শিরোনামহীনের গান গাইতে বাধা নেই তুহিনের

আগের সংবাদ

বুবলীকে শোকজ, প্রক্সি পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

পরের সংবাদ

কাশ্মীর সীমান্তে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২০, ২০১৯ , ৫:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০১৯, ৫:০৮ অপরাহ্ণ

Avatar

ভারত – পাকিস্তান বিতর্কিত কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে একে অপরকে দোষারোপ করছে। এই ঘটনায় দু’পক্ষেরই সেনা ও বেসামরিক লোক নিহত ও আহত হচ্ছে।

এ বছরের ৫ আগস্টে নয়াদিল্লিতে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাকে প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তঃসীমান্তে গুলি চালানো হয়।

ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, শনিবার ( ১৯ অক্টোবর) গভীর রাতে উত্তর কাশ্মীরের টংধর অঞ্চলে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারী গোলাবর্ষণ করা হয়, এতে দু’জন ভারতীয় সেনা ও একজন বেসামরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর ভারতের আক্রমনের কারণে তাদের এক সেনা ও তিন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় ইসলামাবাদ হুঁশিয়ারি জানিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয় কাশ্মীরের মর্যাদা পরিবর্তন করায় ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। কিন্তু ভারত অমত প্রকাশ করে বলেছে, বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এই অঞ্চলটির দ্রুত অর্থনৈতিক বিকাশের লক্ষ্যে এটি করা হয়।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অবিচ্ছিন্ন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ভারতীয় প্রতিরক্ষা মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া। তিনি বলেন, আমাদের সেনারা শক্তিশালী পাল্টা জবাব দিয়ে শত্রুদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত করে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যদি ভারতে প্রবেশ করে এভাবে আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীও তাদের যেকোন সময় যেকোন স্থানে তাদের প্রতিক্রিয়া দেওয়ার অধিকার রাখে।

এরই মধ্যে পাকিস্তানও দাবি করেছে যে ভারতের আক্রমণটি বিনা প্রতিরোধে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লোকদের লক্ষ্য করে করা হয়েছিল। পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গাফুর বলেছেন, পাকিস্তান “কার্যকরভাবে” প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল, যাতে ৯ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে, বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে এবং ২ টি বাঙ্কার ধ্বংস হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী সর্বদা একটি উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া পাবেন।

পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীর অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দার বলেছেন, কাশ্মীর অঞ্চলে ভারতীয় বাহিনী ক্ষেপে গিয়ে বেসামরিক মানুষকে হত্যা ও আহত করছে। তিনি টুইট বার্তায় লিখেছেন “এটি বর্বরতার উচ্চতায়। বিশ্বকে অবশ্যই এ নিয়ে চুপ করে থাকলে হবে না।  #কাশ্মিরনিডস এটেনশন।”

১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই কাশ্মীর দুই পারমাণবিক-সশস্ত্র প্রতিবেশীর মধ্যে বিতর্কিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ৫ আগস্ট ভারত সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরের ওপর থেকে বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়। তারপর থেকেই সীমান্তে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে দু’দেশের সেনাবাহিনী। একে অপরের বিরুদ্ধে বার বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। দু’পক্ষের সংঘর্ষে দু’দেশের সেনাবাহিনী ছাড়াও বেসামরিক হতাহতের ঘটনা বেড়েই চলেছে।