ডলার সংকটের পেছনে ৯ ব্যাংকের কারসাজি

আগের সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু কর্ণার উদ্বোধন

পরের সংবাদ

সুদিনে ফিরছে ফুটবল

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সমকক্ষ বাংলাদেশ

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৯, ২০১৯ , ১২:৩২ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১৯, ২০১৯, ১২:৩২ অপরাহ্ণ

Avatar

শিরোনাম দেখে অনেকে অবাক হয়েছেন নিশ্চয়ই? না অবাক হওয়ার কিছু নেই। এ বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাফল্যের দিক থেকে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সঙ্গে সমানতালে পাল্লা দিয়েছেন জামাল ভূঁইয়ারা। মাত্র কিছু দিন আগে সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারতের দেড়শ কোটি মানুষের মনে হারের কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল জেমি ডের শিষ্যরা। বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিল ৫ বার আর আর্জেন্টিনা ২ বার বিশ^কাপ জিতলেও এক বারও বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের বাধা পার হতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। যারা বিশ্বকাপের চৌহুদ্দিতে প্রবেশ করতেই পারেনি, তারা কীভাবে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সঙ্গে তুলনায় যায়? এ প্রশ্ন জাগাই স্বাভাবিক। চলতি বছর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে।

এর মধ্যে ৪টিতেই জিতেছে জামাল ভ‚ঁইয়ারা। জয়ের হার পুরোপুরি ৫০ শতাংশ, যা পেলে-নেইমারের ব্রাজিলের জয়ের সমান। তবে বাংলাদেশ-ব্রাজিলের থেকে একটু এগিয়ে ম্যারাডোনা-মেসির আর্জেন্টিনা। সাদা-আকাশি জার্সিধারীদের জয়ের হার বাংলাদেশের চেয়ে ৩.৮৪ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ৮টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। জিতেছে ৪ ম্যাচ, ২ হার ও ২ ড্র। সব মিলিয়ে জয়ের হার ৫০ শতাংশ। এবার আসা যাক লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তির পারফরমেন্সের দিকে। এ পর্যন্ত ১৩টি ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা। জিতেছে ৭ ম্যাচ, হার ৩টি ও ড্র করেছে বাকি ৩ ম্যাচে। এ বছর জাতীয় দলের হয়ে লিওনেল মেসিদের জয়ের হার ৫৩.৮৪ শতাংশ। অন্তত পরিসংখ্যান বলছে জয়ের হারে আর্জেন্টিনার চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ।

ব্রাজিল চলতি বছরের এ পর্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ও প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলেছে আর্জেন্টিনার চেয়ে। ১৪টি ম্যাচ খেলেছে তিতের দল। এর মধ্যে জয়ের মুখ দেখেছে ৭ ম্যাচে। ড্র করেছে ৬ ম্যাচ। বাকি ১ ম্যাচে হেরেছে। অর্থাৎ ব্রাজিলের জয়ের হার ৫০ শতাংশ, যা বাংলাদেশের সমান। সাফল্যের এ হার প্রমাণ করে বাংলাদেশের ফুটবল ধীরে ধীরে হারানো ছন্দ ফিরে পাচ্ছে। একসময় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলা হলে গ্যালারি কানায় কানায় ভরা থাকত। মাঝে বেশ কয়েক বছর গ্যালারিতে দর্শক খরা গেলেও সম্প্রতি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কাতারের বিপক্ষে ম্যাচে গ্যালারি ছিল ভরপুর। কাতারের বিপক্ষে জামাল ‍ভূঁইয়ারা হারলেও ২০২২ সালের বিশ^কাপের আয়োজকদের বিপক্ষে নান্দনিক ফুটবল শৈলী প্রদর্শন করে সমর্থকদের মন ভরিয়ে দেয়। ১০ অক্টোবর কাতারের বিপক্ষে হারলেও ১৫ অক্টোবর বিশ^কাপ বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে জেমি ডের শিষ্যরা ১৫ কোটি মানুয়ের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

এ বছরের মার্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা ইংলিশ কোচ জেমি ডের অধীনে কম্বোডিয়ার মুখোমুখি হওয়ার মাধ্যমে অভিযান শুরু করেন। প্রতিপক্ষের মাঠে সেই প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলের জয় পায় জামাল ভূঁইয়ারা। এরপর গত জুনে বিশ^কাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে লাওসের মাঠ থেকেও একই ব্যবধানের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে ফিরতি লেগটি গোলশূন্য ড্র হয়। সেপ্টেম্বরে বিশ^কাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাই পর্বে তাজিকিস্তানে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ১-০ গোলের হার নিয়ে ফিরতে হয় জাতীয় দলকে। সে মাসেরই ২৯ সেপ্টেম্বর ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ৪-১ গোলের জয় পায় বাংলাদেশ। এরপর এ মাসের শুরুর দিকে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে ২-০ গোলের জয় তুলে নেন জেমি ডের শিষ্যরা। এক সময় এ ভুটানের বিপক্ষে হেরে প্রায় ৩ বছর নির্বাসনে ছিল বাংলাদেশের ফুটবল। সেই ভুটানকে ২ ম্যাচে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয় জামাল-রানা।

বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাই পর্বে গত ১০ অক্টোবর এশিয়ার সেরা দল কাতারের মুখোমুখি হয়ে ২-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। এ ম্যাচে হারলেও জেমি ডের শিষ্যরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের ফলাফল অন্য রকম হতে পারত। ১৫ অক্টোবর র‌্যাঙ্কিংয়ে ৮৩ ধাপ এগিয়ে থাকা ভারতের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাই পর্বের এ ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেতে পেতেও জয় বঞ্চিত হয়েছে। ভাগ্য সঙ্গে না থাকলে যা হয়। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে একটি শট ক্রসবারে লেগে ফেরত না এলে ব্যবধান তখন দ্বিগুণ হতো। গোল পোস্টের বল প্রবেশের আগে দৌড়ে গিয়ে আদিল খান তা রক্ষা না করলে বাংলাদেশ তখন তিন গোলে এগিয়ে যেত। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হলে পুরো খেলায় একচেটিয়া অধিপাত্য বিস্তার করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এসব ঘটনা বাংলাদেশের ফুটবল যে সুদিনে ফিরছে- তারই ইঙ্গিত।