সাময়িকী

দোহারের ছদ্মবেশ

আগের সংবাদ

বাঙালির চির আধুনিক প্রাণপুরুষ

পরের সংবাদ

নামে দুর্নামে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী পিটার হ্যান্ডকে

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৭, ২০১৯ , ৭:৫৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০১৯, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

৬ ডিসেম্বর ১৯৪২ সালে অস্ট্রিয়ার গ্রিফেনে জন্মলাভ করেন ২০১৯-সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী ‘পিটার হ্যান্ডকে’। পরবর্তীতে পিটার হ্যান্ডকে ও তার মা ১৯৪৪ সাল থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত স্লোভেনীয় অধ্যুষিত বার্লিনের পানকৌতে বসবাস করেন। ১৯৪৫ সালে পিটার হ্যান্ডকে ক্যারিনথিয়া অঙ্গরাজ্যের তানজেনবার্গ ক্যাসেল-এ অবস্থিত ক্যাথলিক মারিয়াম বয়েজ বোর্ডিং স্কুলে শুরু করেন পড়াশোনা। ১৯৫৯ সালে ক্লাজেনপুর্টে এই সাহিত্যিক স্থানান্তরিত হন এবং স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। আরো উচ্চতর পড়াশোনার জন্য তিনি ১৯৬১ সালে ভর্তি হন ‘ইউনিভার্সিটি অব গ্রেজ’ এ। এখানে তিনি শুরু করেন আইন বিষয়ে পড়াশোনা। ক্যাথলিক মারিয়াম বয়েজ বোর্ডিং স্কুলে পড়াকালীনই স্কুল পত্রিকাতে পিটার হ্যান্ডকে-এর প্রথম লেখা ‘ফ্যাকেল’ প্রকাশিত হয়। চটুল, বিচক্ষণ, সূক্ষ্মদৃষ্টির ‘পিটার হ্যান্ডকে’র মধ্যে অল্প বয়সেই প্রস্ফুটিত হতে থাকে লেখনী প্রতিভা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে লেখার গতি, শাণ এবং এক লেখার সাথে আরেক লেখার প্রতিযোগিতা। বয়স তারুণ্যকে স্পর্শ করতে করতে পিটার হ্যান্ডকে পড়াশোনারত অবস্থায়ই নিজেকে একজন লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে নেন। তার লেখা প্রকাশ হতে থাকে তরুণ লেখকদের সংঘ ‘গ্রেজার গ্রুপ’সহ আরো বিভিন্ন মাধ্যমে। তরুণ পিটার হ্যান্ডকে’র লেখা ধীরে ধীরে চারদিকে ডালপালা ছড়াতে থাকলে শাণিত লেখার উচ্চারণ চোখে পড়ে জার্মান প্রকাশনী ‘সুহারক্যাম্প ভার্গেল’ এর। তারা তার লেখা উপন্যাস ‘ডাই হার্নিজেন’ প্রকাশের জন্য নির্বাচন করলে পিটার হ্যান্ডকে ১৯৬৫ সালে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাট চুকিয়ে সার্বক্ষণিক মনোনিবেশ করেন লেখায়। পরবর্তীতে গ্রুপ-৪৭ এর একটি সভা আমেরিকার নিউ জার্সিতে তিনি তার লেখা নাটক ‘অফেন্ডিং দ্য অডিয়েন্স’ উপস্থাপন করেন। পিটার হ্যান্ডকে চলচ্চিত্রের জন্যও অসংখ্য চিত্রনাট্য লেখেন। ১৯৭৮ সালে মুক্তি পাওয়া En:Die Linkshandige Frau সিনেমাটি পরিচালনাও করেন তিনি। গ্রেজ থেকে চলে আসার পর পিটার বার্লিন, ফ্রান্স এবং ১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন এবং ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত অস্ট্রিয়ার সালজবার্গে পুনরায় বাস শুরু করেন। আবার স্থান পরিবর্তন করে ১৯৯১ সাল থেকে প্যারিসের কাছাকাছি ছোট্ট শহর চ্যাভিলে বসবাস করতে থাকেন। মেজাজী, আত্মভোলা, রক্ষণশীল, রাজনৈতিক সজাগ পিটার হ্যান্ডকে নিজেকে নিজে আবিষ্কারের চেষ্টায় প্রতিনিয়ত নিজেকে ভাঙার অদম্য আগ্রহে ঘুরে বেড়ান সাহিত্যের শিরা-উপশিরায়। প্রচলিত ধারাকে ভেঙে নতুন ধারায় বিচরণ করাই যেন অস্ট্রিয়ান এ লেখকের শখে পরিণত হয়।
সাহিত্যে নোবেল-২০১৯ বিজয়ী পিটার হ্যান্ডকে প্রসঙ্গে একাডেমির তরফ থেকে জানানো হয়, ‘ভাষাগত দক্ষতাকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের অভিজ্ঞতার পরিধি এবং নির্দিষ্টতা নিয়ে তাঁর যে প্রভাবশালী কাজ, তাঁকেই সম্মানিত করা হয়েছে’। পিটার হ্যান্ডকে এর স্বর গণমানুষের স্বর। মুক্তির কিংবা স্বাধীনতার আকাক্সক্ষায় মানুষের মনোঅন্তরিক্ষে নিবিষ্ট একান্ত চাওয়ার চিরায়িত স্বরের বয়ান অঙ্কিত তার রচনা ভাষায়। সে ভাষায় পূর্বসূরিদের আঁচড় নেই, উত্তরসূরিদের জন্য সাজানো এক ভিন্নমাত্রিক উপস্থিতি; যা অনুচ্চারিত ভাষাকে অন্য আঙ্গিকে উচ্চারণ করে সাহসের অগ্নিচোখে। পিটার হ্যান্ডকে একদিকে যেমন ঔপন্যাসিক অন্যদিকে অনুবাদক, নাট্যকার, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত। তবে সব দিক ছাড়িয়ে পিটার হ্যান্ডকে আধুনিক বিশ্বে নাট্যকার হিসেবে অনন্য। নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইবসেন প্রাইজ পেয়েছেন ২০১৪ সালে। মহান নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের নামে এই পুরস্কার প্রবর্তন করেছেন খোদ নরওয়ে সরকার। ২০০৮ সালে প্রবর্তিত এই পুরস্কার প্রথমে পান ব্রুক। নাট্যজগতে অসামান্য অবদানের জন্য দেয়া এই পুরস্কার অর্থমূল্যেও বিশ্বের বড় একটি পুরস্কার। ইবসেনের জন্মদিনে প্রবর্তিত এই পুরস্কারের অর্থমূল্য নরওয়ের মুদ্রায় ২৫ লাখ ক্রোন। পিটার হ্যান্ডকে নাট্যবিশ্বে নন্দিত একজন। প্রচলিত অর্থে নাটকের যে অবয়ব কয়েক হাজার বছর ধরে চলে আসছে কেবল পোশাক বদল করে; সে অবয়বকে তিনি পরিবর্তন করে ভিতরে-বাহিরে দিয়েছেন অনন্য এক বৈশিষ্ট্য, যা তার নিজস্ব ভঙ্গি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পিটারের নাটকে কোনো চরিত্র থাকে না। কয়েকজন কথন শুধু কথা বলে যান। কিছু নাটকে সংলাপও থাকে না, কাহিনীও থাকে না। সাধারণত একটি নাটকে যেসব গুণাবলী থাকতে হয় তার কিছুই তিনি রাখেন না। তথাপি তার নাটকের গভীরতা অতল স্পর্শ করে। ভাবনার চরম শিখরে নিয়ে দর্শককে ছেড়ে দেন, দর্শক সেখান থেকে বাস্তব আর পরাবাস্তবতার বাহিরে আরেক বাস্তবতা দেখায় বিমোহিত হয়। এখানেই পিটার হ্যান্ডকে আলাদা। ১৯৬৬ সালে Offending the Audience দিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। Prophecy নাটকটি আকারে ছোট নাটকগুলোর মধ্যে পিটারের অন্যতম একটি আলোচিত নাটক। এই নাটকে কয়েকজন কথক ক, খ, গ, ঘ যেন আমদের সার্বক্ষণিক দৈববানী শুনিয়ে যায়। মানুষের জীবন, পৃথিবী, মহাবিশ্ব, পোকামাকড়, লোভ, আশা, মৃত্যু কতো বিষয় নিয়েই তারা কথা বলে। পিটার হ্যান্ডকে-এর নাটকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তিনি কোনো নাট্যসূত্র বা প্রযোজনা নির্দেশনা উল্লেখ করেন না। নির্দেশকের জন্য তিনি সব কিছু উন্মুক্ত রেখে দেন। তার অধিকাংশ নাটকেই মঞ্চ ফাঁকা