শিল্পী প্রবাল চৌধুরীর দশম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

আগের সংবাদ

১৫ বছর পূর্তিতে স্টার সিনেপ্লেক্সের নতুন শাখা

পরের সংবাদ

দিল মনোয়ারা মনুকে প্রেসক্লাবে অশ্রুসজল বিদায়

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৪, ২০১৯ , ৯:১৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৯, ৯:১৩ অপরাহ্ণ

Avatar

বিশিষ্ট সাংবাদিক দিল মনোয়ারা মনু চলে গেছেন। অথচ মৃত্যুর ১৯ ঘণ্টা আগেও ফেসবুকে সক্রিয় ছিলেন তিনি। বিভিন্ন প্রতিবাদ ও মানবিক ঘটনাগুলোর সংবাদ ও আন্দোলনের ছবিও পোস্ট করেছেন। আজ তিনি স্মৃতি হয়ে গেলেন! ভালোবাসা আর ভরসাগুলো কফিনে যেন বন্দী হয়ে গেল! শুধু শেষ পেরেকটা ঠুকে দেয়া বাকি! কোথাও কচি বাঁশ পাতা মাটির ঢিবিতে উঁকি দেয়, কোথাও মাটিতে এখনো লোবানের গন্ধ মাখা। আর কোথাও মাটি তার আগমনী অতিথির প্রতিক্ষায়। ভালোবাসাগুলো এভাবেই অনাথ করে দিয়ে চলে যায়…।

বিশিষ্ট এই সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ‘পাক্ষিক অনন্যা’র সাবেক নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। রোববার (১৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

দিল মনোয়ারা মনুর স্বামী শামসুল হুদা জানান, রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মনু অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং তিনি মারা যান।

এক শোক বার্তায় শেখ হাসিনা মনোয়ারা মনুর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

দিল মনোয়ারা মনুর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে আসে সাংবাদিক অঙ্গনে। নারী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ‘বেগম’ পত্রিকার নূরজাহান বেগমের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন তিনি। নারী আন্দোলনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ-আন্দোলনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন। শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ থাকলেও নারী ও মানবাধিকার ইস্যুতে আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হতেন।

দিল মনোয়ারা নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির গণমাধ্যমবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল থেকে দিল মনোয়ারা মনুর মরদেহ প্রথমে তাঁর লালমাটিয়ার বাসায় আনা হয়েছে। সেখান থেকে লালমাটিয়ার বিবির মসজিদে বাদ জোহর তাঁর প্রথম জানাজা হয়। এরপর প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় জানাজা হয়। যেখানে সর্বস্তরের সাংবাদিকরা তাকে অশ্রুসজল বিদায় জানান। এরপর সেগুনবাগিচায় কেন্দ্রিয় কচিকাচার মেলা প্রাঙ্গনে নেয়া হয়। এরপর জুরাইন কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

তার মরদেহে শ্রদ্ধার ফুল দেন বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা মিনু, পাক্ষিক অনন্যা ও ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমীন, দিল মনোয়ারা মনুর স্বামী শামসুল হুদা প্রমূখ।

প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, মনু আপা ছিলেন আমাদের সবার প্রিয় মানুষ। তাকে ভালোবাসেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি শারীরিকভাবে আমাদের সামনে আজ নেই হয়ে গেছেন। কিন্তু তিনি আমাদের অন্তরজুড়ে থাকবেন বহুদিন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

দিল মনোয়ারা মনুর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৫০ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ইডেন কলেজে পড়াশোনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাস করেন। ১৯৭৪ সালে ‘বেগম’ পত্রিকার সহসম্পাদক হিসেবে তিনি সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে তিনি যোগ দেন ‘পাক্ষিক অনন্যা’য়। ২৫ বছর ‘অনন্যা’য় থাকার সময় তিনি নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

দিল মনোয়ারা মনুর স্বামী শামসুল হুদা ভূমি অধিকার ও সংস্কার বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা