ছাত্ররাজনীতি

আগের সংবাদ

ভারত নিয়ে দ্বিমুখী নীতির ছক বিএনপির!

পরের সংবাদ

গঙ্গা-যমুনা উৎসবে ‘রাজার চিঠি’ ও ইডিপাস

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৭, ২০১৯ , ৯:৩০ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০১৯, ৯:৩০ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবের ৭ম দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার জাগরণী থিয়েটারের ‘রাজার চিঠি’ নাটকের মঞ্চায়ন হলো। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে নাটকটির মঞ্চায়ন হলো। জাগরণী থিয়েটারের ১৫তম প্রযোজনা ‘রাজার চিঠি’ নাটকটি রচনা করেছেন মাহফুজা হিলালী। নির্দেশনা দিয়েছেন দেবাশীষ ঘোষ। একটি ব্যতিক্রমধর্মী কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে এ নাটকটি।
গল্পটা ১৯৩৯ সালের। এই চিঠি এবং রবীন্দ্রসাহিত্যের প্রভাবে হরিদাস বসাকের জীবন বদলে যায়। দেশভাগ, মুক্তিযুদ্ধ ও হরিদাস বসাকের স্বপ্নভঙ্গের গল্প।
রবীন্দ্রপ্রীতি নিয়ে যুবক হরিদাসের যে পরিবার-পরিজন এবং বন্ধুরা হাসাহাসি করেছিল, চিঠির উত্তর আসার পর তেমনটা আর রইলো না। হরিদাস বসাককে সবাই সমীহ করতে শুরু করে। অন্যদিকে হরিদাস বসাকও সাহিত্য সংস্কৃতির কাজে নিজেকে সঁপে দেন।
সময়ের প্রবাহে আসে ১৯৪৭ সাল। এ সময় অনেকেই দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যায়। কিন্তু যে ঠিকানায় রবীন্দ্রনাথ তাকে চিঠি লিখেছেন, সে ঠিকানা হরিদাস বসাক বদল করতে চান না। নাটকে ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগের চিত্র এবং হরিদাস বসাকের মাতৃভূমি আঁকড়ে থাকা দেখা যায়।
এরপর আসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতায় হরিদাস বসাকের স্বপ্নভঙ্গ হয়। পুড়িয়ে ফেলা বাড়ি ঘর দুয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে হরিদাস বসাক সে দিন তাঁর আত্মজনের খোঁজ নেন না, শুধু শিশুর মতো হাহাকার করেন চিঠিটির জন্য।
এ অবস্থায় পাকিস্তানি আর্মি এসে দাঁড়ায় হরিদাস বসাকের সামনে। তার মুখের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম শুনে আর্মিরা তাকে বেয়োনেট দিয়ে মারতে থাকে। কাহিনি এখানেই শেষ হয়েছে, কিন্তু এর বিস্তৃতি বহুদূর পর্যন্ত প্রসারিত।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন স্মরণ সাহা, স্নিগ্ধা শ্রাবণ, সেবেকুন নাহার মুন, শাহানাজ শারমিন খান শিমু, জুলিয়েট সুপ্রিয়া, মোঃ ইয়াসিন শামীম, মোঃ বাহারুল ইসলাম বাহার, মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি, সজীব ঘোষ, রুকুনুজ্জামান আপেল, রিপা হালদার, মীম, শেখ আকাশ, পল্লব সরকার, মোহানী মানিক, ইমন ও সোয়েব হাসনাত মিতুল।

একই সময়ে মঞ্চস্থ হয়েছে তির্যক নাট্যদলের গ্রিক নাট্যকার সফোক্লিস রচিত ট্র্যাজিক নাটক ইডিপাস। সৈয়দ আলী আহসান ও শম্ভু মিত্র অনুদিত নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন আহমেদ ইকবাল হায়দার। জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নাটকটির মঞ্চায়ন হয়।
নাটকে দেখা যায়, সন্তান হবে পিতৃঘাতী ও মাতৃ-বিবাহিত। দেবতাদের এমন অমোঘবাণী শুনে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ছেলে ইডিপাসকে হত্যা করতে জল্লাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন থিবসের রাজা লাউস। দয়া হয়েছিল জল্লাদের। শিশুটিকে না মেরে সে নির্জন পাহাড়ে এক মেষপালকের কাছে রেখে এসেছিলেন তিনি। মেষপালক শিশুটিকে তুলে দেন কোরিন্থ রাজ্যের রাজা পলিউবাসের কাছে। নিঃসন্তান রাজা পলিউবাস ও রানি মেরোপির সন্তান হিসেবে বড় হতে থাকা ইডিপাস একদিন এই দৈববাণীর কথা জানতে পারেন।
নিয়তি থেকে পালাতে কোরিন্থ ছেড়ে চলে আসেন থিবসে। পথে ভ্রমণে বের হওয়া থিবসের রাজা লাউসের সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। এ সময় রাজার সৈন্যদলের সঙ্গে অনাকাঙ্খিত বিবাদে জড়িয়ে পড়ে দ্বন্দ্বযুদ্ধে হত্যা করেন নিজের পিতাকে। পরে সে রাজ্যের রানি অর্থাৎ নিজের মা জোকস্তাকে বিয়ে করেন ইডিপাস। দীর্ঘদিন রাজ্য শাসন করার পর থিবসে দেখা দেয় খরা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ। দৈব বাণী আসে এই রাজ্যে কোনো এক পাপের কারেণে এই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। অন্ধ সাধকপুরুষ তাইরেসিয়াস অবশেষে ইডিপাসকে তাঁর পাপের কথা জানিয়ে দেন। রানি জোকস্তা বেছে নেন আত্মহত্যার পথ। আর ইডিপাস নিজেকে অন্ধ করে পথের ভিখিরি হয়ে বেরিয়ে পড়েন। এই আখ্যান সাফল্যের সঙ্গেই মঞ্চস্থ করলেন তির্যকেরা কুশিলবেরা। নিয়তি, লোভ, ক্ষমতার দম্ভ এসব দুর্বলতা কী করে একসময় ব্যক্তির পতনের পথ তৈরি করে এই নাটক, সেটাই রূপায়িত করল। এ কারণে ইডিপাস আজও সমকালীন।
এছাড়া বাংলাদেশ মহিলা সমিতি মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হলো নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের ‘ওপেন কাপল’। নাটকটি রচনা করেন দারিও ফো ও ফ্রাঙ্কা রামে, রূপান্তর ও নির্দেশনা দিয়েছেন সারা যাকের।
এছাড়া বিকেলে মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় পথনাটক। পরিবেশন করেছে গতি থিয়েটার। দলীয় আবৃত্তি করে চারুকণ্ঠ, চারুবাক। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে নন্দন, উজান। শিশু কিশোর পরিবেশনায় ছিল মন্দিরা সাংস্কৃতিক পাঠশালা।