আগ্রাবাদে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’সন্ত্রাসী নিহত

আগের সংবাদ

বছর পেরোতেই চুপসে গেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

পরের সংবাদ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সতর্কতা জারি

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৩, ২০১৯ , ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০১৯, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

Avatar

৩০ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বুঝেশুনে ভর্তি হওয়ার জন্য সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সম্প্রতি ইউজিসি তাদের ওয়েবসাইটে ৩০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কী সমস্যা এবং কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে ভবিষ্যতে কোন ধরনের জটিলতায় পড়তে হবে তার আদ্যোপান্ত বর্ণনা করেছে। এরপরও যদি কোনো শিক্ষার্থী এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তার দায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকেই নিতে হবে বলে সাফ জানিয়েছে ইউজিসি।
একইসঙ্গে ইউজিসি বলছে, দেশে এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা, ক্যাম্পাস কিংবা স্টাডি সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনার অনুমতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেয়নি। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে প্রতারণার শিকার না হওয়ার জন্য সতর্ক করে দিয়েছে ইউজিসি। এরপরও কেউ অনুমোদনহীন কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত কোনো প্রোগ্রাম কিংবা কোর্সে ভর্তি হলে তার দায়দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি নেবে না। কাজেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শুধু সরকার ও ইউজিসির অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত ক্যাম্পাসে এবং অনুমোদিত প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ইউজিসি।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে ইবাইস ইউনিভার্সিটি, আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি,
এনপিআই ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কুমিল্লা ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ^বিদ্যালয়, বরিশালের ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রূপায়ণ এ কে এম শামসুজ্জোহা বিশ^বিদ্যালয়, জেড এন আর এফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস, রাজশাহী আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহ মখদুম ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটি, খুলনার খান বাহাদুর আহছানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট এন্ড টেকনোলজি, কুইন্স ইউনিভার্সিটি, গণবিশ্ববিদ্যালয় এবং দারুল ইহসান বিশ^বিদ্যালয়।
ইউজিসি বলছে, ইবাইস ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ নিয়ে দ্ব›দ্ব রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির কোনো ঠিকানাই নেই। এর ফলে ইউজিসি অনুমোদিত কোনো ক্যাম্পাসও নেই প্রতিষ্ঠানটির। আমেরিকা-বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মতো কোনোরূপ সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান নেই। ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর থেকে দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লাকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেয়নি ইউজিসি। আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থী ভর্তি না করার নির্দেশনা রয়েছে।
অনুমোদন না নিয়ে ভবনে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হচ্ছে- ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, এনপিআই ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।
জানতে চাইলে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন ভোরের কাগজকে বলেন, ইউনিভার্সিটির একটি অংশ আশুলিয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাসে চলে গেছে। ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য ইউজিসিকে বিশ্ববিদ্যালয় এক বছর আগে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ না করে ভর্তির মৌসুমে এসে এই নোটিস ধরিয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমে গেছে। আর্থিকভাবে লাভবান না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা কিভাবে হবে, প্রশ্ন রাখেন তিনি। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলী নকী বলেন, মুগদায় স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইলেও নানা জটিলতায় তা দেরি হচ্ছে।
বোর্ড অব ট্রাস্টিজ নিয়ে দ্বন্দে লিপ্ত থাকায় সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কুমিল্লা ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির শিক্ষা কার্যক্রমে ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসির অনুমোদন না নিয়েই প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে।
রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশালের ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন পেলেও শিক্ষা কার্যক্রম তথা শিক্ষার্থীর ভর্তির অনুমোদন দেয়নি ইউজিসি। একইভাবে রূপায়ণ এ কে এম শামসুজ্জোহা বিশ্ববিদ্যালয়, জেড এন আর এফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস, রাজশাহী আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহ মখদুম ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটি, খুলনার খান বাহাদুর আহছানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট এন্ড টেকনোলজিতে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেয়া হয়নি।
কুইন্স ইউনিভার্সিটি সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এক বছরের জন্য সাময়িকভাবে শর্তসাপেক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চিঠি দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কুইন্স ইউনিভার্সিটি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।
গণ বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন না নিয়েই বিবিএ, পরিবেশ বিজ্ঞান, এমবিবিএস, বিডিএস এবং ফিজিওথেরাপি কোর্স চালু করে। পরে ইউজিসি এর বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দিলে উচ্চ আদালতে মামলা হয়। মামলার রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসি এখন বলছে, গণবিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত বিবিএ, পরিবেশ বিজ্ঞান, এমবিবিএস, বিডিএস এবং ফিজিওথেরাপি কোর্স বৈধ বলে বিবেচিত হবে না। আদালতের নির্দেশে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর সব আউটার ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আর নেই।