সৌদিতে বাস দুর্ঘটনায় ৩৫ ওমরাহ্‌ যাত্রী নিহত

আগের সংবাদ

তামিম-তাসকিনের এনসিএল পরীক্ষা

পরের সংবাদ

ব্যাংকের অনীহায় অসহায় নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৭, ২০১৯ , ১২:০৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০১৯, ১২:০৪ অপরাহ্ণ

Avatar

নতুন ও তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উত্তরণ চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ জন্য প্রতিনিয়ত অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহ দিয়ে থাকে। এ লক্ষ্যে ২০১৪ সালে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ১০০ কোটি টাকা তহবিল গঠন করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সে সময় ৩৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ হলেও এ খাতে ঋণ বিতরণে আগ্রহ কম থাকায় পাঁচ বছরে এ তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে মাত্র ২০ কোটি টাকা। ৮০ কোটি টাকাই অব্যবহৃত পড়ে আছে। বিষয়টি নিয়ে নড়ে চড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড। ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট না থাকলেও ছোট্ট উদ্যোক্তারা কম সুদের টাকা না পাওয়ার কারণ জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুসন্ধানে নামছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বহুদিন ধরেই বলে আসছে নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ দেয়ার কথা, এসএমই খাতে ঋণ দেয়ার কথা, কৃষি খাতে ঋণের কথা; কিন্তু বাস্তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ধরনের উদ্যোগ কাজে আসছে না। তবে কৃষি খাত কিছুটা ভালো করেছে। তিনি বলেন, অনভিজ্ঞ ও নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণ দিতে চায় না। কারণ যদি এই ঋণ ফেরত না পায়। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত, ঝুঁকি হলেও রাষ্ট্রীয় ব্র্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ তহবিলের সঙ্গে যুক্ত করা।
তবে তার কথার সঙ্গে একমত নন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো এসএমই বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের লোন দিতে চান না। এর কারণ ছোট লোন পরিচালনার জন্য কিছুটা বেশি কষ্ট করতে হয়। এই বেশি কষ্ট করাটাই তাদের সমস্যা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কটেজ মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন তহবিল’ স্কিম তৈরি করা হয়েছে। এই তহবিলের উদ্দেশ্য হলো- যে সব উদ্যোক্তার ছোট্ট ব্যবসা আছে কিন্তু তহবিলের অভাবে ব্যবসা বড় করতে পারেনি কিংবা জামানতের অভাবে ব্যাংক থেকে ঋণও পায়নি এমন উদ্যোক্তাকে বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ হারে ঋণ দেয়া। একজন গ্রাহক বিনা জামানতে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। এ জন্য ৩৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ তহবিল থেকে ১৮ কোটি টাকা ও ৭টি প্রতিষ্ঠান দুই কোটি টাকা নিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ করে। বাকি ৮০ কোটি টাকা ২০১৪ সাল থেকেই অব্যবহৃত থেকে যায়।
একটি বিশ^স্ত সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোগ নিলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের জামানতসহ উচ্চ সুদের নিজস্ব ঋণের বাইরে এ পুনঃঅধ্যয়নের কম সুদের ঋণ বিতরণে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ ধরনের পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণে উদ্যোগী হয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করলেও শেষ পর্যন্ত আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, অনেকে ভুলে যায়। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ বছর আগে ১০০ কোটি টাকার এ তহবিল গঠন করলেও শেষ পর্যন্ত কমিয়ে ৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করে। এ তহবিল পরিচালনার দায়িত্বে আছে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগ। সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, উদ্যোক্তা তৈরিতে জামানত ছাড়া ঋণ কেন গ্রাহক নিচ্ছে না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।