একত্রিত করে দিবে, মানুষের মধ্যে আর কোনো বিভেদ থাকবে না। সিনেমা যে কাজটা করতে পারে সেটা হলো আমাদের স্মৃতিমালাকে একত্রিত করতে পারে। আর সেই প্রত্যাশাই রইলো।’

পশ্চিমবঙ্গের পর্যটক মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুই বাংলার দারুণ এক সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। আমাদের দুই বাংলার ইতিহাস ও সম্প্রীতি এ আয়োজনের মধ্য আরও দৃঢ হবে। এই ঢাকা শহরে ১৯৬৫ সালে প্রথম চলচ্চিত উৎসবের আয়োজন হয়েছিল। যেখানে সত্যজিৎ রায় উপস্থিত ছিলেন। এই শহরেই আবার তেমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে। এটা বেশ আনন্দের। দুই বাংলার সংস্কৃতিতে একটা সময় অস্থিরতা ছিল। কিন্তু সেটা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দূর হয়ে গিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে তা আরো দৃঢ় হবে। সিনেমা তো শিল্পী, একে চর্চা করতে হয়। এছাড়া তো একে আর সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো পথ নেই। আগে কিন্তু একটা সময় ছিল, ভালো কাজ হলে দুই বাংলাতেই টের পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আর সেটা হয় না। ভালো কাজের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দুই বাংলার জুরি বোর্ডের সদস্য বাংলাদেশের চিত্রনায়ক আলমগীর, কবরী, ইমদাদুল হক মিলন, খোরশেদ আলম খসরু ও হাসিবুর রেজা কল্লোল।

অন্যদিকে, ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন গৌতম ঘোষ, ব্রাত্য বসু, গৌতম ভট্টাচার্য, অঞ্জন বোস ও তনুশ্রী চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতায় আছে ভারতের জি-বাংলা ও বাংলাদেশের ইস্টওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে আছে এটিএন বাংলা ও গানবাংলা টেলিভিশন। ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে আছে ওয়ান মোর জিরো। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন কলকাতার মীর আফসার আলী ও শাহরিয়ার নাজিম জয়।