ডার্ক ওয়েবে শিশুপর্নো, ১৩ দেশে গ্রেপ্তার ৩৩৭

আগের সংবাদ

পাসপোর্ট শুধু চার রঙা হয় যে কারণে

পরের সংবাদ

পুলিশের ‘ভুল’, ১৮ বছর পর মামলা থেকে রেহাই

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৮, ২০১৯ , ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১৮, ২০১৯, ১২:০৯ অপরাহ্ণ

Avatar

পুলিশের ভুল প্রতিবেদনের দায়ে দীর্ঘ ১৮ বছর পর নির্দোষ বাবলু শেখকে মামলা থেকে রেহাই ও মামলার ২ তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং তৎকালীন ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। সেই সঙ্গে মামলার মূল আসামি সিংড়া থানার শ্রী বাবুর বিরুদ্ধে পুনরায় সাজা পরোয়ানা দাখিল ও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সিদ্দিক এ আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০১ সালের ১৫ এপ্রিল নাটোর সদর উপজেলার গাঙ্গইল গ্রামে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় কাজী আবদুল মালেক বাদী হয়ে শ্রী বাবুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ৩ নম্বর আসামি ছিলেন শ্রী বাবু। তৎকালীন সদর থানার উপপরিদর্শক মমিনুল ইসলাম এবং হেলেনা পারভীন শ্রী বাবুকে অভিযুক্ত করে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। কিন্তু ২০০২ সালের ৭ নভেম্বর শ্রী বাবুর পরিবর্তে সিংড়া উপজেলার আঁচলকোট গ্রামের বাবলু শেখকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে এলে যুক্তিতর্ক শেষে ২০১৬ সালের ২৩ জুন মুখ্য বিচারিক হাকিম মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী আসামি বাবুর বিরুদ্ধে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডদেশ দেন। ওই দিন কাঠগড়া থেকে বাবলু শেখকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরে তিনি ১৬-০৮-১৬ তারিখে আপিলের মাধ্যমে জামিনে বের হন। এ বিষয়ে নাটোর দায়রা আদালতে আপিল করা হলে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাইফুর রহমান সিদ্দিকের আদালতে মামলাটি বিচারের জন্য প্রেরিত হয়। মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ শেষে বিচারক গতকাল বৃহস্পতিবার বাবলু শেখকে মামলা থেকে মুক্তির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মমিনুল ইসলাম ও এসআই হেলেনা পরভীন সঠিকভাবে তদন্ত না করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নাটোরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়ে রায়ের কপি আইজিপি বরাবর পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় আরো বলা হয়, বাবলু শেখের সাজা ভোগের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। সঠিক দায়িত্ব পালন না করার জন্য এ রায়ের কপি বার কাউন্সিলের সভাপতি-সেক্রেটারি বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
বাবলু শেখের বর্তমান আইনজীবী এডভোকেট শামীম উদ্দীন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাইফুর রহমান সিদ্দিকী মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে যে আদেশ দেন তাতে অবশেষে বাবলু শেখের ভোগান্তির অবসান ঘটল।
ভুক্তভোগী বাবলু শেখ বলেন, তিনি অত্যন্ত গরিব। দোষ না করেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের সাজা ভোগ করেছেন। দীর্ঘদিন পর তার ভোগান্তির অবসান হওয়ায় তিনি আদালত ও আইনজীবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট মুক্তার হোসেন জানান, নিরপরাধ হয়েও একটি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে বাবলু শেখ অন্যের সাজা ভোগ করেছেন। বিজ্ঞ বিচারকের বিচারে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। এ জন্য তিনি আদালতকে সাধুবাদ জানান। এ ছাড়াও যাতে আর কখনো কেউ এ ধরনের হয়রানির শিকার না হয়, বিচারক মামলার ২ তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং তৎকালীন ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নাটোরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়ে রায়ের কপি আইজিপি বরাবর প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। অপরদিকে এতদিন ধরে হয়রানির শিকার বাবলু শেখকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
এপিপি এডভোকেট মাসুদ হাসান জানান, আপিল মামলায় যুক্তিতর্ক শেষে পুলিশের প্রতিবেদন ভুল প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক বাবলু শেখকে মুক্তি দিয়েছেন। এ ছাড়া মামলার মূল আসামি বাবু শেখের বিরুদ্ধে পুনরায় সাজা পরোয়ানা দাখিল ও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন।