ক্যাসিনোর টাকা বিদেশে

আগের সংবাদ

মেয়েদের কঠিন পরীক্ষা

পরের সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে অভিযোগ

গ্রাহকের টাকা মেরে হোটেল-রিসোর্ট পিপলস লিজিংয়ের

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৫, ২০১৯ , ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০১৯, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ

Avatar

পিপলস লিজিংয়ের পরিচালকরা আমানতকারীদের টাকা আত্মসাৎ করে চট্টগ্রামে একটি পাঁচ তারকা হোটেল এবং বান্দরবানে একটি রিসোর্ট চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন আমানতকারীরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বা ব্যাংক হিসাবও জব্দ করেনি বলে অভিযোগ তাদের।

গতকাল সোমবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেন পিপলস লিজিংয়ের আমানতকারীদের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন তারা। পাঁচ আমানতকারী হলেন সামিয়া বিনতে মাহবুব, কামাল আহমেদ, রানা ঘোষ, প্রশান্ত কুমার দাস ও আনোয়ারুল হক।

আমানতকারী সামিয়া বিনতে মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, পিপলস লিজিংয়ের বর্তমান পরিচালকরা আমাদের টাকা মেরে দিয়েছেন। এদের মধ্যে পরিচালক উজ্জ্বল কুমার নন্দী আমানতকারীদের টাকা মেরে চট্টগ্রামে ‘ব্লু’ নামযুক্ত একটি পাঁচ তারকা হোটেল খুলেছেন। আরেকজন পরিচালক অং মং চং আমানতকারীদের টাকা মেরে বান্দরবানে বড় রিসোর্ট চালাচ্ছেন। তাদের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণপত্র সব জায়গায় দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়নি। এই সুযোগে পিপলসের পরিচালকরা সব টাকা সরিয়ে নিয়েছেন। আমানতকারীদের টাকা নিয়ে তারা আরাম-আয়েশে জীবনযাপন করছেন। আর আমরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি টাকা ফেরত পাওয়ার আশায়।

তিনি আরো বলেন, পিপলস লিজিং একটি সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি ছয় মাস পর পর কিংবা বছর বছর অডিট হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিল। তারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে এই অনিয়মগুলো আগে ধরা পড়েনি কেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে আমরা এসব তুলে ধরেছি।

আরেক আমানতকারী আনোয়ারুল হক বলেন, আমরা টাকা ফেরত পাচ্ছি কিনা? পেলে কবে নাগাদ পাচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কি ব্যবস্থা নিয়েছে। এ বিষয়গুলো আমরা বৈঠকে তুলে ধরেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দিতে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ও পিপলসের অবসায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, পিপলস লিজিংয়ের টাকা কোন পরিচালক আত্মসাত করেছে কিনা তা স্পেশাল অডিট করার পর বোঝা যাবে। আমানতকারীরা পরিচালকদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে সেটা আমার শুনেছি। এই অভিযোগ অডিটে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। তাই অডিট কার্যক্রম শেষ হলে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।