জেআইসিতে মুখোমুখি হবেন সম্রাট-আরমান

আগের সংবাদ

টেকনাফে আটকের পর পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২

পরের সংবাদ

এমপিওভুক্তির তালিকা নিয়ে লুকোচুরি, রাজপথে শিক্ষকরা

অভিজিৎ ভট্টাচার্য :

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৭, ২০১৯ , ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ

কয়েক মাস ধরে যে তালিকাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যাওয়া আসা করেছিল সেই বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির তালিকার একটি অংশের সম্মতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। এর মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীনে স্কুল, কলেজ মিলিয়ে দেড় হাজারেরও কিছু বেশি প্রতিষ্ঠান নতুন এমপিওভুক্ত হচ্ছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসেন বিদেশে থাকায় মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টিকে লুকিয়ে রেখেছেন।
সূত্র জানায়, প্রায় ১০৭৯টি নতুন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির জন্য সম্মতির জন্য গত রবিবার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তালিকা পাঠিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে এখনো প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পায়নি। ফলে অপেক্ষাই থাকতে হচ্ছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অযোগ্যতার কারণে এমপিওভুক্তির তালিকা তৈরিতে এই অগোছালো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যেসব কর্মকর্তা এমপিওর কাজ করেছেন তারা অনেকটা না বোঝেই একটি তালিকা তৈরি করে শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সই নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বিষয়টি ধরা পড়ার পর তা ফেরত আসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ফের ঠিকঠাক করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠায়। এরকম পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওর তালিকায় সম্মতি দিলেও কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা এখনো যাচাইবাছাই করছেন।
এদিকে, এমপিও নীতিমালা আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে বাতিল করা না হলে আমরণ অনশনের হুমকি দিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। গতকাল সংগঠনের সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেছেন, বৃহস্পতিবার বিকাল কিংবা শুক্রবার সকাল থেকে আমরণ অনশন শুরু হতে পারে।
জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জাবেদ আহমেদ ভোরের কাগজকে বলেছেন, এমপিওর তালিকা প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন কি না তা ভারপ্রাপ্ত সচিব বলতে পারবেন। অথচ তিনি নিজেই এমপিওভুক্তির তালিকা প্রণয়ন কমিটির প্রধান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব অরুণা বিশ্বাস বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এরকম কোনো তালিকা এসেছে বলে জানি না। তবে দুই বিভাগের অধীনে যেসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে তা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আলাদা করে আসার কথা নয়।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) এ কে এম জাকির হোসেন ভূঁঞা ভোরের কাগজকে বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা এসেছে কি না তা আমি জানি না। তবে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের অধীনে প্রায় ১০৭৯টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে সম্মতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। সেই তালিকা এখনো প্রধানমন্ত্রীর সই হয়ে ফেরত আসেনি।
সূত্র বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির খন্ডিত তালিকা অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কতগুলো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন এমপিও নীতিমালা অনুসারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির তালিকা চ‚ড়ান্তকরণ এবং যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোই এমপিওভুক্তির অনুমোদন পেয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন দেশে ফিরলে তালিকা প্রজ্ঞাপনাকারে প্রকাশ করা হবে।
সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতির বয়স, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পাসের হার বিবেচনা করে এমপিওভুক্তির খসড়া তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল।
এদিকে, নতুন এমপিও নীতিমালা অনুসারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির তালিকার খণ্ডিত অংশের অনুমোদন দেয়ার কথা শুনে গত সোমবার সকাল থেকে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিভুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন কয়েকশ শিক্ষক-কর্মচারী। এ সময় নতুন নীতিমালায় অনেক পুরনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে না দাবি করে তারা জানান, নতুন এমপিও নীতিমালা মানি না।
জানতে চাইলে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসের সাত তারিখে মানববন্ধন করে আমরা আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম, ১৫ তারিখের মধ্যে নীতিমালা স্থগিত না করলে ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা না করলে আমরা নীতিমালা স্থগিত ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে লাগাতার অবস্থানের কর্মসূচি দেব। ঘোষণা অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে আমরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে বসেছি। নতুন সিদ্ধান্ত হচ্ছে, আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে যদি আমাদের দাবি পূরণ না হয়, তাহলে আমাদের স্পষ্ট ঘোষণা আমরা আমরণ অনশনে যাব।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেয়া শিক্ষকরা বলছেন, বৈষম্য আর অসঙ্গতিপূর্ণ নীতিমালার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করায় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অনেক যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। একারণেই তারা আন্দোলন শুরু করেছেন।