থাকে। মঞ্চ এবং দর্শকস্থলে আলো জ্বলে। আর অভিনেতারা কী করবেন তিনি তা বলে দেন না। যে কোনো সৃষ্টিশীল নাট্য পরিচালক এই নাটককে নিজের মতো করে তৈরি করে নিতে পারেন। সৃষ্টির মুক্ত-স্বাধীনতা রয়েছে তার নাটকে। পিটার হ্যান্ডকে-এর অন্যান্য অনন্য সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে বিখ্যত চলচ্চিত্র- Wings of Desire, The Goalie’s Anxiety at the Penalty Kick, The Left-Handed Woman. bvUK- kaspar, Uber die Dorfer।
১৯৬৫ সালে মাঝপথে পড়াশোনার নামে ইস্তফা দিয়ে আভা গার্দ আন্দোলনে যোগ দেয়া উদার মুক্তচিন্তার পিটার হ্যান্ডকে যে লেখালেখি শুরু করেন সে লেখালেখিতে যুগোস্লাভিয়া যুদ্ধের সমালোচনা করে তার লেখা সারা পৃথিবীতে সমালোচনার ঝড় তোলে। যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল বিষয়ে বারবার পশ্চিমা দুনিয়াকে বিদ্ধ করায় বিতর্ক তার চিরসঙ্গী হয়ে আছে। বিতর্ক সঙ্গী হয়েছে নোবেল (সাহিত্য)-২০১৯ প্রাপ্তির পরও। তামাম দুনিয়াজুড়ে হচ্ছে আলোচনা আর সমালোচনা। পিটার সে সমালোচনা তুড়িতে উড়িয়ে দিলেও বন্ধ নেই নিন্দুকের মুখ। সাবেক যুগোস্লাভিয়ার পতনের সময়ে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে সার্বীয়দের সমর্থনে কথা বলতেন বলে এই দক্ষিণপন্থী সাহিত্যিক পিটার হ্যান্ডকে’কে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেয়ায় অ্যালবেনিয়া, বসনিয়া, কসোভোসহ আরো অনেক রাষ্ট্রজুড়ে হচ্ছে তীব্র সমালোচনা। আলবেনিয় প্রধানমন্ত্রী ইদি রামা টুইট করেছেন, ‘কোনো নোবেল পুরস্কারের কথা শুনে বমি পাবে, ভাবিনি!’ আর বসনিয়ার মুসলিম নেতা সেফিক জাফেরোভিচের কথায়, ‘এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। অসংখ্য যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদের সমর্থনে বারবার মুখ খুলেছেন পিটার, এই তথ্য কী করে ভুলে গেল নোবেল কমিটি!’ কসোভোর প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচিও বলেন, ‘যুদ্ধে আক্রান্ত অসংখ্য মানুষকে সেই ভয়াবহ স্মৃতি মনে পড়িয়ে দিল হ্যান্ডকে’র এই শিরোপা!’ অ্যালবেনিয়ার বিদেশমন্ত্রী জেন্ড সাকাজ মন্তব্য করেন, ‘যিনি চিরকাল বলে এসেছেন সাকেব যুগোস্লাভিয়ায় কোনো গণহত্যা হয়নি, তাকে এই পুরস্কার দেয়া খুবই লজ্জাজনক।’. . .১৯৯০-এর দশকে যুগোস্লাভিয়া যখন গৃহযুদ্ধে প্রায় চুরমার তখন সার্বিয়ার প্রখর সমর্থক ছিলেন অস্ট্রিয়ার সাহিত্যিক এই পিটার হ্যান্ডকে। এমনকি, তিনি যুগোস্লাভিয়ায় সার্বীয়দের অবস্থাকে নাৎসিদের হাতে ইহুদিদের অবস্থার সঙ্গে তুলনাও করেছিলেন। পরে অবশ্য সেই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে নেন। সার্বীয় নেতা স্লোবোদান মিলোসেবিচের অন্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন পিটার। মিলোসেবিচের দুই সেনাপ্রধান রাদোভান কারদজিচ এবং রাটকো মিলাদিচের সমর্থনেও অসংখ্য বিবৃতি দিয়েছিলেন পিটার হ্যান্ডকে। মিলোসেবিচ চেয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলায় সাক্ষ্যও দিক পিটার। তবে মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই সার্বীয় নেতা স্লোবোদান মিলোসেবিচ মারা যান। তার স্মরণ সভায় হাজার হাজার অনুরাগীর সামনে হৃদয়বিদারক এক বক্তৃতাও দিয়েছিলেন পিটার হ্যান্ডকে। তার এই সার্ব-পন্থী অবস্থানের জন্য বহু-বহু বার সমালোচিত হয়েছেন তীব্রভাবে। তার লেখা ভ্রমণকাহিনী ‘আ জার্নি টু দ্য রিভার্স : জাস্টিস ফর সার্বীয়’ নিয়েও প্রচুর বিতর্ক হয়। বিতর্ক হয়েছে এবারও, সাহিত্যে নোবেল-২০১৯ প্রাপ্তিতে। বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পিটার নিজেও; বলেন, ‘এটি একটি সাহসী সিদ্ধান্ত।’ বিশ্ব সমালোচনা, বিতর্ক, নিন্দা বা ঘৃণায় কিছুই যায়-আসে না সাহিত্যে অবদান রেখে যাওয়া বিশ্বমানের সাহিত্যিক এ পিটার হ্যান্ডকে’র; যেমন যায় আসে না নোবেল কমিটিরও। সমস্ত নিন্দা আর সমালোচনার উল্টোদিকে তাদের জবাব, ‘পিটার হ্যান্ডকে’কে পুরস্কৃত করা হয়েছে এক ব্যঞ্জনাধর্মী কাজের জন্য। যে কাজে তিনি ভাষাগত স্বকীয়তা দিয়ে মানুষের অভিজ্ঞতার পরিমণ্ডলকে বিশ্লেষণ করেছেন।’ দূর দেশ থেকে প্রায় অজানা ‘পিটার হ্যান্ডকে’র নোবেলপ্রাপ্তি নিয়ে আমাদের এ প্রান্তেও পক্ষ-বিপক্ষ কম নয়। আলোচনা-সমালোচনাও কম নয়। জানা-অজানা, চেনা-অচেনা, পাঠ-অপাঠ যা’ই হোক পিটারের নাম উচ্চারিত হবার পর তাকে নিয়ে কাটা-ছেঁড়া, বিচার-বিশ্লেষণের এক মজলিশ বসে সাহিত্য মহল থেকে রাজনীতি মহল পর্যন্ত। সমাজনীতি কিংবা রাষ্ট্রনীতিরও অনেকে ব্যক্তিগত মাধ্যম থেকে সামাজিক সব মাধ্যমে ব্যক্ত করতে থাকে নিজস্ব মতামত। সবাই তুলে ধরতে থাকেন পিটারের শুদ্ধ-অশুদ্ধ বেয়ে ভুল-ভ্রান্তি যা আছে! হতেই পারে। ব্যক্তিক মতে বাধা নেই। তবে সবাই বোদ্ধা হলে মুশকিল। কেউ কেউ বলছেন নোবেল কমিটি পচে গেছে, কেউ আবার বলছেন, যুদ্ধাপরাধের পক্ষীয় এমন একজনকে কেমন করে নোবেল দেয়া হয়! কেমন করে দেয়া হলো সাহিত্যের মতো বোধের একটি স্বীকৃতি! কিন্তু আমরা কি ভুলে গেছি যে, পুরস্কারটি পিটার হ্যান্ডকে’কে দেয়া হয়েছে তার সৃষ্টিকর্মের জন্য? যুদ্ধাপরাধী কোনো রাজনীতির মতাদর্শের সাথে যদি তার সখ্য থাকে বা মত থাকে সেটা তার ব্যক্তিগত মতাদর্শ; সেটি তার সাহিত্য নয়। তার সাহিত্য অন্য আরেক জিনিস যা মানুষকে দেখাচ্ছে ব্যঞ্জনাময়ী ভাষা, ভাব; যার ভেতর দিয়ে তিনি সভ্যতাকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন অনন্য আঙ্গিকের অগ্রসরতার সাথে। সাহিত্যকে ব্যক্তিগত মতাদর্শের সাথে মিলালে বা ব্যক্তি চরিত্রের সাথে মিলালে তবে তো তা হবে চারিত্রিক সনদপত্র। নোবেল কমিটি কি চরিত্রের ওপর কোনো পুরস্কার প্রদান করেন? আর ‘পিটার হ্যান্ডকে’কে যদি চরিত্রের বা রাজনৈতিক মতাদর্শের দিক বিবেচনা করে নোবেলে পুরস্কৃত করা হয়ে থাকে তবে অন্য সবার মতো বলবো, এ নির্বাচন ভুল, ভুল সিদ্ধান্ত। আর যদি শুধুমাত্র সাহিত্য কর্মকে বিচেনায় নিয়ে পিটারকে পুরস্কৃত করা হয়ে থাকে তবে নোবেল কমিটির পক্ষে, পিটারের পাশে বসে নিন্দাহীন পাঠ করা যেতেই পারে তাঁর অমর সৃষ্টিগুলো; তাই না?

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা