কোম্পানি গঠন করে পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

আগের সংবাদ

বাঁচার কথা থাকলে মারে কে!

পরের সংবাদ

আসামবস্তী বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু

কাগজ প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটি

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৪, ২০১৯ , ৪:৫০ অপরাহ্ণ

পঞ্চশীল প্রার্থনা ধর্মীয় নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে রাঙ্গামাটি আসামবস্তী বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণ থেকে মাসব্যাপী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙ্গামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ২০তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মসভায় পূর্ণার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধান ধর্মদেশনা প্রদান করেন পশ্চিম গহিরা শান্তিধাম বৌদ্ধ বিহার অধ্যক্ষ, ভদন্ত মৈত্রীপ্রিয় মহাথেরো।
ধর্মসভায় পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সংঘরাম বৌদ্ধ বিহার অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথেরোর সভাপতিত্বে ও বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙ্গামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক উদয়ন বড়ুয়ার পরিচালনায় ধর্মসভায় উপস্থিত ছিলেন, সংঘরাম বৌদ্ধ বিহারে অধ্যক্ষ ধর্মর্কীতি মহাথেরো, ধর্মচক্র বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত পাঞাবংশ মহাথেরো, বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও রাঙ্গামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার সভাপতি সুপ্রিয় বড়ুয়া, বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারের সহ সভাপতি ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা রণজিৎ কুমার বড়ুয়া প্রমুখ।

ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পবিত্র মঙ্গলাচরণ পাঠ করেন, বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ করুনাপাল ভিক্ষু। অনুষ্ঠানে শত শত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল, ভোরে পরিত্রাণ পাঠ, পুষ্পপূজা ও ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ, জাতীয় পতাকা ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধপূজা, শীলগ্রহন, সংঘদান ও ভিক্ষু সংঘের ধর্ম দেশনা, অনুত্তর পূণ্যক্ষেত্র ভিক্ষু সংঘকে পিন্ডদান। দুপুরে উদ্বোধনী সংগীত, দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান, পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের ধর্মোপদেশ ও সন্ধ্যায় ফানুস বাতি উত্তোলন।
ধর্মসভা ও পঞ্চশীল গ্রহনের পর চীবর দানের মাধ্যমে যে নির্বান অর্থাৎ মুক্তি সে মুক্তির অহিংসা বানী ছড়িয়ে যাক মানুষে মানুষে এবং সামনের দিনগুলোতে শান্তি ফিরে আসুক ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এমনটার প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে চীবর দানের সমাপ্তি ঘটে। আর বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় প্রদ্বীপ প্রজ্জ্বলন ও ফানুস বাতি উত্তোলন।

উল্লেখ্য, মহামতি বুদ্ধের প্রজ্ঞাদীপ্ত শিক্ষা ‘বর্ষাবাস তথা বর্ষাব্রত’ পালনের সমাপনী অনুষ্ঠান শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা এবং দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসব হলো বৌদ্ধদের অতি পবিত্র ও মাহাত্ম্যপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এ পূত-পবিত্র অনুষ্ঠান-উৎসবের মধ্যদিয়ে বৌদ্ধরা তথাগত গৌতম বুদ্ধের পরম কল্যাণময় শিক্ষা চর্চার ব্রত হয়। হিংসা ক্রোধ ও মোহের বদলে প্রেম দয়া ও ক্ষমায় মানুষের কল্যানে তপষ্যা ভিক্ষুদের। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্রকে বলা হয় চীবর। তাই এ বৌদ্ধ সন্যাসীদের পরিধেয় বস্ত্রের অভাব দুর করতেই কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান। তাই বৌদ্ধদের কাছে প্রবারনা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান অত্যন্ত গুরুত্ববহ পুণ্যানুষ্ঠান।