পর্তুগালের জয়, ইংল্যান্ডের হার

আগের সংবাদ

বুয়েটের হলে হলে উচ্ছেদ অভিযান শুরু

পরের সংবাদ

গঙ্গা যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব

মঞ্চে ফিরছে ‘গোলাপজান’

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১২, ২০১৯ , ৪:৫৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১২, ২০১৯, ৬:২৯ অপরাহ্ণ

Avatar

দীর্ঘ বিরতির পর মঞ্চে ফিরছে থিয়েটার আর্ট ইউনিটের সাড়া জাগানো নাটক ‘গোলাপজান’। শনিবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটায় গঙ্গা যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবে নাটকটির ১৩৭তম মঞ্চায়ন হবে। মোহাম্মদ আবু তাহেরের ছোটগল্প ‘গোলাপজানের অশ্বারোহন’ অবলম্বনে এর নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দেন প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব এস এম সোলায়মান। ‘গোলাপজান’ হলো আদি ঢাকার জীবন-জীবিকার স্মৃতিময় উচ্চারণ। ৬৫ বছরের অভিজ্ঞতায় আদি ঢাকার সাধারণ নারী গোলাপজান বর্ণনা করেন তার শৈশব-কৈশোর, যৌবন থেকে প্রৌঢ়ত্বে পৌঁছার সংগ্রামী কাহিনী। বিশ শতকের মধ্যভাগে ঢাকার শ্রমজীবী একজন নারীর ধনবাদী সমাজ ব্যবস্থা বিকাশের ধারায় ক্রমাগত সংগ্রামী হয়ে ওঠার কাহিনি ‘গোলাপজান’। নাটকটিতে একক অভিনয় করবেন দেশের বরেণ্য অভিনেত্রী রোকেয়া রফিক বেবী। তার সঙ্গে সঙ্গীত এবং কোরিওগ্রাফিতে অংশ নেবেন সেলিম মাহবুব, চন্দন রেজা, কামরুজ্জামান মিল্লাতসহ অনেকে।

অন্যদিকে গঙ্গা যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবে আগামীকাল রবিবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হবে আপস্টেজ নাট্যদলের ‘রাত ভরে বৃষ্টি’। বুদ্ধদেব বসুর বহুল আলোচিত উপন্যাস ‘রাত ভরে বৃষ্টি’র নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন সাইফ সুমন। নাটকটি মঞ্চে এনেছে আপস্টেজ নাট্যদল। বিয়ে ও সংসার নামক যৌথ প্রতিষ্ঠানের জটিল পাকচক্রে আবদ্ধ তিন নর-নারীর মনোদৈহিক টানাপড়েনের গল্প ‘রাত ভরে বৃষ্টি’। নির্দেশক সাইফ সুমন বলেন, মধ্যবিত্ত সমাজজীবনে স্বামী-স্ত্রী বা বিবাহিত নারী-পুরুষের দাম্পত্য সম্পর্কের নানা সু²াতিসু² জটিলতা, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের সংশয়ী প্রকাশও বটে। মনিমালা, অংশু ও তাদের বন্ধু জয়- এখানে শুধুই তিনটি চরিত্র নয়, বরং প্রচলিত যৌন নৈতিকতার প্রথাগত মূল্যবোধের সঙ্গে ক্রমাগত লড়ে চলা মানুষও তারা। নাটকটিতে অভিনয় করছেন প্রশান্ত হালদার, রঞ্জন দে সাথী ও কাজী রোকসানা রুমা। সঙ্গীত পরিকল্পনায় অসিত কুমার, আলোক পরিকল্পনায় অম্লান বিশ্বাস, পোশাক পরিকল্পনায় রুনা কাঞ্চন, মঞ্চ পরিকল্পনায় সাকিল সিদ্ধার্থ। এটি আপস্টেজের প্রথম নাট্য প্রযোজনা।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) থেকে ঢাকায় শুরু হয়েছে দশ দিনব্যাপী গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব। রাজধানীর ছয়টি ভেন্যুতে চলছে উৎসব। এই আয়োজনে ভারতের ৪টি নাট্যদল, ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ৩৬টি নাট্যদলসহ আবৃত্তি, সঙ্গীত, নৃত্য, পথনাটকের মোট ১২১টি সংগঠন অংশ নিচ্ছে। মঞ্চস্থ হচ্ছে মঞ্চনাটক, পথনাটক, আবৃত্তি, সঙ্গীত, নৃত্য ও মূকাভিনয়। উন্মুক্ত মঞ্চের সাংস্কৃতিক পর্ব প্রতিদিন ৪টা ৩০ মিনিট থেকে ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এবং মঞ্চনাটক প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে। অষ্টমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ উৎসব চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেগুনবাগিচার জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন, পরীক্ষণ থিয়েটার হল, স্টুডিও থিয়েটার হল, সঙ্গীত আবৃত্তি ও নৃত্যকলা মিলনায়তন এবং বেইলি রোডের মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে। গঙ্গা যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবের আহবায়ক গোলাম কুদ্দুছ বলেন, গঙ্গা-যমুনা উৎসবটি এখন দেশের সর্ববৃহৎ একটি সাংস্কৃতিক উৎসব।

আগামী কয়েকদিনে প্রতিদিন কয়েক হাজার শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এখানে সমবেত হবেন নানা পরিবেশনা নিয়ে। এটি শিল্পীদের মধ্যে শিল্পভাবনার বিনিময়ে একটি উল্লেখযোগ্য ভ‚মিকা রাখবে। সেটা ভারত ও দেশের শিল্পীদের মধ্যেও। আর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংস্কৃতি অন্যতম হাতিয়ার। আমরা যত বেশি সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে যাব তত বেশি সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাব।