একমঞ্চে দুই বাংলার গান-কবিতার যুগলবন্দি

আগের সংবাদ

আবরার হত্যাকাণ্ডে সরকারের পতন দেখছে বিএনপি

পরের সংবাদ

গঙ্গা যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবে ভারতের ‘দায়বদ্ধ’

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১২, ২০১৯ , ৮:৩২ অপরাহ্ণ

গঙ্গা যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবের দ্বিতীয় দিন ছিল শনিবার। মঞ্চনাটক, পথনাটক, আবৃত্তি, নৃত্য, গানে এদিনই জমে উঠেছে পুরো উৎসবপ্রাঙ্গণ। এদিন ছিল ভারতের স্বনামধন্য নাট্যদল সায়কের বিখ্যাত নাটক ‘দায়বদ্ধ’ এর পরিবেশনা। এ নাটককে ঘিরে বাংলাদেশের নাট্যমোদীদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় নাটকটি। নাটকটি রচনা করেছেন চন্দন সেন, নির্দেশনা দিয়েছেন মেঘনাদ ভট্টাচার্য।

ঘর বাঁধার যে আবেগ একদিন মানুষকে পরিবার থেকে সমাজ গড়বার প্রেরণা দিয়েছিল তা হয়তো সময়ের দীর্ঘ অভিঘাতেই পরিণত হয়েছে সনাতন প্রথাশ্রয়িতায়। তাই মানব-মানবীর সম্পর্কের উত্তাপ কোথাও নিঃস্ব হয়ে এলেও দেখা যায় প্রথা দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যের পাহারাদার হয়ে।

অথচ আরো বড়ো কোনও আবেগ, প্রেম, প্রীতি কিংবা সহমর্মিতার উষ্ণতর কোনও অনুভূতি হয়তো এরই মধ্যে হৃদয়ের রক্তে বোঝাপড়ার নতুন ঠিকানা খুঁজছে। এই নতুন বোঝাপড়ার বোধটুকু সহজে সমাজের স্বীকৃতি পায় না। অনেক সিঁড়ি ভেঙে যারা শুধুমাত্র হৃদয়ের ডাকে সাড়া দিয়ে পারস্পরিক দায়বদ্ধতাকে মেনে নিতে চায়। তাদের বোধহয় আমরা সঠিকভাবে চিনে নিতে অথবা সহজভাবে মেনে নিতে পারি না।

এ নাটকের মুখ্য চরিত্র গগন ড্রাইভার কিংবা তার আশ্চর্য জীবনসঙ্গিনী সীতা অথবা তাদের সন্তান ঝিনুক ভয়ঙ্কর এক ভূকম্পের সামনে দাঁড়িয়ে এই দায়বদ্ধতার প্রশ্নটিই ছুঁড়ে দেয় নীতিনিষ্ট সমাজ ব্যবস্থার দিকে। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেঘনাদ ভট্টাচার্য, রুণা মুখার্জী, রিমিঝিম ঘোষ, প্রদীপ দাস, সমীরণ ভট্টাচার্য, পরিমল চক্রবর্তী, ভারতী দাস প্রমুখ।

এছাড়াও, এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নাটক নাট্যতীর্থ-এর নাটক ‘কঙ্কাল’। নাট্যরূপ দিয়েছেন রবিউল আলম, নির্দেশনায় ছিলেন তপন হাফিজ। স্টুডিও থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয় প্যান্টোমাইম মুভমেন্টের নাটক ‘প্রাচ্য’। সেলিম আল দীনের নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন রিজোয়ান রাজন।

এদিকে, বেইলি রোডের মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় থিয়েটার আর্ট ইউনিট-এর নাটক গোলাপজান। এর রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন এসএম সোলায়মান। শনিবার (১২ অক্টোবর) উৎসবের দ্বিতীয় দিন থেকে জাতীয় সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা একাডেমির মঞ্চে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য কবি ড. মুহাম্মদ সামাদ। অতিথি ছিলেন গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি শিল্পী ফকির আলমগীর, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবৃত্তিশিল্পী আহকাম উল্লাহ, নাট্যজন মীর জাহিদ হাসান। সভাপতিত্ব করেন রফিকুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ফকির সিরাজ। উদ্বোধন শেষে দর্শনীর বিনিময় ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর সঙ্গীতানুষ্ঠান সখিনার সংগ্রাম ও স্পন্দন-এর নৃত্যানুষ্ঠান জন্মেছি এই দেশে পরিবেশিত হয়।

এদিন শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল সাড়ে চারটা থেকে। এ মঞ্চে পথনাটক পরিবেশন করে উৎস নাট্যদল। দলীয় আবৃত্তিতে অংশ নেয় মুক্তধারা সংস্কৃত চর্চা কেন্দ্র। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে স্বভূমি। আর দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যাক্ষ। শিশু কিশোর পরিবেশনা নিয়ে এসেছিল আমরা কুঁড়ি ও ভিন্নধারা শিশু কিশোর মেলার শিল্পীরা।